মাদক, কিশোর গ্যাং ও র্যাগ ডে নিয়ে মাউশির নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানো, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, ইভটিজিং বন্ধ এবং ‘র্যাগ ডে’র নামে বিশৃঙ্খলা রোধে বিশেষ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যেন রাতে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হয়, সে জন্য অভিভাবক সমাবেশ, সভা-সেমিনার ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মাউশির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক অফিস আদেশে মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।
মাউশির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৈরি মাদকবিরোধী প্রামাণ্যচিত্র ও থিম সং প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
এ ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইভটিজিং প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাউশি। একই সঙ্গে ‘র্যাগ ডে’র নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ, সভা-সেমিনার আয়োজন এবং প্রচারণাপত্র বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আচরণ ও পড়াশোনার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
মাউশির আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালকদের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব নির্দেশনা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তার অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট জেলার মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, কত শতাংশ প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে, ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠনের অবস্থা, অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন এবং রাতে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে নেওয়া কার্যক্রমের তথ্য ছক আকারে উল্লেখ করতে হবে।
নির্ধারিত তথ্য সংকলন করে আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ই-মেইলে পাঠাতে হবে আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে।
মাউশির এই নির্দেশনার লক্ষ্য হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে সচেতনতামূলক উদ্যোগ জোরদার করা।
সোহাগ/
