স্মার্টফোন বাজারে নতুন যুদ্ধ: হুয়াওয়েকে টেক্কা দিতে শাওমি ও স্যামসাংয়ের ‘ট্রাই-ফোল্ড’ উন্মাদনা
টেক ডেস্ক: স্মার্টফোনের বাজারে ফোল্ডেবল (ভাঁজ করা) ফোনের জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রযুক্তি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে শুরু করেছে তিনটি ভাঁজ বিশিষ্ট বা ট্রাই-ফোল্ড (Tri-Fold) স্মার্টফোন। চীনের বাজারে হুয়াওয়ের একের পর এক ট্রাই-ফোল্ড ফোন আনার পর, এবার বিশ্ববাজারে এই আধিপত্য কাড়তে বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে টেক জায়ান্ট শাওমি (Xiaomi) এবং স্যামসাং (Samsung)। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ এবং ২০২৭ সাল হতে যাচ্ছে ট্রাই-ফোল্ড ফোনের আসল লড়াইয়ের বছর।
হুয়াওয়ের একচ্ছত্র রাজত্বে বড় ধাক্কা
বিশ্বের প্রথম ট্রাই-ফোল্ড ফোন বাজারে এনে চমক দিয়েছিল হুয়াওয়ে। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তারা চীনের বাজারে তাদের নতুন ট্রাই-ফোল্ড ফোনটি আনার ঘোষণা দিয়েছে, যা খুব শীঘ্রই গ্লোবাল বা আন্তর্জাতিক বাজারেও পা রাখতে যাচ্ছে। এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে তাদের শক্তিশালী Kirin 9050 Pro চিপসেট এবং চোখ ধাঁধানো ১০.২ ইঞ্চির বিশাল ডিসপ্লে। কিন্তু হুয়াওয়েকে এই বাজারে আর একাকী রাজত্ব করতে দিতে রাজি নয় প্রতিদ্বন্দী ব্র্যান্ডগুলো।
শাওমির গোপন অস্ত্র: ‘মিক্স ট্রাই-ফোল্ড’ (MIX Tri-Fold)
হুয়াওয়েকে সরাসরি টক্কর দিতে শাওমি তাদের নিজস্ব ট্রাই-ফোল্ড ফোন নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সম্প্রতি GSMA সার্টিফিকেশন ডেটাবেজে ‘2608BPX34C’ মডেল নম্বরের একটি রহস্যময় ডিভাইস দেখা গেছে, যা টেক পাড়ায় Xiaomi MIX Tri-Fold নামে গুঞ্জন তুলেছে। [3, 4]
* লিকস অনুযায়ী, শাওমির এই ফোনটি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি বা শেষার্ধে বাজারে আসতে পারে।
* এতে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৮ সিরিজের প্রসেসর এবং লাইকা (Leica) সমর্থিত ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ভাঁজ খোলার পর এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ট্যাবলেটের মতো স্ক্রিন প্রদান করবে। [4, 5, 6, 7]
স্যামসাংয়ের প্রিমিয়াম কামব্যাক
ফোল্ডেবল ফোনের জনক বলা চলে স্যামসাংকে। তারা তাদের প্রথম মাল্টি-ফোল্ডিং ফোন বাজারে আনার মাধ্যমে এই রেসে বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। সম্পূর্ণ উন্মোচন করলে এর ডিসপ্লে দাঁড়ায় ১০ ইঞ্চিতে এবং এটি স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট প্রসেসর দ্বারা চালিত। তবে রিপোর্ট অনুযায়ী, স্যামসাং বর্তমানে তাদের এই প্রযুক্তির পরবর্তী সংস্করণ আরও নিখুঁত ও সাশ্রয়ী করতে কাজ করছে, যা ২০২৭ সালের দিকে বাজারে আরও বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
ক্রেতাদের জন্য এই যুদ্ধের মানে কী?
বর্তমানে ট্রাই-ফোল্ড ফোনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর আকাশচুম্বী দাম (প্রায় ২,৫০০ থেকে ২,৮০০ ডলার বা তার বেশি) এবং ডিসপ্লের ভাঁজ বা ক্রিজ (Crease) দৃশ্যমান হওয়া। তবে শাওমি এবং স্যামসাং যখন পুরোদমে এই বাজারে প্রতিযোগিতা শুরু করবে, তখন প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি দামও সাধারণ গ্রাহকদের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপনার পকেটের সাধারণ স্মার্টফোনটি এক নিমিষেই ১০ ইঞ্চির ট্যাবলেটে রূপান্তর হওয়ার এই নতুন প্রযুক্তি আপনার কেমন লেগেছে?
আশা/
