আয়শা সিদ্দিকা
সিনিয়র রিপোর্টার
ভারতে খেলতে যাবে না বাংলাদেশ; এখন কি হবে
জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন বিসিবি: ভারত সফর নিয়ে অচলাবস্থা কাটছেই না
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে আইপিএল কর্তৃপক্ষের ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ আচরণ, অন্যদিকে ভারতীয় উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতা—সব মিলিয়ে জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে ভারত সফরে না যাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও বিসিবির কঠোর অবস্থান
সম্প্রতি আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। এর প্রেক্ষিতে সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহল ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বিসিবির এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিসিবি স্পষ্ট জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত বাংলাদেশিদের জন্য কোনো নিরাপদ দেশ নয়। কেবল ক্রিকেটাররা নন, সেখানে সমর্থক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তাও চরম ঝুঁকির মুখে।
আইসিসিকে বিসিবির পাল্টা চিঠি
বিসিবির অনাগ্রহের প্রেক্ষিতে আইসিসি ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছে। তবে আইসিসি এখন পর্যন্ত ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে একমত হয়নি। এর জবাবে বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিসিবি পুনরায় আইসিসিকে একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ মেইল করবে। সেখানে নির্দিষ্ট করে বলা হবে কেন বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারতে বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশের জন্য অনিরাপদ। ১৯০৯ বা ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে বিসিবি মনে করিয়ে দিয়েছে যে, নিরাপত্তা ইস্যুতে দলগুলোর সফর বাতিল করার নজির ক্রিকেট বিশ্বে নতুন নয়।
ভারতীয় মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা ও বাস্তবতা
আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর বিতর্কিত ভূমিকা। সম্প্রতি ভারতীয় বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য ‘আলটিমেটাম’ দিয়েছে। বিসিবি সভাপতি এই খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। জুলাই বিপ্লবের পর থেকেই ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশ বিরোধী যে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, এটি তারই অংশ বলে মনে করছে বিসিবি।
বিশ্বকাপ বর্জন করলে সম্ভাব্য ফলাফল
যদি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারতে না যায় এবং আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন না করে, তবে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে দেশের ক্রিকেট:
* আর্থিক ক্ষতি: আইসিসি থেকে প্রাপ্ত অংশগ্রহণ ফি এবং সম্প্রচার স্বত্বের একটি বড় অংশ হারাবে বিসিবি।
* পয়েন্ট হারানো: প্রতিপক্ষ দলগুলোকে ‘ওয়াকওভার’ দেওয়া হবে, অর্থাৎ না খেলেই তারা জয়ী ঘোষিত হবে।
* দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারত ভেটো দিতে পারে এবং রেভিনিউ শেয়ারিংয়েও প্রভাব পড়তে পারে।
কঠোর সিদ্ধান্ত: আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ
জাতীয় অবমাননার প্রতিবাদে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে। কেবল অপারেটরদের সংগঠন কোয়াপ (COAB) জানিয়েছে, এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হলেও দেশের সম্মানের প্রশ্নে তারা এই ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি।
ক্রীড়া উপদেষ্টার মতে, "জাতির অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।" ফলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকলেও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও জাতীয় সম্মানের প্রশ্নে বিসিবি ও সরকার বর্তমানে একক সিদ্ধান্তে অটল। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি বাংলাদেশের এই যৌক্তিক উদ্বেগকে কতটা গুরুত্ব দেয়।
আয়শা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- নতুন পে স্কেল নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত: চূড়ান্ত হচ্ছে কাঠামো
- নতুন পে স্কেলের আগে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বড় সুখবর
- নতুন পে স্কেল ঝুলে থাকলেও মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন কর্মচারীরা
- নবম পে স্কেলের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা চূড়ান্ত: জানুন বিস্তারিত তথ্য
- আজকের সোনার বাজারদর: ১২ জানুয়ারি ২০২৬
- পে স্কেলে স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো নিয়ে যা জানা গেল
- নবম পে স্কেল চূড়ান্ত: সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত বাড়ল
- এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচী ঘোষণা
- নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপির যেসব বিদ্রোহী নেতা
- যার নির্দেশে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মির্জা ফখরুলের উপর হামলা হয়
- জানুয়ারিতেই পে স্কেলের দাবি: ১৬ জানুয়ারি অনশনের ডাক সরকারি কর্মচারীদের
- পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানালেন অর্থ উপদেষ্টা
- পে স্কেলে ১:৮ অনুপাতে বেতন নির্ধারণ: চূড়ান্ত ঘোষণা ২১ জানুয়ারি
- শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে: যেসব জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা যে দিন; যেভাবে দেখবেন
