দেশে আজ ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট সোনার দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে সোনার দাম আরও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। ২১ ও ১৮ ক্যারেটের দামও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
বিয়ের মৌসুম কিংবা বিশেষ উপলক্ষে গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। তাঁদের জন্য নতুন করে সোনার দাম বাড়ার খবরটি গুরুত্বপূর্ণ। বাজুসের সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম আগের দিনের তুলনায় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বেড়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বাড়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কত?
বাজুসের ৫ নভেম্বরের সর্বশেষ ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম হলো:
-
২২ ক্যারেট: ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা
-
২১ ক্যারেট: ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা
-
১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা
-
সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা
এক ভরি সোনার ওজন ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম। ৪ নভেম্বর ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে এই মানের সোনার দাম ভরিতে বেড়েছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।
গয়না কিনতে কি শুধু সোনার দামই দিতে হবে?
না। সোনার নির্ধারিত দামের পাশাপাশি গয়না তৈরির মজুরি দিতে হয়। ডিজাইন, নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী মজুরি কমবেশি হতে পারে।
এ ছাড়া গয়না কেনার সময় প্রযোজ্য ভ্যাটের বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে। বাজুসের ঘোষিত মূল্যতালিকায় ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলা হলেও কেনার সময় দোকানের রসিদে মূল্য, মজুরি ও ভ্যাটের হিসাব আলাদা করে দেখে নেওয়া ভালো।
পুরোনো সোনা বদলালে কত টাকা বাদ যাবে?
পুরোনো গয়না পরিবর্তন বা এক্সচেঞ্জ করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মে সোনার মূল্যের ওপর কর্তন করা হয়। বাজুসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, পুরোনো গয়না এক্সচেঞ্জে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো সোনা সরাসরি বিক্রি বা কিনে নেওয়ার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে গয়নার মজুরি ও পাথরের মূল্য হিসাবের বাইরে রেখে চূড়ান্ত হিসাব করতে হয়। তাই পুরোনো গয়না বদলানোর আগে দোকান থেকে লিখিত হিসাব নেওয়া উচিত।
সোনার দাম কেন বাড়ছে?
বাংলাদেশে সোনার দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার মূল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় সরবরাহ ও চাহিদাও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজুস বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সোনার দাম সমন্বয় করে। ফলে একবার দাম নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা পরিবর্তিত হতে পারে।
গয়না কেনার আগে যা মনে রাখবেন
সোনার গয়না কেনার আগে বাজুসের সর্বশেষ মূল্যতালিকা যাচাই করুন। পাশাপাশি কত ক্যারেটের সোনা কিনছেন, গয়নার ওজন কত, মজুরি কত এবং ভ্যাটের হিসাব কীভাবে করা হয়েছে, তা রসিদে মিলিয়ে নিন।
বিশেষ করে পুরোনো গয়না পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কত শতাংশ কর্তন করা হচ্ছে, সেটিও আগে জেনে নেওয়া জরুরি। এতে কেনাকাটার সময় অতিরিক্ত খরচ বা হিসাবের ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো সম্ভব হবে।
রাকিব/
