ভূমিকম্পের রেড জোন: সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে দেশের যে ৯ জেলা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি অনুভূত হওয়া ভূকম্পনের পর সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কর্তৃক প্রকাশিত সংবেদনশীলতার মানচিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই মানচিত্রে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকাগুলোকে বিপদ-মাত্রা অনুযায়ী তিনটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণি বা ‘জোন-১’ (রেড জোন) হলো দেশের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল।
সক্রিয় ভূ-আন্দোলন রেখা (ফল্ট লাইন) এবং প্লেট সীমানার কাছাকাছি অবস্থানের কারণেই এই অঞ্চলগুলো সর্বোচ্চ কম্পনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
জোন-১ বা রেড জোনে থাকা ৯ জেলার তালিকা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত সংবেদনশীলতার মানচিত্র এবং ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাংশের যেসব প্রশাসনিক এলাকা সর্বোচ্চ ঝুঁকির আওতায় পড়েছে, সেগুলো হলো:
* সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সবকটি জেলাসহ মোট নয়টি জেলা।
* সম্পূর্ণ কিশোরগঞ্জ জেলা।
* ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বৃহৎ অংশ।
* টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও নরসিংদীর আংশিক এলাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আসাম ও মেঘালয়ের সন্নিকটে অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলগুলোতে উচ্চঝুঁকি বহুদিনের।
জোন-৩: তুলনামূলক স্থিতিশীল অঞ্চল
পক্ষান্তরে, দক্ষিণ-পশ্চিমের কিছু জেলা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অঞ্চল, যা তৃতীয় শ্রেণির (জোন-৩) অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে খুলনা, যশোর, বরিশাল এবং পটুয়াখালী জেলা।
৫টি উৎস কেন্দ্র এবং ঢাকার ভয়াবহ বিপদ
ভূতাত্ত্বিকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের আশেপাশে অন্তত পাঁচটি সম্ভাব্য ভূমিকম্প উৎস বা উৎপত্তিস্থল রয়েছে। এই ফাটলগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এলাকায় অবস্থিত ডাউকি ফল্ট এবং মধুপুর ফল্ট সম্ভাব্য ভূকম্পনের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) তথ্যমতে, ঢাকা শহরে থাকা প্রায় ২১ লক্ষ স্থাপনার মধ্যে ৬ লক্ষ বহুতল স্থাপনাকে উচ্চ-বিপদাপন্ন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। একটি বড় মাত্রার ভূকম্পন ঘটলে এসব ভবনের পতনজনিত কারণে বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
বিল্ডিং কোড মানা আবশ্যক: বিশেষজ্ঞদের কঠোর দাবি
বুয়েটের অধ্যাপক ডা. মেহেদী আহমেদ আনসারী এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করেন। তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরত্বে একটি মাঝারি মাত্রার কম্পনে যখন ভবনের ক্ষতি হতে পারে, তখন একটি বিশাল ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।”
অধ্যাপক আনসারী আরও মন্তব্য করেন, বিল্ডিং কোড না মেনে রাজধানীতে যেসব ভবন নির্মিত হচ্ছে তা উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের কঠোর দাবি, বিপজ্জনক স্থাপনাগুলোকে দ্রুত সংস্কার করে কম্পন-সহনশীল করা এবং বিল্ডিং কোড মানা এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ।
প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় থামানো অসম্ভব হলেও, আগাম সতর্কতা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি অনেকাংশে ক্ষতি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ৯০ মিনিটের খেলা শেষ; সান্তোস বনাম পালমেইরাস, জানুন ফলাফল
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর, ২৬ আগস্ট ২০২৬
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬
- ভয়াবহ হওয়ার আগেই ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বাড়ার খবর মিলবে
- আজকের স্বর্ণের দাম, ২৭ আগস্ট ২০২৬
- মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের প্রশিক্ষণে মিলবে ৭৫ লাখ টাকা
- Redmi 17C 5G লঞ্চ, থাকছে ৬.৯ ইঞ্চির ১২০Hz ডিসপ্লে ও ৬,০০০mAh ব্যাটারি
- মোটরসাইকেল প্রেমীদের বড় সুখবর!
- নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটে কত
- লঘুচাপের প্রভাবে টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস
- পে-স্কেলে সুখবর, সেপ্টেম্বরেই আসছে গেজেট!
- নবম পে-স্কেলের গেজেট কবে, অক্টোবরেই নতুন বেতন
- Poco F9 Ultra-তে থাকছে Snapdragon 8 Elite Gen 5, নিশ্চিত করল Poco
- গ্রামে লোডশেডিং কমাতে ঢাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে নতুন সিদ্ধান্ত
