পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও গেজেট প্রকাশের দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান সরকারি কর্মচারীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি পে-কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। রোববার (২৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও দীর্ঘ সময় ধরে তাদের ন্যায্য দাবিগুলো অপূর্ণ রয়ে গেছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন না আসায় নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়া পদোন্নতি বঞ্চনা ও ব্লক পোস্ট সমস্যার কারণে কর্মীদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে।
আবেদনে জানানো হয়, গত ১১ বছরে নিয়ম অনুযায়ী দুটি পে-স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। এই সংকট নিরসনে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে চায় সংগঠনটি।
সরকারি কর্মচারীদের উত্থাপিত ১০ দফা দাবিগুলো হলো:
১. অবিলম্বে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা।
২. সার্ভিস বেনিফিটসহ টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনরায় চালু করা।
৩. ব্লক পোস্ট সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে পদোন্নতির পথ সুগম করা।
৪. কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. কর্মচারীদের দক্ষতা ও মানসিক কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
৬. পোস্টিং ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সব বাধা দূর করা।
৭. সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত ও কার্যকর সমন্বিত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু।
৮. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনন্দিন জীবন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৯. নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি।
১০. স্থানান্তর ও পোস্টিং নীতিতে স্বচ্ছতা আনা।
সংগঠনটির মতে, কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনের দক্ষতা ও মনোবল আরও বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সেবার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
আশা/
