জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬: পেনশন পুনর্নির্ধারণ ও বৃদ্ধির নিয়ম জানুন
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি পেনশনভোগী, পারিবারিক পেনশনভোগী এবং শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের পেনশন পুনর্নির্ধারণ ও বৃদ্ধির নিয়ম নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, পেনশনের পরিমাণ নির্ধারণ, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং বর্ধিত পেনশনের সুবিধা পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্য নিট পেনশনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হারে পেনশন বৃদ্ধি হিসাব করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন পেনশনের সীমা এবং পরবর্তী সময়ে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এসআরও নং-৩৪৮ আইন/২০২৬ এবং জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর ৭(খ) অনুচ্ছেদে পেনশন বৃদ্ধির হার নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পেনশনের আগের পরিমাণের ভিত্তিতে বিভিন্ন হারে বৃদ্ধি হিসাব করা হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কারও নিট পেনশন ৪ হাজার ২১৩ টাকা হলে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাবে তা আরও ৪ হাজার ২১৩ টাকা বাড়বে। তবে সর্বনিম্ন পেনশনের নির্ধারিত সীমা প্রযোজ্য হলে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে তাঁর নিট পেনশন ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।
এটি একটি উদাহরণমাত্র। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের মূল নির্দেশনা যাচাই না করে এই হিসাবকে সবার জন্য প্রযোজ্য চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে ধরা উচিত নয়।
প্রদত্ত বিবরণে পেনশনের সঙ্গে বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে।
উদাহরণ অনুযায়ী:
- ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ১০ হাজার টাকার ওপর ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট হলে বাড়বে ৫০০ টাকা।
- ১ জুলাই ২০২৭ তারিখে ১০ হাজার ৫০০ টাকার ওপর ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট হিসাব করা হলে বাড়বে ৫২৫ টাকা।
তবে পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে এই ইনক্রিমেন্টের নিয়ম, প্রযোজ্যতা ও হিসাবের ভিত্তি মূল প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ধাপে ধাপে বর্ধিত পেনশন পাওয়ার নিয়ম
প্রদত্ত তথ্যে বর্ধিত পেনশনের সুবিধা পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে তিনটি সময়সীমার উল্লেখ রয়েছে:
- ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬: বর্ধিত পেনশনের পার্থক্যের ৫০ শতাংশ সুবিধা।
- ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭: বর্ধিত পেনশনের পার্থক্যের ৭৫ শতাংশ সুবিধা।
- ১ জুলাই ২০২৭ থেকে: বর্ধিত পেনশনের পার্থক্যের সম্পূর্ণ ১০০ শতাংশ সুবিধা।
তবে এই সময়সীমা ও হার সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের ১(ঙ), ১(চ) ও ১(ছ) অনুচ্ছেদে কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে, তা মূল নথি দেখে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রদত্ত বিবরণে ৭(খ) অনুচ্ছেদের বরাতে পেনশনের বিভিন্ন স্তরের জন্য নিচের বৃদ্ধির হার উল্লেখ করা হয়েছে:
| আগের নিট পেনশন | উল্লেখিত বৃদ্ধির হার |
|---|---|
| ৯,০০০ টাকা পর্যন্ত | ১০০% |
| ৯,০০১ থেকে ২০,০০০ টাকা | ৭৫% |
| ২০,০০১ থেকে ৩০,০০০ টাকা | ৬৫% |
| ৩০,০০১ থেকে ৪০,০০০ টাকা | ৬০% |
| ৪০,০০১ টাকা ও তার বেশি | ৫৫% |
মূল লেখায় প্রতিটি স্তরের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পেনশনের সীমা উল্লেখ করা হলেও কয়েকটি অঙ্কে অসংগতি রয়েছে। তাই সেগুলো এখানে নিশ্চিত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রকাশের আগে মূল প্রজ্ঞাপন থেকে সঠিক সীমা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী পেনশন পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগের নিট পেনশন, প্রযোজ্য বৃদ্ধির হার, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা এবং ইনক্রিমেন্টের নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বর্ধিত পেনশনের সুবিধা একবারে নাকি পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।

তাই সরকারি পেনশনভোগী, পারিবারিক পেনশনভোগী ও শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের নিজেদের পেনশনের নতুন হিসাব জানার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং পেনশন নির্ধারণকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
সোহাগ/
