ডিসেম্বরেই নতুন পে স্কেলে বেতন পেতে পারেন এমপিও শিক্ষকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের উদ্যোগের মধ্যে এমপিও শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য অতিরিক্ত ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।
মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই নতুন পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেতে পারেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তবে নির্ধারিত সময়ে অর্থ বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে নতুন বেতন কার্যকর হতে জানুয়ারি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এদিকে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়ার মধ্যেই তাদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ সামনে এসেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পাঠানো চিঠি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে।
এর মধ্যে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং বেসরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ৭৩৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে।
গত রোববার অর্থ বিভাগে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তাদের নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিতে এই অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন পে স্কেলে বেতন দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ডিসেম্বরকে লক্ষ্য ধরে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত অর্থ ছাড়ের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক চীন সফরে থাকাকালে অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা করেন।
আলোচনার পর অতিরিক্ত অর্থ ছাড়ের বিষয়ে মৌখিক সম্মতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। চলতি নভেম্বরের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র পাওয়ার আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
তবে অর্থ বরাদ্দ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন পাওয়া নিশ্চিত নয়। কোনো কারণে ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা সম্ভব না হলে জানুয়ারি মাসে নতুন স্কেলে বেতন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত ১ নভেম্বর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শিগগিরই নতুন পে স্কেলের আওতায় আসবেন।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন বেতন কার্যকরের নির্দিষ্ট তারিখ এবং বেতন নির্ধারণের বিস্তারিত বিষয় আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থ বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো চিঠিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থের হিসাব দেওয়া হয়েছে।
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে। তবে কার বেতন কত বাড়বে, কোন গ্রেডে কত টাকা পাওয়া যাবে এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশের পর জানা যাবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৩ হাজার ২৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠানোকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক সম্মতি এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের পথ আরও পরিষ্কার হবে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ডিসেম্বর মাসে নতুন স্কেলে বেতন পেতে পারেন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। আর নির্ধারিত সময়ে প্রক্রিয়া শেষ না হলে অপেক্ষা বাড়তে পারে জানুয়ারি পর্যন্ত। তাই এখন শিক্ষক-কর্মচারীদের নজর অর্থ বরাদ্দের চূড়ান্ত অনুমোদন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী প্রজ্ঞাপনের দিকে।
সোহাগ/
