নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা, সিদ্ধান্তে আরও সময়
নিজস্ব প্রতিবেদক: বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সচিব কমিটির দীর্ঘ বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টার ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় কতটা বাড়বে এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
তবে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শ। সম্প্রতি ঢাকা সফরে আইএমএফের প্রতিনিধি দল নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আইএমএফের পক্ষ থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, একসঙ্গে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় শুরু হলে বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে।
তবে আইএমএফের এই পরামর্শ পুরোপুরি গ্রহণের বিষয়ে সরকারের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকার দুই বছরের দীর্ঘ বিলম্বে যেতে চায় না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পে-স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি আরও পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার নির্দেশনার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটির আরও কয়েকটি বৈঠক হতে পারে। এসব বৈঠকে পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে একবারে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর না করে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এতে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অক্টোবরের আইএমএফের বার্ষিক সভার আগেই নতুন পে-স্কেলের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। কারণ, এরপর নভেম্বর মাসে আইএমএফের আরেকটি প্রতিনিধি দল নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, আইএমএফের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার আগেই পে-স্কেলের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব আয়, মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশের ওপর।
ফলে নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি। কবে নাগাদ নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ হবে এবং তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- নতুন পে স্কেলে সব গ্রেডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
- পে-স্কেলে ৪ ক্যাটাগরিতে বাড়িভাড়া ভাতায় পরিবর্তনের সুপারিশ
- iPhone 18 Pro Max: দাম, স্পেসিফিকেশন ও সম্ভাব্য ফিচার
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- টানা ১২ দিন বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ!
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- সরকারি চাকরিতে বাড়তে পারে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর
- পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা চান চাকরিজীবীরা
- ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রাথমিকের বদলি স্থগিত
- কার পেনশন কত বাড়বে, জেনে নিন হিসাব
- চালুর আগেই রূপপুর পারমাণবিক চুল্লিতে বড় ত্রুটি!
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শেখ সেলিম, যা বললেন শেখ হাসিনা
- সম্পত্তি দান করেও আজীবন ভোগ, সংসদে পাস নতুন বিল
