সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে কারা এগিয়ে, বিজেপি নাকি তৃণমূল
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা ফলাফল ঘোষণার। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা, যেখানে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে টেক্কা দিয়ে বিজেপির সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথাও উঠে আসছে।
এবারের নির্বাচনে মোট কয়েক দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ছয় কোটিরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কিছু আসনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় নির্দিষ্ট এলাকায় পুনঃভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি আসনের ফল একযোগে ঘোষণা করা হবে নির্ধারিত দিনে।
ভোট গণনা শুরু হবে সকাল থেকেই। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট এবং পরে ইভিএমের ভোট গণনা করা হবে। ইভিএম ব্যবহারের কারণে দ্রুত ফলাফল প্রকাশের আশা করা হচ্ছে। দুপুরের মধ্যেই প্রাথমিক চিত্র স্পষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের পর প্রকাশিত একাধিক বুথফেরত জরিপে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। এসব জরিপে দাবি করা হয়েছে, এবার প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে এই পূর্বাভাসকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার মতে, এসব জরিপ বাস্তবতার প্রতিফলন নয়, বরং বিভ্রান্তিকর।
তিনি আরও দাবি করেন, আগের মতো এবারও তৃণমূল কংগ্রেসই সরকার গঠন করবে এবং জনগণ তাদের পক্ষেই রায় দেবে।
এদিকে এই নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের ওপরও কিছু প্রভাব পড়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশ্লেষকরা। সীমান্ত, বাণিজ্য, অভিবাসন এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তন আঞ্চলিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসন ইস্যু এবং ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে এবার ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এখন সবার নজর ফলাফলের দিকে। শেষ পর্যন্ত জরিপের পূর্বাভাস সত্যি হয়, নাকি তৃণমূল আবারও ক্ষমতায় টিকে থাকে, সেটাই দেখার বিষয়।
সোহাগ/
