এক লাফে বিশাল বেড়ে গেল জ্বালানী তেলের দাম
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম একেবারে নতুনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞাগুলো রাশিয়ার তেল রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করেছে। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো রাশিয়ার তেল রপ্তানির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চীন এবং ভারত, যারা রাশিয়ার প্রধান তেল ক্রেতা, তাদের তেল কেনার প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীন এবং ভারতকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানির উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হতে হতে পারে। এর ফলে, বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৪৮ ডলার বেড়ে ৮১.২৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের ২৭ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। অপরদিকে, ডব্লিউটিআই ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৫৩ ডলার বা ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৮.১০ ডলারে পৌঁছেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি সারা বিশ্বের তেল বাজারকে অস্থিতিশীল করতে পারে, বিশেষ করে যেসব দেশ তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এটি বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার গ্যাস কোম্পানি গাজপ্রম নেফট, সারগাটনেফট এবং তেল পরিবহনকারী ১৮৩টি জাহাজকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল, রাশিয়ার তেল রপ্তানি কমিয়ে তাদের সামরিক কর্মকাণ্ডের সক্ষমতা হ্রাস করা, বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। তবে, নিষেধাজ্ঞার এই প্রভাব বিশ্বের তেল সরবরাহ চেইনকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে চীন এবং ভারতের তেল আমদানির প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে। ফলে তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল কেনার ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এর ফলস্বরূপ, বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা বেড়ে যাবে, যা দামকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
এছাড়া, শীতকালে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। শীতকালীন শক্তির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে তেলের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে, রাশিয়ার তেল পরিবহনকারী জাহাজের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার ফলে বাজারে সরবরাহের অভাব সৃষ্টি হয়েছে, যা আরও তেলের দাম বাড়িয়েছে।
২০২১ সাল থেকে তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর তা এক বিশাল শিখরে পৌঁছে যায়, যখন দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩৯ ডলারে উঠে যায়। তবে, ২০২৩ সালে কিছুটা কমে দাম গড়ে ৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছিল। ওপেক (অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কন্ট্রি) বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও তেলের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু এখন, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলোর কারণে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে এবং বাজারে তেলের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি সামনের দিনে আরও বাড়তে পারে, এমনটাই মনে করছেন ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা। এ পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে শিল্প খাত, পরিবহন খাত এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- এইমাত্র পাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য বড় সুখবর
- ২০টি গ্রেডে কার বেতন কত বাড়ল? দেখে নিন পূর্ণাঙ্গ তালিকা
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ!
- নাটকীয় মোড়: বিশ্বকাপে ফিরতে পারে বাংলাদেশ
- নতুন পে-স্কেল নিয়ে অস্থিরতার ইঙ্গিত
- বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিলো আইসিসি
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
- নতুন পে-স্কেল: প্রাথমিক শিক্ষক ও নিম্ন ধাপের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বড় সুখবর
- বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে অনেক বড় সুখবর জানাল আইসিসি
- সুযোগ পেলেও কপাল পুড়লো স্কটল্যান্ডের
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
- যে কারনে বাতিল হতে পারে নবম পে-স্কেল
- নতুন পে-স্কেল: বাস্তবায়ন নিয়ে বড় অস্থিরতা
- ভারত থেকে সরে যাচ্ছে বিশ্বকাপ
- বাংলাদেশে ফের বাড়ল সোনার দাম
