এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেলের গেজেট কবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে পৃথক গেজেট জারির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করলেও গেজেট জারির প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক পে-স্কেল জারি করতে হলে প্রথমে তিনটি অধিদপ্তরের অধীন কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের হিসাব করতে হবে। এরপর সেই হিসাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এটি পৃথক পে-স্কেল গেজেট জারির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়েও পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব হতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের লিখিত সম্মতি প্রয়োজন হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতির চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পৃথক প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে এখনো উচ্চপর্যায় থেকে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে পৃথক প্রজ্ঞাপন কীভাবে এবং কখন জারি হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
নতুন পে-স্কেলে নিজের বেতন যেভাবে হিসাব করবেন
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কর্মচারীর মূল বেতন, সংশ্লিষ্ট গ্রেড এবং নতুন বেতন কাঠামোয় ওই গ্রেডের নির্ধারিত বেতনক্রম।
নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে বেতন নির্ধারণের জন্য মূলত দুটি পদ্ধতি রাখা হয়েছে। পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে হিসাব তুলনামূলক সহজ। আর যারা প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন স্কেলের মধ্যে পার্থক্য সমন্বয় করে নতুন বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে থাকলে
কোনো কর্মচারী ৩০ জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে মূল বেতন পেলে নতুন স্কেলেও সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে তার বেতন নির্ধারণ করা হবে।
উদাহরণ হিসেবে, ১৬তম গ্রেডের কোনো কর্মচারী যদি পুরোনো ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ অর্থাৎ ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে নতুন স্কেলে তাঁর বেতন হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।
কারণ জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী ১৬তম গ্রেডের নতুন বেতনক্রম ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।
অর্থাৎ পুরোনো স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপে থাকা কর্মচারী নতুন স্কেলেও সংশ্লিষ্ট গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপে বেতন পাবেন।
পুরোনো স্কেলের মাঝামাঝি ধাপে থাকলে
কোনো কর্মচারীর ৩০ জুনের মূল বেতন যদি পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে প্রথমে পুরোনো স্কেলের শুরু এবং বর্তমান মূল বেতনের মধ্যে পার্থক্য বের করতে হবে।
এরপর ওই পার্থক্য নতুন বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে। হিসাবের পর পাওয়া অঙ্কটি নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে মিলে গেলে সেই ধাপেই নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে।
আর হিসাবের অঙ্কটি যদি নির্ধারিত কোনো ধাপের সঙ্গে না মেলে, তাহলে তার পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
একটি উদাহরণে বিষয়টি সহজভাবে দেখা যাক
ধরা যাক, ৩০ জুন একজন কর্মচারীর ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন ছিল ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা। তাঁর পুরোনো বেতন স্কেল শুরু হয়েছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে।
প্রথমে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন থেকে বর্তমান মূল বেতনের পার্থক্য বের করতে হবে।
১৩,৭৯০ - ১২,৫০০ = ১,২৯০ টাকা
অর্থাৎ পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে তাঁর বর্তমান মূল বেতন ১ হাজার ২৯০ টাকা বেশি।
এবার নতুন বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন ২৫ হাজার টাকার সঙ্গে এই ১ হাজার ২৯০ টাকা যোগ করতে হবে।
২৫,০০০ + ১,২৯০ = ২৬,২৯০ টাকা
কিন্তু নতুন বেতন স্কেলে ২৬ হাজার ২৯০ টাকা কোনো নির্ধারিত ধাপ নয়। তাই সরাসরি ২৬ হাজার ২৯০ টাকা বেতন নির্ধারণ করা হবে না। এর পরবর্তী উচ্চতর নির্ধারিত ধাপ নিতে হবে।
সে অনুযায়ী ওই কর্মচারীর নতুন মূল বেতন হবে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা।
নিজের নতুন বেতন জানতে যা লাগবে
নিজের নতুন মূল বেতন হিসাব করতে একজন চাকরিজীবীকে প্রথমে তিনটি তথ্য জানতে হবে।
১. ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে তাঁর মূল বেতন কত ছিল।
২. তিনি কোন গ্রেডে কর্মরত ছিলেন।
৩. জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী ওই গ্রেডের নতুন বেতনক্রম কত।
এরপর দেখতে হবে তিনি পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে ছিলেন কি না। প্রারম্ভিক ধাপে থাকলে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনই হবে নতুন মূল বেতন।
আর প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পেলে পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে বর্তমান মূল বেতনের পার্থক্য বের করে তা নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে। পাওয়া অঙ্কটি কোনো নির্ধারিত ধাপে না থাকলে তার পরবর্তী উচ্চতর ধাপ অনুযায়ী নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
সিদ্দিকা/
