| ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

আবার মানুষকে চাঁদে পাঠানোর আগে ৩ রকেটে পরীক্ষা চালাবে নাসা

বিশ্ব ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ২২:৫২:২৭
আবার মানুষকে চাঁদে পাঠানোর আগে ৩ রকেটে পরীক্ষা চালাবে নাসা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন পর আবার চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। তবে এবার সরাসরি চাঁদে অবতরণের আগে পৃথিবীর কক্ষপথেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চালানো হবে। এ জন্য তিনটি আলাদা রকেটে তিনটি মহাকাশযান উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি।

নাসার নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে আর্টেমিস থ্রি মিশনের মাধ্যমে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে নভোচারী ও বাণিজ্যিকভাবে তৈরি চন্দ্রযানের প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষ নামানোর আগে মহাকাশযানগুলোর পারস্পরিক সংযোগ, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা।

নাসার ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্সের তৈরি চন্দ্রযানের পরীক্ষামূলক সংস্করণের সঙ্গে অরিয়ন মহাকাশযানের সংযোগ ও পরিচালনাপদ্ধতি যাচাই করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালে আর্টেমিস ফোর মিশনের মাধ্যমে আবার চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে। সূত্র: নাসা

তিনটি রকেটে কী পরীক্ষা করবে নাসা?

আর্টেমিস থ্রি হবে একাধিক উৎক্ষেপণ ও মহাকাশযানের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি জটিল পরীক্ষা অভিযান। এতে নাসার নিজস্ব রকেটের পাশাপাশি বেসরকারি মহাকাশ কোম্পানি ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্সের প্রযুক্তিও কাজে লাগানো হবে।

প্রথম ধাপে ব্লু অরিজিনের ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের মাধ্যমে ‘ব্লু মুন মার্ক ২’ চন্দ্রযানের একটি পরীক্ষামূলক সংস্করণ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর নাসার ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ বা এসএলএস রকেটে নভোচারীদের নিয়ে ‘অরিয়ন’ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হবে।

পরবর্তী ধাপে স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’ ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক যানকে অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এভাবে তিনটি পৃথক রকেটের মাধ্যমে মহাকাশযানগুলোকে কক্ষপথে পাঠিয়ে তাদের মধ্যে সমন্বয় ও সংযোগের সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

তবে উৎক্ষেপণের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও প্রতিটি ধাপের চূড়ান্ত সময়সূচি সম্পর্কে নাসার হালনাগাদ ঘোষণাই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

আর্টেমিস থ্রিতে থাকবেন যেসব নভোচারী

নাসার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের জন্য চারজন নভোচারীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁরা হলেন র‍্যান্ডি ব্রেসনিক, ফ্র্যাঙ্ক রুবিও, আন্দ্রে ডগলাস এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার নভোচারী লুকা পারমিতানো।

নভোচারীরা অরিয়ন মহাকাশযানে করে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে যাবেন। সেখানে বিভিন্ন ব্যবস্থা পরীক্ষা করার পাশাপাশি বাণিজ্যিক চন্দ্রযানের সঙ্গে মহাকাশযানটির সংযোগ ও বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া অনুশীলন করবেন।

এই পরীক্ষাগুলো ভবিষ্যতে চাঁদের কক্ষপথে বা চন্দ্রপৃষ্ঠে অভিযান পরিচালনার সময় নভোচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

অরিয়ন ও চন্দ্রযানের মধ্যে হবে ডকিং পরীক্ষা

মিশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ডকিং বা মহাকাশে দুটি যানকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা। পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশযান দুটির অবস্থান, গতি ও দিক নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদে সংযুক্ত করার পদ্ধতি পরীক্ষা করা হবে।

এ ছাড়া সংযুক্ত অবস্থায় মহাকাশযানগুলোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, যোগাযোগ, সফটওয়্যার এবং অন্যান্য সমন্বিত প্রযুক্তি কতটা কার্যকরভাবে কাজ করে, তা পর্যবেক্ষণ করবেন নভোচারী ও মাটিতে থাকা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা।

ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্সের চন্দ্রযানের নকশা ও পরিচালনাপদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে। তাই একই অভিযানে একাধিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থার সঙ্গে অরিয়নের সামঞ্জস্য যাচাই করতে পারলে ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের প্রস্তুতি আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

কেন চাঁদে নামার আগেই এত পরীক্ষা?

চাঁদে মানুষ পাঠানো অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান। মহাকাশযানের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ না করলে নভোচারীদের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে। বিশেষ করে চন্দ্রযানের সঙ্গে সংযোগ, যোগাযোগ, জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা ও যান নিয়ন্ত্রণের মতো প্রযুক্তি নির্ভরযোগ্য হওয়া জরুরি।

পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে এসব পরীক্ষা চালালে চাঁদের দূরবর্তী পরিবেশে যাওয়ার আগেই সম্ভাব্য ত্রুটি শনাক্ত করা যায়। একই সঙ্গে নভোচারী ও মিশন নিয়ন্ত্রণ দলের বাস্তব অভিজ্ঞতা বাড়ে।

আর্টেমিস থ্রি অভিযানে নভোচারীদের জন্য তৈরি নতুন স্পেসস্যুট এবং অরিয়নের বিভিন্ন ব্যবস্থাও মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে। এসব পরীক্ষার ফল পরবর্তী চন্দ্রাভিযানের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কবে আবার চাঁদে নামবেন মানুষ?

নাসার সংশোধিত পরিকল্পনায় আর্টেমিস থ্রি সরাসরি চাঁদে মানুষ নামানোর অভিযান নয়। এটি মূলত পৃথিবীর কক্ষপথে প্রযুক্তি ও পরিচালনাপদ্ধতি যাচাইয়ের মিশন, যা ২০২৭ সালে পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৮ সালে আর্টেমিস ফোর মিশনের মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে নাসা। ওই অভিযানে অরিয়ন মহাকাশযান থেকে নভোচারীরা একটি বাণিজ্যিক চন্দ্রযানে স্থানান্তরিত হয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে নামবেন।

চন্দ্রযানের প্রস্তুতি, পরীক্ষার ফল এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ওপর ভবিষ্যৎ সময়সূচি নির্ভর করবে। ফলে নির্ধারিত বছর লক্ষ্য হিসেবে থাকলেও উৎক্ষেপণ ও অবতরণের চূড়ান্ত তারিখ সম্পর্কে নাসার পরবর্তী ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।

১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ অভিযানের পর মানুষের চাঁদে ফেরার লক্ষ্য বাস্তবায়নে আর্টেমিস কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আর্টেমিস থ্রির পরীক্ষা সফল হলে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরবর্তী ধাপের জন্য প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হতে পারে।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

বিগ ব্যাশে দল পাচ্ছেন মুস্তাফিজ, খেলবেন যে দলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন খবর সামনে এসেছে। ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন রোমেরো

ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন রোমেরো

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব সরাসরি নাকচ করে ...

ব্যালন ডি’অর জিতে কত টাকা পান হ্যারি কেইন

ব্যালন ডি’অর জিতে কত টাকা পান হ্যারি কেইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যালন ডি’অর ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার। এই ট্রফি জেতা মানে শুধু মাঠের ...