| ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

সরকারি দামের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি দামে এলপিজি

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ২২:৪০:০৭
সরকারি দামের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি দামে এলপিজি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। সরবরাহ সংকট ও বাড়তি কেনা দামের কারণে বিপাকে পড়েছেন খুচরা বিক্রেতারাও।

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম দফায় দফায় বাড়লেও নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার কিনতে পারছেন না অনেক গ্রাহক। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য সরকারি দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে তাঁদের। ফলে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে রান্নার গ্যাসের বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ পরিবার থেকে শুরু করে ছোট হোটেল ও চায়ের দোকানগুলো।

১২ কেজি এলপিজির নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা

বাজারে সরবরাহ সংকটের মধ্যে গত সোমবার আবারও এলপিজির দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৪ অক্টোবর একই আকারের সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। সর্বশেষ নির্ধারিত দাম সোমবার রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়। ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে।

তবে দাম বাড়ানোর পরও বাজারে সরকারি নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

সরকারি দামের চেয়ে বেশি দিয়ে কিনছেন গ্রাহক

ঢাকার মিরপুরের ২ ও ৬ নম্বর সেকশন এবং আগারগাঁও এলাকায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা ট্রিবিউন।

খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আহমেদ সোহেল জানান, তিন সদস্যের পরিবারে প্রতি মাসে একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার লাগে। আগে সরকারি দাম প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা থাকলেও তাঁকে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে।

নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণের পর এবার সিলিন্ডার কিনতে ২ হাজার ৫০০ টাকার বেশি লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, শুধু দাম বাড়াই নয়, সরকারি নির্ধারিত দামে গ্যাস না পাওয়ায় পরিবারের মাসিক খরচ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে।

এলপিজির বাড়তি দামে বিপাকে ছোট হোটেল

মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেল পরিচালনা করেন মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, আগে ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকারি দাম প্রায় ১ হাজার ৮৫০ টাকা থাকলেও তাঁকে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ১৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হতো।

তাঁর হোটেলে দুটি চুলার জন্য আলাদা দুটি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। রুটি ও পরোটা তৈরিতে তিন দিনে প্রায় দুটি সিলিন্ডার প্রয়োজন হয় বলে জানান তিনি।

শুধু গ্যাস নয়, ময়দাসহ অন্যান্য উপকরণের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিটি পরোটা ১০ টাকায় বিক্রি করলেও বাড়তি খরচে এই দামে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি না বদলালে পরোটার দাম বাড়ানো অথবা হোটেল বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর।

চায়ের দোকানেও বাড়ছে খরচ

আগারগাঁওয়ের চা বিক্রেতা ফখরুদ্দিন জানান, তিনি ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ টাকায় কিনেছেন। সেটি দিয়ে ১১ থেকে ১৩ দিন চলে। নতুন করে দাম বাড়ায় পরবর্তী সিলিন্ডার কিনতে আরও বেশি টাকা লাগতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

তবে গ্যাসের খরচ বাড়লেও চায়ের দাম বাড়ানো সহজ নয়। দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অন্য পণ্য বিক্রি করে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

বিক্রেতারাও বলছেন, বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে

মিরপুর-৬ এলাকার সাফওয়ান এন্টারপ্রাইজের এলপিজি বিক্রেতা মোহাম্মদ মামুন জানান, তাঁদের দোকানে বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার বিক্রি হয়। এর মধ্যে বসুন্ধরা, বেক্সিমকো, টিয়ার, পেট্রোম্যাক্স, ইউনিগ্যাস ও আইগ্যাসের পণ্য রয়েছে। তবে বর্তমানে কিছু ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২ কেজির ইউনিগ্যাসের রিফিলের দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা। পেট্রোম্যাক্স ও আইগ্যাসের রিফিলের দাম প্রায় ২ হাজার ৩০০ টাকা। ব্র্যান্ড ও সিলিন্ডারের নিজস্ব দামের কারণে পূর্ণ সিলিন্ডারের দামেও পার্থক্য রয়েছে।

মামুনের দাবি, বেশি দামে গ্যাস কিনে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করার পর বিক্রিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাভ রাখতে হয়। কিন্তু ক্রেতারা দাম শুনে অনেক সময় অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন। এতে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হচ্ছে।

সিলিন্ডার বদল নিয়েও ভোগান্তি

এলপিজি ব্যবসায় আরেকটি সমস্যার কথা জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনা আলাদা হওয়ায় এক কোম্পানির খালি সিলিন্ডার দিয়ে অন্য কোম্পানির গ্যাস নেওয়া বা বদল করা যায় না। ফলে ক্রেতাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে হয়।

মামুন জানান, দাম নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বারবার বিরোধের কারণে একসময় তিনি এলপিজির ব্যবসা ছেড়ে চাকরি নিয়েছিলেন। পরে আবার ব্যবসায় ফিরলেও এখন একই ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

এলপিজির বাজারে ক্রেতাদের প্রধান সমস্যা কী?

বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের অভিযোগ ও বিক্রেতাদের বক্তব্যে কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে:

- বিইআরসির নির্ধারিত দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ।

- সরকারি দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ক্রেতা।

- সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

- বেশি দামে গ্যাস কেনায় ছোট হোটেল ও চায়ের দোকানের পরিচালন ব্যয় বাড়ছে।

- সিলিন্ডার বদল ও বিক্রয়মূল্য নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এলপিজির দাম বৃদ্ধি ও বাজারে সরবরাহের সমস্যায় বাড়তি খরচের মুখে পড়েছেন সাধারণ পরিবার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সরকারি নির্ধারিত দাম কার্যকরভাবে বাজারে মানা হচ্ছে কি না, সেটিই এখন ক্রেতাদের বড় প্রশ্ন।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টস হেরেছে বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক ...

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছেন ...

ফুটবল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচ, জানুন ফলাফল

৯০ মিনিটের খেলা শেষ; বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচ, জানুন ফলাফল

স্পোর্টস ডেস্ক: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে পূর্ণ ৩ ...

ভুটানকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষে বাংলাদেশ

ভুটানকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বে ভুটানের বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয়ের পর পয়েন্ট টেবিলের ...