পরীমনির জামিন বাতিল, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটিতে বুধবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন পরীমনি আদালতে হাজির না হওয়ায় বাদীপক্ষ তাঁর জামিন বাতিলের আবেদন করে। অন্যদিকে পরীমনির আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে অসুস্থতার কারণ হিসেবে অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ এই মামলার বাদী। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের বোট ক্লাবে পরীমনি ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে একটি ঘটনা ঘটে। ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি তাঁর কাছে একটি ব্লু লেবেল মদের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন নাসির।
তাঁর দাবি, সেই দাবি পূরণ না করায় তাঁকে গালিগালাজ করা হয় এবং একপর্যায়ে একটি গ্লাস ছুড়ে মারা হয়। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মারধর, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগও আনা হয়।
তবে এগুলো মামলার বাদীর করা অভিযোগ। আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে।
মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২৪ সালের মার্চে আদালতে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনের আঘাত পাওয়ার ঘটনায় পরীমনি ও জিমির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মামলার আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি একই মামলায় আদালতে হাজির না থাকায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। ওই দিন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরুর আদেশও দেওয়া হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।
নতুন করে জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশের পর মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। এখন পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশনা ও মামলার বিচারিক কার্যক্রমের দিকে নজর থাকবে।
সোহাগ/
