| ঢাকা, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

ওয়ারিশ সনদ কোথা থেকে পাওয়া যায়, আবেদনে কী কী কাগজ লাগে

জাতীয় ডেস্ক . বিনোদন৬৯.কম
২০২৬ নভেম্বর ০৬ ২০:৪৩:২৭
ওয়ারিশ সনদ কোথা থেকে পাওয়া যায়, আবেদনে কী কী কাগজ লাগে

নিজস্ব প্রতিবেদক: পরিবারের কোনো সদস্য মারা গেলে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি, জমি, ব্যাংকের টাকা কিংবা অন্যান্য অধিকার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনের ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। বিশেষ করে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারি, ব্যাংকের কিছু দাবি নিষ্পত্তি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কাজে এ সনদ প্রয়োজন হতে পারে। তবে অনেকেই জানেন না, ওয়ারিশ সনদ কোথা থেকে সংগ্রহ করতে হয় এবং আবেদন করতে কী কী কাগজপত্র লাগে।

বাংলাদেশে সাধারণত মৃত ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা অথবা সিটি করপোরেশন থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করা যায়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য যাচাই করে সনদ প্রদান করেন।

ওয়ারিশ সনদ কোথা থেকে পাওয়া যায়?

মৃত ব্যক্তির বসবাসের এলাকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হয়। যেমন—

  • গ্রামাঞ্চলে: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হয়। সাধারণত সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হয়।

  • পৌরসভা এলাকায়: সংশ্লিষ্ট পৌরসভার মেয়র বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে যাচাই করা হয়।

  • সিটি করপোরেশন এলাকায়: সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় বা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত সেবা কেন্দ্রে আবেদন করা যায়।

সাধারণত মৃত ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানার আওতাধীন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকেই সনদ সংগ্রহ করতে হয়। তবে ঠিকানা বা বসবাসের তথ্য নিয়ে জটিলতা থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিষদ বা কার্যালয়ে আগে যোগাযোগ করা ভালো।

ওয়ারিশ সনদের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে?

ওয়ারিশ সনদের আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণত নিচের নথিগুলো প্রস্তুত রাখতে হয়—

১. মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ: যাঁর ওয়ারিশ সনদ প্রয়োজন, তাঁর মৃত্যু নিবন্ধন সনদের কপি।

২. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র: আবেদনকারীর এনআইডি কার্ডের ফটোকপি। এনআইডি না থাকলে জন্মনিবন্ধন বা গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র লাগতে পারে।

৩. মৃত ব্যক্তির পরিচয়পত্র: মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের কপি, যদি পাওয়া যায়।

৪. সব ওয়ারিশের পরিচয়পত্র: প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি।

৫. ওয়ারিশদের তালিকা: মৃত ব্যক্তির সব বৈধ উত্তরাধিকারীর নাম, বয়স, সম্পর্ক ও প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য।

৬. আবেদনকারীর ছবি: কিছু ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনে পাসপোর্ট সাইজের ছবি চাওয়া হতে পারে।

৭. ঠিকানার প্রমাণ: প্রয়োজনে নাগরিকত্বের প্রমাণ, হোল্ডিং ট্যাক্স বা চৌকিদারি করের রসিদ, বিদ্যুৎ বিল কিংবা অন্য কোনো ঠিকানার প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।

৮. সাক্ষী বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়ন: কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় সাক্ষীর স্বাক্ষর এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য বা কাউন্সিলরের সুপারিশ প্রয়োজন হয়।

সব ক্ষেত্রে সব কাগজ বাধ্যতামূলক নয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত কাগজপত্রের তালিকা জেনে নেওয়া উচিত।

ওয়ারিশ সনদের জন্য আবেদন করবেন যেভাবে

ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার জন্য সাধারণত সরাসরি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা যায়। অনেক এলাকায় অনলাইনেও আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

প্রথম ধাপ: সংশ্লিষ্ট কার্যালয় নির্বাচন

মৃত ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন, সেই প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করুন।

দ্বিতীয় ধাপ: আবেদন ফরম সংগ্রহ

সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে ওয়ারিশ সনদের আবেদন ফরম সংগ্রহ করুন। অনলাইন আবেদন চালু থাকলে নির্ধারিত সরকারি বা স্থানীয় সেবা পোর্টাল থেকেও আবেদন করা যেতে পারে।

তৃতীয় ধাপ: ওয়ারিশদের তথ্য পূরণ

আবেদন ফরমে মৃত ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, মৃত্যুর তথ্য এবং তাঁর সব বৈধ উত্তরাধিকারীর নাম ও সম্পর্ক উল্লেখ করুন। কোনো উত্তরাধিকারীর নাম বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

চতুর্থ ধাপ: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা

মৃত্যু সনদ, আবেদনকারীর পরিচয়পত্র, ওয়ারিশদের এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় নথির ফটোকপি সংযুক্ত করুন।

পঞ্চম ধাপ: তথ্য যাচাই

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য, কাউন্সিলর বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদন ও ওয়ারিশদের তথ্য যাচাই করতে পারেন। প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নেওয়া হতে পারে।

ষষ্ঠ ধাপ: সনদ সংগ্রহ

যাচাই শেষে আবেদন অনুমোদিত হলে নির্ধারিত নিয়মে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন। সনদে মৃত ব্যক্তির পরিচয় এবং উত্তরাধিকারীদের তথ্য সঠিক আছে কি না, তা ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।

হ্যাঁ, দেশের কিছু এলাকায় অনলাইনে ওয়ারিশ সনদের আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনলাইন সেবা পোর্টাল অথবা সরকারের ‘প্রত্যয়ন’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেবা পাওয়া যেতে পারে।

প্রত্যয়ন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন নাগরিক সনদের আবেদন ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সব এলাকার জন্য একইভাবে অনলাইন আবেদন চালু আছে, এমন নয়। আপনার এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন এ সেবা দিচ্ছে কি না, তা আগে যাচাই করতে হবে।

প্রত্যয়ন ওয়েবসাইট: https://prottoyon.gov.bd/

ওয়ারিশ সনদের জন্য সারা দেশে একই নির্দিষ্ট ফি প্রযোজ্য, এমন কোনো একক ফি-তালিকা পাওয়া যায় না। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ফি, সেবা চার্জ এবং প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী খরচ ভিন্ন হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো কোনো ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সনদ বা সেবা চার্টারে ওয়ারিশ সনদের জন্য নির্দিষ্ট ফি উল্লেখ থাকে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের নির্ধারিত ফি জেনে নিন এবং টাকা জমা দিলে রসিদ সংগ্রহ করুন।

সনদ দেওয়ার সময়সীমাও প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সুপারিশ এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সম্পন্ন হলে সনদ দেওয়া হয়।

কাগজপত্রে ভুল থাকলে, কোনো ওয়ারিশের তথ্য বাদ পড়লে অথবা ঠিকানা যাচাইয়ে সমস্যা হলে সময় বেশি লাগতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া জরুরি।

কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তাঁর নামে থাকা জমি উত্তরাধিকারীদের নামে নামজারি করতে হলে ওয়ারিশদের পরিচয় ও সম্পর্কের তথ্য প্রমাণের জন্য ওয়ারিশ সনদ প্রয়োজন হয়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি ব্যবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সব বৈধ ওয়ারিশের তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করা জরুরি। কোনো ওয়ারিশের নাম বাদ পড়লে নামজারি প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া ওয়ারিশরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে আলাদা খতিয়ান করতে চাইলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত বণ্টননামার প্রয়োজন হতে পারে।

না, ওয়ারিশ সনদ এবং সাকসেশন সার্টিফিকেট এক ধরনের নথি নয়।

ওয়ারিশ সনদ সাধারণত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া হয়। এতে মৃত ব্যক্তির পরিচয় এবং তাঁর উত্তরাধিকারীদের তথ্য উল্লেখ থাকে।

অন্যদিকে, সাকসেশন সার্টিফিকেট আদালতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ধরনের দেনা ও সিকিউরিটিজ বা আর্থিক সম্পদ আদায়ের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নেওয়া হয়। ব্যাংকের টাকা বা অন্যান্য আর্থিক দাবি নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেট চাইতে পারে।

তাই কোনো কাজে শুধু ওয়ারিশ সনদ যথেষ্ট হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।

ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করতে হলে প্রথমে মৃত ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানার আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা অথবা সিটি করপোরেশনে যোগাযোগ করতে হবে। সাধারণত মৃত্যু সনদ, আবেদনকারীর পরিচয়পত্র, সব ওয়ারিশের এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন এবং ওয়ারিশদের তালিকা প্রয়োজন হয়।

তবে এলাকার নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন করার সময় মৃত ব্যক্তির সব বৈধ উত্তরাধিকারীর নাম ও তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ করা। এতে জমির নামজারি, সম্পত্তি বণ্টন কিংবা অন্যান্য উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত কাজে ভবিষ্যৎ জটিলতা কমানো সম্ভব।

সোহাগ/

আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ

ক্রিকেট

স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন সাদমান, বড় দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ

স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন সাদমান, বড় দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের সকালটা বাংলাদেশের জন্য একদিকে যেমন স্বস্তির, অন্যদিকে তেমনই দুশ্চিন্তার। ...

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

বিগ ব্যাশে প্রথমবার মুস্তাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছেন ...

ফুটবল

আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ কবে, বাংলাদেশ সময় কখন; জেনে নিন

আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ কবে, বাংলাদেশ সময় কখন; জেনে নিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক ফুটবলে আবারও মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে ...

অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন মেসি-জিদান, আরও যারা

অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন মেসি-জিদান, আরও যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেই যে জাতীয় দলের দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ ...