তারেক রহমান কবে আসছেন দেশে
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা তাঁকে সুস্থ করে তোলার প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। এই সংকটময় মুহূর্তে সারা দেশের মানুষ তাঁর আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করছেন। ঠিক তখনই তাঁর পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কেন দেশে ফিরছেন না—এই প্রশ্নটি আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
দেশজুড়ে খালেদা জিয়ার জন্য ব্যাকুলতা
বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা দেশের মানুষের কাছে এক জাতীয় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষ তাঁর সুস্থতার জন্য জায়নামাজে কাঁদছেন। তাঁর প্রতি মানুষের এই নিঃশর্ত ভালোবাসা, আপোসহীন ভাবমূর্তি এবং জাতীয় অভিভাবকত্বের স্থান অর্জন—যা তাঁকে ঘিরে এক অভূতপূর্ব জনসমর্থন তৈরি করেছে। চিকিৎসকদের মতে, বেগম জিয়া এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন।
তারেক রহমানের অনুপস্থিতি: বিতর্ক ও বাস্তবতা
গত প্রায় ১৮ বছর ধরে লন্ডনে নির্বাসিত তারেক রহমান এই কঠিন সময়ে মায়ের পাশে নেই। এ নিয়ে কতিপয় মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, কেন তিনি ৮ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে মায়ের কাছে ফিরছেন না।
তবে এই সমালোচনাকারীরা যে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন, তা হলো—তারেক রহমান এবং তাঁর স্ত্রী, প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান, দিনরাতের প্রায় পুরোটা সময় ব্যয় করছেন মায়ের সর্বোচ্চ চিকিৎসার বন্দোবস্তে।
লন্ডন থেকে সমন্বিত চিকিৎসা তদারকি
* নিবিড় সমন্বয়: তারেক রহমান প্রতি মুহূর্তের জন্য ঢাকার চিকিৎসক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় ঘটিয়ে দিচ্ছেন।
* বিশেষজ্ঞদের কনফারেন্স: তাঁর উদ্যোগে চীন ও লন্ডনসহ সাতটি দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ভার্চুয়ালি কনফারেন্স করে বেগম জিয়ার জন্য সমন্বিত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন।
* সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ: তারেক রহমান লন্ডনে বসে লন্ডন ক্লিনিকের (যেখানে বেগম জিয়া আগে চিকিৎসা নিয়েছেন) চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এই চিকিৎসকদের কাছে বেগম জিয়ার সম্পূর্ণ মেডিকেল হিস্টোরি থাকায় তাঁরা ঢাকার টিমকে দ্রুত কার্যকর পরামর্শ দিতে পারছেন।
* আধুনিক চিকিৎসা কৌশল: আজকের গ্লোবাল ভিলেজে ২০ ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে আবেগতাড়িত হয়ে দেশে আসার চেয়ে, দূরদেশে বসে অত্যাধুনিক ভার্চুয়াল কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বের সেরা চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসার অভাবনীয় সর্বাধুনিক ফর্মুলা বের করে আনাটাই মুখ্য দায়িত্ব।
আবেগ নয়, দায়িত্বশীলতাই মুখ্য
ওয়াকিবহাল মহল ও সংশ্লিষ্টদের মত অনুযায়ী, যদি তারেক রহমান আবেগের বশবর্তী হয়ে তড়িঘড়ি দেশে ফিরতেন, তবে হয়তো সংবাদ শিরোনাম হতো, আবেগঘন দৃশ্যপট তৈরি হতো—কিন্তু তাঁর মায়ের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ক্ষেত্রে তা হানিকর হতে পারত। দেশের মূল দায়িত্ব হলো বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা। আর সেই কাজটিই তারেক রহমান দম্পতি লন্ডন থেকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তদারকি করছেন।
তারেক রহমান এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দেশে ফেরা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর একক নিয়ন্ত্রণ নেই এবং এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। তাঁর ভক্ত-সমর্থকরা আবেগ দিয়ে তাঁকে ভালোবাসলেও, তারেক রহমান সন্তান হিসেবে মায়ের প্রতি তাঁর কর্তব্য, দল ও পরিবারের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিয়েই সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা পালন করছেন। তিনি কখন আসবেন
এই মুহূর্তে 'তারেক রহমান কবে আসবেন' এই প্রশ্নটির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা সুনিশ্চিত করা। যেহেতু তিনি ও ডা. জুবাইদা রহমান মেডিকেল বোর্ডের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছেন, তাই যখনই উপযুক্ত সময় হবে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ থাকবে, তখনই তিনি পরিবার ও দলের সঙ্গে আলোচনা করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- নবম পে-স্কেল: ৯০% পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ, আগামী সপ্তাহেই চূড়ান্ত রিপোর্ট!
- পে-স্কেল নিয়ে সবশেষ ঘোষণা: যা জানা গেল
- পে-স্কেল নিয়ে উত্তেজনা: সবশেষ পরিস্থিতি কি?
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- ওসমান হাদির সবশেষ অবস্থা জানালেন চিকিৎসক
- পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ সুখবর যা জানা গেল
- আজকের সোনার বাজারদর: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
- ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ : সিসিটিভি ফুটেজে যা মিললো
- হাদির ওপর হামলা কারছে কে, জানালেন আইজিপি
- আজকের সকল টাকার রেট: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
- জানা গেল হাদির ওপর হামলাকারীকে নিয়ে আঁতকে ওঠার মতো তথ্য
- ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ: যা জানা গেলো
- নির্বাচনের আগে পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা
- শনি ও রোববার যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান, যেভাবে দেখবেন
