সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল হচ্ছে না—কেন দরকার ছিল, কোথায় সমস্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিতে সর্বশেষ পে কমিশন গঠিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর থেকে সরকারি কর্মচারীরা প্রতি বছর গড়ে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পেলেও নতুন কোনো পে স্কেল আর ঘোষণা করা হয়নি। দীর্ঘদিন পর এবার নতুন স্কেলের প্রত্যাশা তৈরি হলেও অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে—এ সিদ্ধান্ত পরবর্তী সরকারের ওপরেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিলেও অর্থনীতির বাস্তবতা বলছে, সিদ্ধান্তটি অনেকটাই যৌক্তিক।
পে স্কেল হলে বাজারে প্রভাব পড়ে
বাংলাদেশে নতুন পে স্কেল ঘোষণার সাথে সাথে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়ে—এ অভিজ্ঞতা পুরোনো। ফলে বেসরকারি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কোটি মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে যায়। তবু সত্য হলো—গত ১০ বছর ধরে একই স্কেলে চাকরি করা especially নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে।
রাজস্ব আদায় কম, ব্যয় করার সামর্থ্যও কম
বাংলাদেশের কর–জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম—মাত্র ৬.৬ শতাংশ। দেশ বড় হলেও রাজস্ব আহরণ বাড়েনি। কর ফাঁকি, জটিল আইন, দুর্নীতি—সব মিলিয়ে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়। সিপিডির হিসাব অনুযায়ী শুধু ২০২৩ সালেই কর ফাঁকি হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। ফলে সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ের জায়গা ছোট হতে থাকায় নতুন পে স্কেলের চাপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম প্রবৃদ্ধি
২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৬৯ শতাংশে নামলেও গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০ শতাংশে। পাশের দেশগুলো যেখানেই মূল্যস্ফীতি ১–২ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, বাংলাদেশে এখনো পণ্যের দাম ৮ শতাংশের বেশি হারে বাড়ছে। তাই মানুষ মূল্যস্ফীতি কমলেও কোনো স্বস্তি পাচ্ছে না।
দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানে চাপ
তিন বছরে দারিদ্র্য বেড়ে ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। অতিদারিদ্র্যও ৫.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৩৫ শতাংশে উঠেছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, দুর্বল বিনিয়োগ পরিবেশ—সব মিলিয়ে কর্মসংস্থান বাড়ছে না, উল্টো কমছে।
বেসরকারি বিনিয়োগেও স্থবিরতা
ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন—৬.৩৫ শতাংশে নেমেছে। ফলে চাকরির সুযোগ কমছে, বেতন বাড়ানোর পরিবেশও নেই।
তাহলে কী করা জরুরি?
শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লেই সমস্যার সমাধান নয়
বেসরকারি খাতেও বেতন কাঠামো উন্নয়নে প্রণোদনা দিতে হবে
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি, রাজস্ব নীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বয় জরুরি
রেশনিং বা সরাসরি বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ বাড়াতে হবে
রাজস্ব আদায় জোরদার করা ছাড়া টেকসই বেতন বৃদ্ধি সম্ভব নয়
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো প্রয়োজন—এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম বরাদ্দ, দুর্বল রাজস্ব পরিস্থিতির মধ্যে শুধু পে স্কেল ঘোষণা করলেই সাধারণ মানুষের জীবন সহজ হবে না। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল না করলে উন্নয়ন, গণতন্ত্র কিংবা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত—কিছুই টেকসই হবে না।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- সেপ্টেম্বরে নবম পে স্কেলের গেজেট, অক্টোবর থেকে নতুন বেতন
- ২৬ আগস্টের সরকারি ছুটি, যারা পাবেন না
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ২৩ আগস্ট ২০২৬
- সেপ্টেম্বরে নবম পে স্কেলের গেজেট, অক্টোবরে নতুন বেতন
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ভরিতে বাড়ল ৫,৪৮২ টাকা
- সনি নতুন Xperia ফোন আনছে, আসছে Xperia 10 VIII
- চলতি সপ্তাহেই মিলবে টানা ৪ দিনের ছুটি, যেভাবে
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর; ২৪ আগস্ট ২০২৬
- টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ইতিহাসের সেরা অবস্থানে বাংলাদেশ
- ৯০ মিনিটের খেলা শেষ; ইন্টার মায়ামি বনাম টরন্টো এফসি, জানুন ফলাফল
- আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স কবে আসছে, জানুন সম্ভাব্য সময়
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬
- গুগল প্রতি মিনিটে কত টাকা আয় করে জানেন
- ৯০০০mAh ব্যাটারি ও Snapdragon 6s Gen 4-এ আসছে POCO X8 5G
