সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
হাদির মৃত্যু ঘিরে উত্তাল বাংলাদেশ, যা যা ঘটছে
বিপ্লবী নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তাল বাংলাদেশ: দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতার চিত্র
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের পরিচিত মুখ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছে পুরো দেশ। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর এই বিপ্লবী নেতার শাহাদাত বরণের খবর আসার পর থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজপথে নেমে আসে হাজারো ছাত্র-জনতা। ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে সোচ্চার থাকা এই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের বিদায়ে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানী ঢাকার পরিস্থিতি
১৮ ডিসেম্বর রাত থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাব ও উত্তরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করলে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী এবং হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন। এই কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রশক্তি, ডাকসুর প্রতিনিধি এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা
হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তজনার রেশ ধরে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় পুনরায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়া কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রধান দুই সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে একদল বিক্ষোভকারী হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভবন দুটিতে ভাঙচুর করার পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করে, যার ফলে ভেতরে অনেক সংবাদকর্মী আটকা পড়েন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস তাদের উদ্ধার করে। এই ঘটনার সময় ডেইলি স্টার ভবনের সামনে হেনস্তার শিকার হন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক নূরুল কবীর।
রাজধানীর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রাজশাহীতে বিক্ষুব্ধ জনতা বুলডোজার দিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেয়। রংপুরে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে খামার মোড় এলাকায় জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনাসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে গভীর রাতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবরও পাওয়া গেছে। উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের মহাসড়কগুলোতে হাজার হাজার মানুষের অবস্থানের কারণে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।
শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু কেবল একটি প্রাণহানি নয়, বরং এটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। একদিকে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি, অন্যদিকে আধিপত্যবাদবিরোধী তীব্র জনমত—সব মিলিয়ে দেশ এক চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আজ সন্ধ্যায় হাদির মরদেহ দেশে আসার কথা রয়েছে এবং কাল পালিত হবে রাষ্ট্রীয় শোক।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা: ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের
- পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার নতুন বার্তা: প্রস্তুতি চূড়ান্ত
- নতুন পে-স্কেল নিয়ে এলো বড় আশার আলো
- ৪ লাখ ৬৮ হাজার প্রবাসীর ভোট সম্পন্ন: ফলাফল জানুন
- আজকের সোনার বাজারদর: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- আজকের সোনার বাজারদর: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- দেশের বাজারে আজকের স্বর্ণের দাম
- ৮ ফেব্রুয়ারি আসছে নতুন MVNO সিম; পাবেন যেসব সুবিধা
- নবম পে-স্কেল নিয়ে বড় বার্তা দিলেন সারজিস আলম
- সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা থাকছে না: সুখবর দিল জামায়াত
- ৬৪.৪ মিলিয়ন রুপিতে দল পেলেন মুস্তাফিজ
- নির্বাচনের পর কতদিন ক্ষমতায় থাকবে অন্তর্বর্তী সরকার
- নির্বাচন ও ঈদের লম্বা ছুটি: বেতন-বোনাস নিয়ে গভীর সংকট
- সোনার দামে বড় পতন: ভরি কত হল
- ১০ ফেব্রুয়ারি ছুটি নিয়ে নতুন নির্দেশনা
