পুরুষের কোন বয়সে সন্তান নেওয়ার সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি থাকে
নিজস্ব প্রতিবেদক: পুরুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুক্রাণুর গুণগত মান ও প্রজননক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে পারে। নারীদের মতো পুরুষদের প্রজননক্ষমতা নির্দিষ্ট কোনো বয়সে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় না। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা ও ডিএনএর গুণগত মানে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, পুরুষের বাবা হওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বয়স কোনটি?
২৫ থেকে ৩৫ বছর: পুরুষের প্রজননক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ সময়
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষের প্রজননক্ষমতা সাধারণত তরুণ বয়সে ভালো থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সকে সন্তান নেওয়ার জন্য অনুকূল সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে শুধু বয়সের ওপর নির্ভর করে কারও সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না। শারীরিক স্বাস্থ্য, জীবনযাপন, শুক্রাণুর গুণগত মান এবং সঙ্গীর প্রজননস্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু পুরুষের শুক্রাণুর গতিশীলতা ও গুণগত মান কমতে পারে। পাশাপাশি শুক্রাণুর ডিএনএতে ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে এসব পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে একইভাবে ঘটে না।
৫০ বছর বয়সের পরও কি পুরুষ বাবা হতে পারেন?
হ্যাঁ, অনেক পুরুষ ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সেও সন্তান জন্মদানে সক্ষম হন। কারণ পুরুষের শরীরে সাধারণত সারা জীবন শুক্রাণু উৎপাদন চলতে থাকে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুক্রাণুর গুণগত মানে পরিবর্তন আসতে পারে এবং সন্তান ধারণে বেশি সময় লাগার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, নারীদের প্রজননক্ষমতা বয়সের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয় এবং সাধারণত মেনোপজের পর স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ সম্ভব হয় না। তবে নারীদের ক্ষেত্রে প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়ার সময় ও মেনোপজের বয়স ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
বেশি বয়সে বাবা হলে শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি কি বাড়ে?
গবেষণায় দেখা গেছে, বাবার বয়স বেশি হলে কিছু ক্ষেত্রে সন্তানের নির্দিষ্ট জিনগত ও স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে শুক্রাণুতে নতুন জিনগত পরিবর্তন বা ডিএনএ ক্ষতির সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে বেশি বয়সে বাবা হলেই শিশুর স্বাস্থ্যগত সমস্যা হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত ঝুঁকি নির্ভর করে নানা জৈবিক ও পারিবারিক বিষয়ের ওপর। তাই শুধু বয়সের ভিত্তিতে কোনো দম্পতির সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিচার করা ঠিক নয়।
বয়স বাড়লে আইভিএফের সাফল্যে কী প্রভাব পড়ে?
আইভিএফ বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতিতে সন্তান নেওয়ার সাফল্য পুরুষের বয়সসহ একাধিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে নারীর বয়স, ডিম্বাণুর গুণগত মান, শুক্রাণুর অবস্থা এবং চিকিৎসার ধরন উল্লেখযোগ্য।
কিছু গবেষণায় কম বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে আইভিএফের সাফল্যের হার তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। তবে নির্দিষ্ট বয়সে সাফল্যের হার ৭৩ শতাংশ বা তার অর্ধেকের কম—এ ধরনের পরিসংখ্যান গবেষণার পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট রোগীদের বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে। তাই গবেষণার নির্দিষ্ট সূত্র ছাড়া এসব সংখ্যাকে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে করণীয়
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে পুরুষের উচিত নিজের প্রজননস্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও সন্তান না এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী বীর্য পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা করে প্রজননস্বাস্থ্যের অবস্থা জানা যেতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়স পুরুষের বাবা হওয়ার জন্য অনুকূল সময় হতে পারে। তবে বাবা হওয়ার সক্ষমতা শুধু বয়স দিয়ে নির্ধারিত হয় না। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, শুক্রাণুর গুণগত মান এবং নারী-পুরুষ উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্য বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
আশা/
