নবম পে স্কেল চূড়ান্ত: গ্রেড ১৩ সর্বনিম্ন বেতন ৩২ হাজার
সরকারি চাকরিতে ২০ গ্রেড বাতিল: নতুন পে স্কেলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চূড়ান্ত রূপ নিতে যাচ্ছে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুতেই তিন ধাপে এই পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় বেতন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা রয়েছে, যা পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা ও বাজেট বরাদ্দ শেষে গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে।
কাঠামোগত বড় পরিবর্তন
প্রস্তাবিত এই বেতন কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের ২০টি গ্রেড প্রথা বিলুপ্ত করে সেগুলোকে মাত্র ১৩টি গ্রেডে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন এই কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৩২ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করে বিভিন্ন স্তরে বেতনের হার ৯০ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে কমিশন।
গ্রেড ভিত্তিক সম্ভাব্য বেতন তালিকা
সুপারিশকৃত কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-২ এর সম্ভাব্য বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪২৬ টাকা। এছাড়া গ্রেড-৫ এ ৮৩ হাজার ২০ টাকা এবং গ্রেড-১০ এ ৩০ হাজার ৮৯১ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। অপরদিকে, সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকা গ্রেড-২০ এর বেতন ১৫ হাজার ৯২৮ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। মূলত নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়ে বৈষম্য কমিয়ে আনাই এই নতুন কাঠামোর প্রধান লক্ষ্য।
কর্মচারী সংগঠনগুলোর আলটিমেটাম
পে স্কেল বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ১ জানুয়ারি থেকে লং মার্চসহ বড় ধরণের কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ।
অর্থনৈতিক সংশয় ও সম্ভাবনা
নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এটি একদিকে বাজারে মুদ্রার প্রবাহ বাড়িয়ে অর্থনীতিতে গতি আনবে, অন্যদিকে সরকারের বাজেটে বড় ধরণের চাপ তৈরি করবে। এছাড়া বেতন বৃদ্ধির ঘোষণার সাথে বাজারে দ্রব্যমূল্য বা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
দক্ষতা বৃদ্ধিতে নতুন মাত্রা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের শুরুতে এই পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান ও মনোবল বৃদ্ধি পাবে। বেতন বৈষম্য দূর হলে প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছ বাস্তবায়ন এবং সময়মতো গেজেট প্রকাশের ওপরই নির্ভর করছে এর চূড়ান্ত সাফল্য।
সিদ্দিকা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, জুলাই থেকেই বাড়তি বেতন
- ১ জুলাই থেকে কার্যকর নবম পে-স্কেল, বকেয়া বেতন কবে
- নবম পে-স্কেলে কোন ভাতা কত, দেখুন একনজরে
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- দেশে ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি!
- ৮ বছরেই উচ্চতর গ্রেড, নবম পে-স্কেলে যেসব সুবিধা মিলবে
- সোনার চেয়েও দামি আগরউড, ১ গ্রাম ১২ কোটি টাকা
- রূপপুরের প্রথম ইউনিট প্রস্তুত, পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ
- সাগরে লঘুচাপ, ৮ নদীবন্দরে সতর্কসংকেত
- দেশজুড়ে ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, কোথাও ভারী বর্ষণ
- নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন ৩৩ হাজার, সর্বোচ্চ কত
- এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
- পে-স্কেলে ১৫% বিশেষ সুবিধা বাতিল, যা বলছেন শিক্ষকরা
