বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সব সার কারখানা
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করায় একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত বড় বড় সার কারখানা। উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে চট্টগ্রামের সিইউএফএল ও কাফকো, সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বোরো মৌসুমের এই সময়ে ইউরিয়া সারের প্রধান উৎসগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধান ও ভুট্টা চাষের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছেন দেশের কৃষকরা।
কারখানাভিত্তিক পরিস্থিতির বিস্তারিত:
চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী:
গ্যাসের অভাবে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিপাকে পড়েছে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অ্যামোনিয়া সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এই কারখানার উৎপাদনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
সিলেট (ফেঞ্চুগঞ্জ):
দেশের অন্যতম আধুনিক সার কারখানা শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি (এসএফসিএল) এক মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা এবং এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় সরকার গ্যাস রেশনিং নীতি গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় শিল্প খাতে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। মে মাসের আগে এখানে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া (আশুগঞ্জ):
আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সার উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ, আর মাসে সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১৬৫ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন অচল থাকায় কারখানার মূল্যবান যন্ত্রপাতিও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, আমদানিকারকদের সুবিধা দিতেই একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে কারখানাটি বন্ধ রাখছে।
জামালপুর (যমুনা সার কারখানা):
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে যমুনা সার কারখানার উৎপাদন। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় প্রতিদিন ১ হাজার ৭০০ টন দানাদার ইউরিয়া উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে কারখানার দিনমজুররা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সুখবর নরসিংদীর পলাশে:
বাকি কারখানাগুলো বন্ধ থাকলেও দীর্ঘ ২৭ দিন পর উৎপাদন শুরু হয়েছে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানায় (পিএলসি)। গত সোমবার থেকে এই কারখানায় পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে তিতাস গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপরই এর স্থায়িত্ব নির্ভর করছে।
প্রভাব ও ঝুঁকি:
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সার উৎপাদন এভাবে ব্যাহত হলে কৃষকরা সময়মতো সার পাবেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর। সারের ঘাটতি মেটাতে উচ্চমূল্যে বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে হলে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে কারখানাগুলো সচল করার দাবি জানিয়েছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজনরা।
সিদ্দিকা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন কৌশল, ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা
- শনিবার টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য নতুন পে-স্কেলে বাড়ছে বিশেষ সুবিধা
- কোথায় বৃষ্টি আর কোথায় থাকবে তাপপ্রবাহ জানাল আবহাওয়া অফিস
- সাগরে লঘুচাপ; বৃষ্টি ও তাপপ্রবাহ নিয়ে নতুন আপডেট
- শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে কোন বাধা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- সীমান্তে ভারতীদের লক্ষ্য করে বিজিবির গুলি
- ১২ স্ত্রী, ১০২ সন্তান, ৫৭৮ নাতি-নাতনি! তার সংসার ছোট্ট এক গ্রাম
- দেশের বাজারে আজকের সোনার দাম
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৩ মে ২০২৬
- নতুন পে-স্কেলে যত বাড়তে পারে শিক্ষকদের বেতন
- বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন বার্তা
- ঈদের আগে আদার দামে ঝাঁজ, স্বস্তিতে পেঁয়াজ-রসুন ও মসলার বাজার
- জাঙ্গিয়া নিয়ে সতর্ক না হলে হারাতে পারেন পুরুষত্ব!
- নতুন পে-স্কেলে কার লাভ কত, প্রাথমিক শিক্ষকরা কি পাচ্ছেন বড় সুখবর
