| ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

এলপিজি সংকট কেন? বাড়ছে দাম, মিলছে না সিলিন্ডার

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ০৯:৫৪:০১
এলপিজি সংকট কেন? বাড়ছে দাম, মিলছে না সিলিন্ডার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা। কোথাও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার, আবার কোথাও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে, এলপিজির বাজারে এই অস্থিরতার নেপথ্যে কী?

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জাহাজভাড়া বৃদ্ধি এবং আমদানি ও পরিবহনসংক্রান্ত জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। পাশাপাশি আমদানিতে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ বা ব্যাহত হওয়ায় দেশের বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ বেড়েছে।

পাইপলাইনে গ্যাসের ঘাটতিতে বাড়ছে এলপিজির চাহিদা

গত কয়েক বছরে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার ও প্রতিষ্ঠান রান্নার কাজে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এতে বাজারে এলপিজির চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে, আমদানি ও সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় চাহিদা ও প্রাপ্যতার মধ্যে ব্যবধান দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহব্যবস্থার সমস্যাও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ

এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে বিইআরসি। তবে বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান ৪০০ টাকারও বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, তারা বিইআরসির নির্ধারিত মূল্য অনুসরণ করে পণ্য বিক্রি করছে। খুচরা পর্যায়ে সরবরাহের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু বিক্রেতা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাজার তদারকি জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

আমদানি ও অর্থায়নের সংকটে সরবরাহে চাপ

ওমেরা এলপিজির চিফ অপারেটিং অফিসার মাথেন্দ্র ডি জয়োশা দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং দেশের বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যেও ওমেরা পেট্রোলিয়াম নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতা ও আমদানিতে অর্থায়নের জটিলতার কারণে দেশের কয়েকটি বড় এলপিজি অপারেটর স্বাভাবিক আমদানি কার্যক্রম বজায় রাখতে পারছে না। ফলে বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

মাথেন্দ্র ডি জয়োশার ভাষ্য অনুযায়ী, ওমেরার আর্থিক সক্ষমতা ও পরিচালনগত প্রস্তুতি নিয়মিত আমদানি অব্যাহত রাখতে সহায়তা করেছে। তবে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত অক্টোবরে বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যসংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণে ওমেরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তার মতে, বাজার স্থিতিশীল করতে আমদানিকারক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং পরিবেশকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আমদানি অর্থায়নের বাধা দূর করা এবং সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে ভোক্তাদের জন্য এলপিজির প্রাপ্যতা বাড়ানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক সংকটে বাড়ছে আমদানি ব্যয়

দেশে এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইগ্যাসের পক্ষ থেকেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাকে সরবরাহ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়েছে। জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসায় এশিয়ার দেশগুলোতে এলপিজি আমদানির ব্যয় বেড়েছে।

আইগ্যাসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির আমদানি ও বিক্রির তথ্য যাচাই করা সম্ভব এবং দৈনিক বিক্রির রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়। তাদের দাবি, এলপিজির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্তই প্রযোজ্য, তাই বাজারের পরিস্থিতিকে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।

এলপিজির বাজার স্বাভাবিক হবে কবে?

এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সময়সীমা দিতে পারেনি আইগ্যাস। প্রতিষ্ঠানটির মতে, পরিস্থিতির উন্নতি অনেকাংশে উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতেও সময় লাগতে পারে।

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, আমদানি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে তদারকির চ্যালেঞ্জ এলপিজি খাতকে চাপে ফেলেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি খুচরা বাজারে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। এতে নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া এবং ভোক্তাদের ভোগান্তি কমানোর পথ তৈরি হতে পারে।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

আফগানিস্তানের লড়াকু ব্যাটিংয়ে চাপে বাংলাদেশ, জয়ের পথে বড় বাধা

আফগানিস্তানের লড়াকু ব্যাটিংয়ে চাপে বাংলাদেশ, জয়ের পথে বড় বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের জন্য বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েও স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ। ৪৭৯ রানের ...

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

লিটন-মিরাজের শতরানের জুটিতে লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ৪৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ...

ফুটবল

ব্রাজিল বনাম জাপান: কবে, কখন জেনে নিন সূচি

ব্রাজিল বনাম জাপান: কবে, কখন জেনে নিন সূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জাপান ও সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হওয়ার কথা ব্রাজিল ...

হামজাকে ছাড়াই মাঠে নামবে বাংলাদেশ

হামজাকে ছাড়াই মাঠে নামবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ...