রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতের প্রার্থী কে, আলোচনায় যাদের নাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে রাষ্ট্রপতি পদে দলটির প্রার্থী কে হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
শনিবার রাতে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তিকেও প্রার্থী করার প্রস্তাব আসতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন জামায়াতের নেতারা। ওই বৈঠকে শরিকদের মতামত নিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হতে পারে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
নির্বাচনে ফলাফল অনেকটাই নির্ধারিত?
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। ফলে বর্তমান সংসদে কোনো দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই দলের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২১১টি আসন পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে দলটি রাষ্ট্রপতি পদে যে প্রার্থী দেবে, তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন জামায়াত ও তাদের জোটের নেতারা।
তবে নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে এমন রাজনৈতিক হিসাব থাকলেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়াকে গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখছে জামায়াতে ইসলামী।
বিরোধী দলের প্রার্থী দেওয়ার নজির
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দেওয়ার নজির রয়েছে। সে সময় আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল। তিনি বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হন।
এরপর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ফলে এবার জামায়াতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন জোটের বৈঠকের পরই স্পষ্ট হবে, রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াত বা তাদের জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে কাকে বেছে নেওয়া হচ্ছে।
সোহাগ/
