ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ কী
নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু হলেও তা শর্ত আর পাল্টা শর্তের বেড়াজালে আটকে আছে। ওয়াশিংটন চাইছে হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত রাখতে। অন্যদিকে, ইরান দাবি করছে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে এই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে প্রবল সংশয়।
শর্তের সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক মারপ্যাঁচ:
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের দেওয়া ১০ দফা শর্ত ওয়াশিংটনের জন্য মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চরম অস্বস্তিকর। কারণ এটি কেবল সামরিক বিষয় নয়, বরং এই অঞ্চল থেকে কয়েক দশকের ভূরাজনৈতিক প্রভাব হারানোর ঝুঁকি। একইভাবে ইরানকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও বর্তমান বাস্তবতায় অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ:
আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই ইস্যুতে কোনো ছাড় দেয়, তবে তা হবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান রুটে ইরানের একক আধিপত্য স্বীকার করে নেওয়া। যা আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি:
রাজনৈতিক বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং-এর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বর্তমানে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংকটে ব্যস্ত থাকে, তবে ইরান সেই সুযোগে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইবে। অন্যদিকে, ডেভিড বেকারসহ অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, উভয় পক্ষের চরমপন্থী অবস্থান আলোচনাকে দীর্ঘমেয়াদী জটিলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তবে আংশিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা ধাপে ধাপে সমঝোতার মাধ্যমে একটি প্রাথমিক পথ তৈরির সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা ও ইসলামাবাদের গুরুত্ব:
এই অচলাবস্থা ভাঙতে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে আলোচনার কেন্দ্র হিসেবে পাকিস্তানের ইসলামাবাদকে বেছে নেওয়া হয়েছে একটি ‘নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে। যেহেতু পাকিস্তানের সঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয় পক্ষেরই কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই তারা মধ্যস্থতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
যুদ্ধবিরতির পথে সবচেয়ে বড় পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে পারস্পরিক চরম অবিশ্বাস। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং একের পর এক চুক্তি ভঙ্গের ঘটনা দুই পক্ষকেই অতিরিক্ত সতর্ক করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, বরং কেবল একটি শর্তসাপেক্ষ ও সীমিত সময়ের যুদ্ধবিরতি সম্ভব হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজন গভীর কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ৯ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা
- ৬ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা
- নতুন পে-স্কেল নিয়ে জট খুলছে: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সুখবর
- পে স্কেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বড় সুখবর
- ৯ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা; যারা পাবেন যারা পাবেন না
- আজকের সোনার বাজারদর: ৮ এপ্রিল ২০২৬
- আজ ৯ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা
- সরকারি চাকরিজীবীদের ‘সপ্তাহে তিন দিন ছুটি’ যা জানাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
- খুলছে পে-স্কেল জট: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
- বাংলাদেশে ঈদুল আজহা কবে? জেনে নিন সম্ভাব্য তারিখ ও ছুটির খবর
- ২০২৬ সালের ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানালেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা
- বৃহস্পতিবার সারাদিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের নতুন কৌশল
- আজকের সোনার বাজারদর: ৯ এপ্রিল ২০২৬
- এবার অকটেন নিয়ে বড় সুখবর
