সিন্ধুর পানি বন্ধ করলে যে বিপদে পড়বে ভারত
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিন্ধু নদের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে করা ঐতিহাসিক চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত করেছে ভারত। পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তকে একটি যুদ্ধপ্রবণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি ভারত সিন্ধুর পানি আটকে দিতে পারবে? আর তা দিলে কি ভারতের নিজের জন্যই তা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে না?
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালে সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায়, যা ছিল একটি বৈশ্বিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত চুক্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক কাশ্মীর সংকটের জের ধরে ভারত একতরফাভাবে এ চুক্তি স্থগিত করেছে। শুধু পাকিস্তানকেই নয়, বিষয়টি বিশ্বব্যাংককেও জানায়নি ভারত। পাকিস্তানের বিদ্যুৎ মন্ত্রী আওয়াইজ লেহরি এই পদক্ষেপকে 'পানি যুদ্ধের' সূচনা বলে অভিহিত করেছেন। পাকিস্তান সরকার এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সিন্ধুর পানি বন্ধ করার যেকোনো উদ্যোগকে তারা যুদ্ধের উস্কানি হিসেবে দেখবে।
কিন্তু বাস্তবে কি ভারত এই নদীর উপর এমন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে?
সিন্ধু, ঝিলম ও চন্দ্রভাগা নদীর মূল প্রবাহ আসে তুষার গলে। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় এই নদীগুলো দিয়ে কোটি কোটি কিউবিক মিটার পানি প্রবাহিত হয়। ভারতে এসব নদীর ওপর কিছু অবকাঠামো থাকলেও—যেমন বাগলিহার ও কিশানগঙ্গা বাঁধ—এগুলো মূলত প্রবাহ-নির্ভর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এগুলোর পানি সংরক্ষণের ক্ষমতা খুবই সীমিত।
এই অবকাঠামোগুলো এমনভাবে নির্মিত নয় যে, দীর্ঘমেয়াদে পানি আটকে রাখা সম্ভব হবে। ফলে ভারত যদি সব বাঁধের পানি ছাড়ার সময় নিয়ন্ত্রণ করেও, তাতেও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। বরং এতে ভারতের নিজস্ব অঞ্চলেই বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ভারত পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলোর পানি ব্যবহার করছে ইতোমধ্যেই। নতুন কোনো উদ্যোগ নিলেও তা সীমিত প্রভাব ফেলবে। আর যদি ভারত নতুন কোনো প্রকল্প শুরু করে, তাহলে তা বাস্তবায়নে অনেক বছর সময় লাগবে। ভারতীয় কাশ্মীরে বড় বাঁধ নির্মাণের জায়গা কম এবং প্রকৌশলগত সমস্যাও প্রচুর। এছাড়া রাজনৈতিক বিরোধিতা ও বিপুল ব্যয়ের ঝুঁকি তো থাকছেই।
আধুনিক যুগে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব নির্মাণ প্রকল্প গোপন রাখা সম্ভব নয়। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপে পড়বে ভারত। অন্যদিকে, ভারত নিজেই ব্রহ্মপুত্রসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক নদীর ভাটির দেশের তালিকায় পড়ে, যেগুলোর উত্স চীনে। পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে চীন যদি ভারতীয় নদীগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে দেয়, তবে ভারতের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
রাকিব/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- ৯০% বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা: গ্রেড সংখ্যা ১৬ রেখে চূড়ান্ত রিপোর্ট আসছে আগামী সপ্তাহে!
- নবম পে স্কেল কাঠামো আসছে ৩ ধাপে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর
- অবশেষে পে-স্কেল নিয়ে সুখবর
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে মুখ খুললেন অর্থ উপদেষ্টা
- আন্দোলনের শঙ্কায় পে-স্কেল: দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার
- আজকের সোনার বাজারদর: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
- আজকের সোনার বাজারদর: ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- আসছে টানা ১৫ দিনের লম্বা ছুটি, জেনে নিন কোন প্রতিষ্ঠানের কতদিন
- আজকের সকল টাকার রেট: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
- ১৬ ডিসেম্বর থেকে মোবাইলের দামে বড় পরিবর্তন!
- নির্বাচনের আগে পে-স্কেল অস্থিরতা শেষ করতে গোয়েন্দা সতর্কতা
- পে স্কেলের চূড়ান্ত রিপোর্ট: ডিসেম্বরের আগে জমা দেওয়া সম্ভব?
- Ipl Auction 2026; চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, কে হচ্ছে কোটিপতি
- বুধবার নাকি বৃহস্পতিবার; নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার চূড়ান্ত তারিখ
- দেশের বাজারে আজকের সোনার দাম
