‘পুতুল’ থেকে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী হলেন খালেদা জিয়া
পুতুল থেকে দেশনেত্রী: বেগম খালেদা জিয়ার শৈশব ও বেড়ে ওঠার গল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেমন আলোচিত ছিলেন, ঠিক তেমনি তাঁর শৈশব এবং ব্যক্তিজীবনও ছিল বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময়। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ লগ্নে দিনাজপুরের এক ছায়াঘেরা পরিবেশে তাঁর জন্ম। শৈশবের সেই শান্ত মেয়েটিই পরবর্তী সময়ে হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।
শৈশবের নাম ও ডাকনাম
বেগম জিয়ার জন্মের পর পরিবারের ডাক্তার অবনী গোস্বামী নাম রেখেছিলেন শান্তি। যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝে জন্ম নেওয়া এই শিশুটি শান্তির বার্তা নিয়ে আসবে বলেই ছিল তাঁর বিশ্বাস। তবে শিশুটি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর ও পুতুলের মতো কমনীয় হওয়ায় বড় বোন সালিমা আক্তার বিউটি তাঁকে পুতুল নামে ডাকতেন। পরবর্তী সময়ে পরিবারের কাছে তিনি এই নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন। তাঁর বাবা এস্কান্দার মজুমদারও এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, সবার আদরের হওয়ার কারণে তাঁকে পুতুল বলা হতো। এছাড়া তাঁর মেজ বোন খুরশিদ জাহান চকলেট তাঁকে আদর করে টিপসি বলেও ডাকতেন। বাবা-মায়ের রাখা পোশাকি নাম ছিল খালেদা খানম, যা বিয়ের পর বেগম খালেদা জিয়া হিসেবে পরিচিতি পায়।
শিক্ষা ও চঞ্চল শৈশব
বেগম খালেদা জিয়ার শৈশব কেটেছে দিনাজপুরে। পাঁচ বছর বয়সে তিনি সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট স্কুলে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি খেলাধুলা, নাচ ও গানে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৬৩ সালে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। শৈশবে লম্বা চুল শুকানো ছিল তাঁর জন্য এক বড় যুদ্ধ। মা তৈয়বা মজুমদার আদর করে তাঁর চুল বেঁধে দিতেন। আরবি শিক্ষার জন্য বাড়িতে গৃহশিক্ষক থাকলেও বাবার অগোচরে বোনদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে যেতেও ভুলতেন না তিনি।
পছন্দ-অপছন্দ ও শৌখিনতা
খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অত্যন্ত শৌখিন ও গোছানো। ছোটবেলায় তিনি ছিলেন বেশ হালকা-পাতলা গড়নের। মা তৈয়বা মজুমদারের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, ছোটবেলায় তিনি মাছ খেতে একদম পছন্দ করতেন না, তাঁর প্রিয় ছিল মাংস। সবজির মধ্যে আলু আর ঢ্যাঁড়শ ছিল পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। চকলেটের প্রতি তাঁর আজীবন এক ধরনের দুর্বলতা ছিল। ঘর গোছানো এবং ছোট ভাইদের দেখাশোনা করার প্রতিও তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
শিল্পচর্চা ও পুরস্কার
শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল ছোটবেলা থেকেই। তিনি নিয়মিত নাচ শিখতেন এবং দিনাজপুরের বাইরেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে পুরস্কার জিতেছিলেন। পরিবারের তিন বোনের মধ্যে রাঁধুনি হিসেবেও তিনি ছিলেন সেরা। পুতুল নামের সেই ছোট্ট মেয়েটি শিল্প, শিক্ষা আর পারিবারিক মায়ার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠে পরবর্তী জীবনে এ দেশের রাজনীতিতে এক আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১১ আগস্ট ২০২৬
- আজ দেশের বাজারে ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীদের খাওয়া ও করণীয় নিয়ে ইসলামি নির্দশনা
- ১২ আগস্ট দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ১১ আগস্ট ২০২৬
- এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন শুরু আজ, জানুন নিয়ম
- একাদশে ভর্তি ফি কত, কোন কলেজে খরচ কেমন? জেনে নিন
- বাজেট থেকে ফোল্ডেবল, ২০২৬-এর সেরা ৫ Motorola ফোন
- আলোচনায় Yamaha XSR 155, কী আছে নতুন এই বাইকে
- Redmi Note 17 রিভিউ: ব্যাটারিতে দুর্দান্ত, পারফরম্যান্সে পিছিয়ে
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১২ আগস্ট ২০২৬
- ৭,৫০০mAh ব্যাটারি নিয়ে বাজারে Redmi 17 5G ও 4G
- ১২ আগস্ট বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব অঞ্চল থেকে
- বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, টানা ৫ দিন ভারী বৃষ্টির আভাস
- দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
