সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
জামাতের সামনে যেখানে অবহায় বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২ শতাধিক আসনে প্রার্থী তালিকা হঠাৎ করে ঘোষণা করার পর থেকেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত ৩ নভেম্বর গুলশানে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই ঘোষণাকে দলীয় নেতাকর্মীরা দেখছেন ‘নিজের ঘরে আগুন লাগানোর’ সমতুল্য। গোটা দেশ জুড়ে বিএনপির বিদ্রোহীদের হুংকারে দিশাহীন অবস্থায় পড়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ব্যাপক সংঘর্ষ, মাদারীপুরের সড়ক অবরোধ এবং কুষ্টিয়ায় চূড়ান্ত উত্তেজনার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে কোন্দলের ফাটল কতটা গভীর। দলীয় সূত্রমতে, অর্ধশতাধিক আসনে প্রকাশ্য বিদ্রোহ দেখা গেলেও, ভেতরে ধিকিধিকি আগুন জ্বলছে আরও অন্তত শতাধিক আসনে।
ক্ষোভ প্রশমনে দলের উদ্যোগ ও বিদ্রোহীদের হুংকার
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখন বিতর্কিত আসনগুলোতে নতুন করে জরিপ ও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন। জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রায় অর্ধশত আসনে পরিবর্তন আসতে পারে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকে নানা আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। শীর্ষ নেতারা বলছেন, বর্তমান তালিকা চূড়ান্ত নয়, প্রয়োজন মনে করলে পরিবর্তন করা হবে।
কিন্তু এই আশ্বাসবাণীর পরেও শান্ত হচ্ছেন না বিদ্রোহীরা। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, দলীয় মনোনয়ন যারা পাবেন না, তারা হয়তো নিষ্ক্রিয় থাকবেন। শুধু তাই নয়, অনেকে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করে নির্বাচনে দলের জন্য বুমেরাং পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন।
হাইকমান্ডের তিনটি মূল চিন্তা
বিশ্লেষকদের মতে, মূলত তিনটি প্রধান কারণ বিএনপির হাইকমান্ডের মাথাব্যথার কারণ।
১. বিদ্রোহীর আধিক্য: এক-একটি আসনে গড়ে পাঁচের অধিক প্রার্থী থাকায় চূড়ান্ত মনোনয়নের পরও বিদ্রোহীরা শান্ত হচ্ছেন না। সহিংসতা অব্যাহত রেখে তারা প্রকাশ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন। তারা মনে করছেন, এই সুযোগে বিদ্রোহী হিসেবেও জয়ের স্বপ্ন দেখা সম্ভব।
২. শরিক দলের আসন: দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সঙ্গী শরিক দলগুলোর জন্য ৬৩টি আসন খালি রাখা হয়েছে। এই আসনগুলোতে প্রার্থী ঘোষণা হলেই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ দেখা দিতে পারে, কারণ অপেক্ষাকৃত ছোট দলের নেতাদের মানতে নারাজ তৃণমূল।
৩. আরপিও ও প্রতীকের সংকট: গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) সংশোধন অনুযায়ী, জোটবদ্ধ হয়ে লড়লেও নিজ দলীয় প্রতীকে ভোট করতে হবে। এটি বলবৎ থাকলে শরিকদের আসনে ধানের শীষ প্রতীক থাকবে না। এই পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী প্রার্থী, জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীদের জন্য তা বড় সুযোগ তৈরি করবে। প্রায় অর্ধশতাধিক আসনে এমন পরিস্থিতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মরার উপর খাঁড়ার ঘা: সুশৃঙ্খল জামায়াত ফ্যাক্টর
এই টালমাটাল অবস্থায় বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় অশনি সংকেত হলো একতাবদ্ধ জামায়াতে ইসলামী। বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে মূল লড়াইটা হতে পারে বিশৃঙ্খল বিএনপির সঙ্গে সুশৃঙ্খল জামায়াতের।
যেখানে বিএনপির সমর্থকরা একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে, সেখানে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা কোনো প্রকাশ্য কোন্দল ছাড়াই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভোটের বাক্সে এর প্রতিফলন হলে বিএনপির কপালে শনির প্রভাব দেখা দিতে পারে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা
দলের এই গভীর ক্ষোভ ও বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার একমাত্র উপায় হিসেবে বিএনপির হাইকমান্ড এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিকে তাকিয়ে আছেন। বিশ্লেষকদের মত, তিনি দেশে এসে নির্বাচনী হাল ধরলেই কেবল দলের ভেতরের বিদ্রোহ ও ক্ষোভের অধিকাংশই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। আপাতত তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিকেই তাকিয়ে আছে বিএনপি।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- পে স্কেল নিয়ে সভায় ৩ প্রস্তাব, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত
- নবম পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ; যা জানা গেল
- আজ নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত!
- নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব: সর্বনিম্ন বেতন ৩২ হাজার, সর্বোচ্চ ১.২৮ লাখ টাকা
- আজকের সোনার বাজারদর: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
- পে-স্কেলে বেতনের অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত, সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে ৩ প্রস্তাব
- নবম পে-স্কেল: বেতন কাঠামো ও গ্রেড সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ
- এলপি গ্যাস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল সরকার
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর: ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত হচ্ছে নবম পে-স্কেল
- আজকের সোনার বাজারদর: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
- নবম পে-স্কেল: সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে ৩টি প্রস্তাবনা পেশ করল কমিশন
- দেশের বাজারে আজ এক ভরি স্বর্ণের দাম
- সচিবালয়ে পে-কমিশনের বৈঠক: ১:৮ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন কত হচ্ছে
- ২১ না কি ১৬ হাজার? সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে বড় খবর
- আবারও দেশে ভূমিকম্প: উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা কত
