একই পরিবারের ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার, ফোনে যা বললেন অভিযুক্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক নারী, তার তিন সন্তান ও এক ভাই। ঘটনার পর থেকে নিহত নারীর স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।
শনিবার সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বহুতল ভবনের নিচতলা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সিআইডি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট তদন্ত শুরু করেছে।
নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার, তাদের তিন মেয়ে মীম খানম, উম্মে হাবিবা ও ফারিয়া, এবং শারমিনের ভাই রসুল মিয়া।
স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর ফোরকান মিয়া ফোনে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। নিহত শারমিনের ফুফু ইভা আক্তার জানান, এক আত্মীয়কে ফোন করে ফোরকান বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে, সবাইকে মেরে ফেলেছি।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ ছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি লিখিত অভিযোগের কপিও উদ্ধার করেছে। সেখানে পারিবারিক বিরোধ, অর্থনৈতিক লেনদেন এবং দাম্পত্য সমস্যার বিষয় উল্লেখ ছিল বলে জানা গেছে। তবে কাগজটিতে কোনো স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এদিকে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পলাতক ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
সোহাগ/
