| ঢাকা, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

বন্ধ হচ্ছে টু-জি নেটওয়ার্ক, বন্ধ হয়ে যেতে পারে বাটন ফোন

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ নভেম্বর ০৬ ২১:৪৯:১৭
বন্ধ হচ্ছে টু-জি নেটওয়ার্ক, বন্ধ হয়ে যেতে পারে বাটন ফোন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে ধীরে ধীরে বন্ধ হতে পারে টু-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক। আগামী তিন বছরের মধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে শুধু টু-জি সমর্থিত বাটন ফোনে আর প্রচলিত মোবাইল নম্বরে কল করা সম্ভব হবে না। তবে ভোল্টি (VoLTE) প্রযুক্তি সমর্থিত বাটন ফোনে আগের মতোই কথা বলা যাবে।

বিটিআরসির হিসাবে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ কোটি ১৩ লাখ টু-জি ফোন ব্যবহার করছেন গ্রাহকেরা। এসব ফোনের বড় একটি অংশে ফোরজি নেটওয়ার্কে সরাসরি ভয়েস কল করার প্রযুক্তি নেই। ফলে টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে বিপুলসংখ্যক গ্রাহককে বিকল্প ফোন ব্যবহার করতে হতে পারে।

মোবাইল অপারেটর, হ্যান্ডসেট উৎপাদকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর বিটিআরসি ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধের একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে।

প্রস্তাবিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের পর নতুন কোনো টু-জি হ্যান্ডসেটের মডেল অনুমোদন না দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের পর টু-জি ফোন উৎপাদন এবং একই বছরের ৩০ জুনের পর এসব ফোন বাজারজাতকরণ বন্ধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সবশেষে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে টু-জি সেবা বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ।

টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলেই সব বাটন ফোন অচল হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। যেসব বাটন ফোনে ফোরজি নেটওয়ার্ক ও VoLTE সুবিধা রয়েছে, সেগুলো দিয়ে সরাসরি মোবাইল নম্বরে কল করা যাবে।

অন্যদিকে, যেসব ফোন শুধু টু-জি নেটওয়ার্ক সমর্থন করে, সেগুলোতে নেটওয়ার্ক বন্ধের পর প্রচলিত ভয়েস কল করা সম্ভব হবে না। কারণ, এসব ফোনে ফোরজি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সক্ষমতা নেই।

VoLTE-এর পূর্ণরূপ Voice over Long-Term Evolution। এই প্রযুক্তিতে টু-জি বা থ্রি-জি নেটওয়ার্কের পরিবর্তে ফোরজি বা LTE নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভয়েস কল করা যায়।

এর বড় সুবিধা হলো, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো ইন্টারনেটভিত্তিক কলিং অ্যাপ ছাড়াই সরাসরি মোবাইল নম্বরে কথা বলা যায়। তবে ফোনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে VoLTE সেবা চালু থাকতে হবে।

গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলেও গ্রাহকেরা মোবাইলে কথা বলতে পারবেন। তখন VoLTE প্রযুক্তি অথবা হোয়াটসঅ্যাপের মতো ওটিটি অ্যাপ ব্যবহার করে কল করা যাবে।

বর্তমানে দেশের বাজারে প্রায় ৯০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে সাধারণ বাটন ফোন পাওয়া যায়। এসব ফোনে কল করার পাশাপাশি টর্চ লাইট, এফএম রেডিও ও মেমোরি কার্ড থেকে গান শোনার মতো সুবিধা থাকে।

অন্যদিকে, ফোরজি স্মার্টফোনের দাম তুলনামূলক বেশি। ফলে শুধু কথা বলা বা সাধারণ কিছু কাজের জন্য ফোন ব্যবহার করেন, এমন গ্রাহকদের জন্য নতুন ফোন কেনা বাড়তি খরচের কারণ হতে পারে।

বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ এবং টাচস্ক্রিন ব্যবহারে অভ্যস্ত নন, এমন গ্রাহকদের কাছে বাটন ফোন এখনো সহজ ও পরিচিত মাধ্যম। তাই টু-জি থেকে ফোরজিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী বাটন ফোনের বিকল্প রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলমের মতে, শুধু টু-জি সমর্থিত ফোনের উৎপাদন বন্ধ হলে ধীরে ধীরে গ্রাহকেরা আধুনিক নেটওয়ার্কে চলে আসবেন। তাঁর ধারণা, ২০৩০ সাল নাগাদ মানুষের হাতে এ ধরনের ফোনের সংখ্যা অনেক কমে আসবে।

অন্যদিকে, দেশীয় হ্যান্ডসেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিম্ফনির স্বত্বাধিকারী এডিসন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এমআইওএবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ মনে করেন, ভয়েস ও ডেটা সুবিধাসহ আকর্ষণীয় প্যাকেজ এবং কিস্তিতে ফোন কেনার সুযোগ দিলে ফোরজি ফোনের ব্যবহার বাড়তে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকেও কম দামে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬ সম্মেলনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভুঁঞা জানান, দেশে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিটিআরসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, টু-জি সেবা বন্ধের লক্ষ্য ২০২৯ সালের ডিসেম্বর। তাই এখনই সব বাটন ফোন বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। তবে নতুন ফোন কেনার আগে সেটি ফোরজি নেটওয়ার্ক এবং VoLTE সমর্থন করে কি না, তা যাচাই করা ভালো।

বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন বাটন ফোন ব্যবহার করতে চান, তাঁদের জন্য VoLTE সুবিধাসম্পন্ন ফোরজি বাটন ফোন একটি বিকল্প হতে পারে। এতে স্মার্টফোন ব্যবহার না করেও ভবিষ্যতে সরাসরি মোবাইল নম্বরে কল করার সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

তবে টু-জি বন্ধের পরিকল্পনা চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার আগে বিটিআরসির পরবর্তী নির্দেশনা ও সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখা জরুরি।

সিদ্দিকা/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন সাদমান, বড় দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ

স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন সাদমান, বড় দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সকালটা বাংলাদেশের জন্য একদিকে যেমন স্বস্তির, অন্যদিকে তেমনই দুশ্চিন্তার। ...

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছেন ...

ফুটবল

আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ কবে, বাংলাদেশ সময় কখন; জেনে নিন

আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ কবে, বাংলাদেশ সময় কখন; জেনে নিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক ফুটবলে আবারও মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে ...

অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন মেসি-জিদান, আরও যারা

অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন মেসি-জিদান, আরও যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেই যে জাতীয় দলের দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ ...