সারা দেশে দুই দিন বন্ধ থাকবে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি
নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশে টানা দুই দিন এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড। কোম্পানিগুলোর ইচ্ছামতো দাম বৃদ্ধি, পুলিশের হয়রানি এবং অযৌক্তিক জরিমানার প্রতিবাদে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন খুচরা পর্যায়ের এলপিজি ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মো. সেলিম খান এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশের এলপিজি বিক্রির দোকানগুলো বন্ধ থাকবে। ফলে ওই দুই দিন খুচরা বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন গ্রাহকেরা।
কেন ধর্মঘটের ডাক ব্যবসায়ীদের?
সংবাদ সম্মেলনে মো. সেলিম খান অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু নির্ধারিত মূল্য কার্যকরের কয়েক দিনের মধ্যেই বেশ কয়েকটি কোম্পানি নিজেদের ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দেয়। এতে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন এবং বাজারে মূল্য নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোম্পানিগুলোর এমন আচরণের কারণে ব্যবসায়ীরা আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন। এ পরিস্থিতির সমাধান এবং ব্যবসার পরিবেশ স্বাভাবিক করার দাবিতে তারা ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পরিবহন ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ
এলপিজি সিলিন্ডার পরিবহনের সময় গাড়িতে নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকা বাধ্যতামূলক। তবে এই নিয়ম মানার পরও পুলিশ বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে এবং হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন সংগঠনটির সভাপতি।
তার দাবি, এ বিষয়ে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
জরিমানা ও মালামাল জব্দ নিয়ে ক্ষোভ
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানা করার প্রক্রিয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী নেতারা।
উদাহরণ হিসেবে সেলিম খান জানান, খুলনা-বাগেরহাট অঞ্চলে মাত্র ৪০টি অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত রাখার অভিযোগে এক পরিবেশককে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর মালামালও জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এলপিজি সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা
এলসি (ঋণপত্র) খোলার জটিলতার কারণে এলপিজি সরবরাহেও সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাঁদের ভাষ্য, বর্তমানে অল্প কয়েকটি কোম্পানি কার্যক্রম চালাচ্ছে। অথচ বিপুলসংখ্যক খালি সিলিন্ডার পড়ে রয়েছে, যা যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলপিজি আমদানি, সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের ঘোষিত ধর্মঘটের কারণে দুই দিন সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকলে বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হতে পারে। তাই গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত সমঝোতা জরুরি।
সোহাগ/
