বিশ্বের সবচেয়ে দামি ৫ বাইক, দাম ও ফিচার
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষের কাছে মোটরসাইকেল যাতায়াতের বাহন। তবে কিছু মানুষের কাছে এটি বিলাসিতা, প্রযুক্তি, গতি এবং সংগ্রহের শখের প্রতীক। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে সীমিত সংস্করণের এমন কিছু মোটরসাইকেল, যেগুলোর দাম কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।
১. ARCH Method 143
প্রকাশিত দাম: প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার
বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল সীমিত সংস্করণের মোটরসাইকেল। হলিউড অভিনেতা কিয়ানু রিভসের সহপ্রতিষ্ঠিত ARCH Motorcycle এই বাইক তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মাত্র ২৩টি ইউনিট তৈরি করা হয়েছে।
বাইকটিতে রয়েছে ২ হাজার ৩৪৩ সিসির V-Twin ইঞ্জিন। এর চ্যাসিস তৈরি করা হয়েছে কার্বন ফাইবার দিয়ে। পাশাপাশি বডিতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ও উন্নত মানের চামড়া। ক্রেতার শারীরিক গঠন ও পছন্দ অনুযায়ী বাইকটির আসন ও নকশায় পরিবর্তনের সুযোগও রয়েছে।
বিশেষ ফিচার:
-
২,৩৪৩ সিসির V-Twin ইঞ্জিন
-
কার্বন ফাইবার মনোকক চ্যাসিস
-
উন্নত মানের অ্যালুমিনিয়াম ও চামড়ার ব্যবহার
-
মাত্র ২৩টি ইউনিট উৎপাদন
-
ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী কাস্টম ফিটিং
২. Ducati Superleggera V4 Centenario Tricolore
প্রকাশিত দাম: প্রায় ২ লাখ ইউরো
ইতালির বিখ্যাত নির্মাতা Ducati-র এই মোটরসাইকেলটি প্রতিষ্ঠানটির শতবর্ষ উপলক্ষে তৈরি বিশেষ সংস্করণ। মাত্র ১০০টি ইউনিটের Tricolore সংস্করণ বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাইকটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর অত্যাধুনিক রেসিং প্রযুক্তি। এতে রয়েছে কার্বন ফাইবারের ফ্রেম, সুইংআর্ম ও সাবফ্রেম। পাশাপাশি ব্যবহার করা হয়েছে রোড-লিগ্যাল কার্বন-সিরামিক ব্রেক এবং কার্বন ফাইবারের সামনের ফর্ক।
Ducati জানিয়েছে, রোড ব্যবহারের কনফিগারেশনে বাইকটির ক্ষমতা ২২৮ হর্সপাওয়ার। রেসিং কনফিগারেশনে তা ২৪৭ হর্সপাওয়ার পর্যন্ত হতে পারে।
বিশেষ ফিচার:
-
শক্তিশালী V4 ইঞ্জিন
-
কার্বন ফাইবার চ্যাসিস
-
কার্বন-সিরামিক ব্রেক
-
কার্বন ফাইবার ফ্রন্ট ফর্ক
-
উন্নত অ্যারোডাইনামিক উইং
-
সীমিত উৎপাদনের বিশেষ সংস্করণ
৩. Honda RC213V-S
প্রকাশিত প্রারম্ভিক দাম: প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার মার্কিন ডলার
Honda RC213V-S তৈরি করা হয়েছিল MotoGP রেসিং বাইকের প্রযুক্তি সাধারণ সড়কে চালানোর উপযোগী করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে। এটি Honda-র অন্যতম ব্যয়বহুল ও বিশেষ মোটরসাইকেল।
বাইকটিতে রয়েছে ৯৯৯ সিসির লিকুইড-কুলড V4 ইঞ্জিন। সাধারণ রোড সংস্করণে এর সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১৫৯ PS। তবে আলাদা স্পোর্টস কিট ব্যবহার করলে ট্র্যাকের জন্য ক্ষমতা ২১৫ PS-এর বেশি হতে পারে।
এর ডিজাইন ও প্রযুক্তিতে MotoGP বাইকের প্রভাব স্পষ্ট। সীমিত উৎপাদন, উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং এবং রেসিং প্রযুক্তির কারণে বাইকটি সংগ্রাহকদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণীয়।
বিশেষ ফিচার:
-
৯৯৯ সিসির V4 ইঞ্জিন
-
রোড সংস্করণে ১৫৯ PS ক্ষমতা
-
ঐচ্ছিক স্পোর্টস কিটে ২১৫ PS-এর বেশি ক্ষমতা
-
ছয় গতির গিয়ারবক্স
-
MotoGP প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত ডিজাইন
-
বিশেষায়িত রেসিং উপযোগী যন্ত্রাংশ
৪. Ducati Panigale V4 S 100
প্রকাশিত দাম: প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ইউরো
Ducati-র শতবর্ষ উদ্যাপনের বিশেষ সংগ্রহের অংশ Panigale V4 S 100। এটি সাধারণ সুপারবাইকের তুলনায় আরও বেশি এক্সক্লুসিভ এবং উন্নত যন্ত্রাংশে তৈরি।
বাইকটিতে রয়েছে শক্তিশালী V4 ইঞ্জিন। এর ক্ষমতা প্রায় ২১৬ হর্সপাওয়ার। হালকা ওজন ধরে রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে কার্বন ফাইবারের বিভিন্ন অংশ। পাশাপাশি রয়েছে টাইটানিয়ামের এক্সহস্ট, উন্নত ব্রেকিং ব্যবস্থা এবং রেসিং প্রযুক্তির সাসপেনশন।
বিশেষ ফিচার:
-
প্রায় ২১৬ হর্সপাওয়ার ক্ষমতা
-
কার্বন ফাইবারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ
-
টাইটানিয়াম এক্সহস্ট
-
উন্নত রেসিং সাসপেনশন
-
বিশেষ শতবর্ষ সংস্করণের নকশা
-
সীমিত সংখ্যায় উৎপাদন
৫. Ducati Panigale V4 Lamborghini
প্রকাশিত দাম: প্রায় ৮৬ হাজার ৯৫০ ইউরো
ইতালির দুই বিখ্যাত ব্র্যান্ড Ducati ও Lamborghini-র যৌথ উদ্যোগের ফল Panigale V4 Lamborghini। বাইকটির নকশায় Lamborghini-র সুপারকারের প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে এর বডি ডিজাইন, রং এবং কার্বন ফাইবারের ব্যবহার একে আলাদা করেছে।
এতে রয়েছে ১ হাজার ১০৩ সিসির Desmosedici Stradale V4 ইঞ্জিন। বাজারভেদে এর ক্ষমতা ২০৯ থেকে ২১৮.৫ হর্সপাওয়ার পর্যন্ত। বাইকটিতে ছয় গতির গিয়ারবক্স, উন্নত ইলেকট্রনিক সাসপেনশন এবং বিভিন্ন রাইডিং সহায়ক প্রযুক্তি রয়েছে।
বিশেষ ফিচার:
-
১,১০৩ সিসির V4 ইঞ্জিন
-
বাজারভেদে সর্বোচ্চ ২১৮.৫ হর্সপাওয়ার
-
ছয় গতির গিয়ারবক্স
-
কার্বন ফাইবারের বডি পার্টস
-
Öhlins ইলেকট্রনিক সাসপেনশন
-
ট্র্যাকশন কন্ট্রোল ও হুইলি কন্ট্রোল
কেন এত দাম এসব মোটরসাইকেলের?
এসব মোটরসাইকেলের দাম বেশি হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, এগুলোর অনেকগুলোই সীমিত সংখ্যায় তৈরি হয়। ফলে সাধারণ বাইকের মতো ব্যাপক উৎপাদনের সুবিধা পাওয়া যায় না।
দ্বিতীয়ত, কার্বন ফাইবার, টাইটানিয়াম, উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম এবং রেসিং প্রযুক্তির মতো ব্যয়বহুল উপকরণ ব্যবহার করা হয়। তৃতীয়ত, অনেক বাইক ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী হাতে তৈরি বা বিশেষভাবে কাস্টমাইজ করা হয়।
তাই এসব মোটরসাইকেলের দাম শুধু ইঞ্জিনের ক্ষমতা বা সর্বোচ্চ গতির ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে প্রযুক্তি, নকশা, উৎপাদনসংখ্যা এবং সংগ্রহযোগ্যতার মূল্য।
আশা/
