পে স্কেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বড় সুখবর
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করেছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যে প্রশাসনিক জটিলতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকারের নতুন উদ্যোগে এখন তার একটি স্থায়ী ও যৌক্তিক সমাধানের পথ প্রশস্ত হচ্ছে।
গত ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ডক্টর রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রশাসনিক ধাপগুলো বর্তমানে সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং সরকার এ ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক ও ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবিত রূপরেখা:
সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন ইতিমধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। কমিশনের সেই প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো হলো:
* সর্বনিম্ন ধাপের মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২০,০০০ টাকা করা।
* সর্বোচ্চ ধাপের মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৬০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা:
অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি এই প্রস্তাবগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছে। এই কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সকল প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিবে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই সরকার পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করবে।
উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনের ফলে রাজপথে কিছুটা উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শুরু করায় সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জীবনযাত্রার বর্তমান ব্যয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে একটি টেকসই ও বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো উপহার দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।
সিদ্দিকা/
