আল্টিমেটামের শেষ দিন আজ: পে-স্কেল রিপোর্ট জমা নিয়ে যা জানা গেলো
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আজ, রবিবার (৩০ নভেম্বর), পে কমিশনের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য কর্মচারীদের দেওয়া আল্টিমেটামের শেষ দিন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কমিশনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।
কমিশনের অগ্রগতি ও সময়সীমা
গত জুলাইয়ের শেষে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে চেয়ারম্যান করে ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন গঠিত হয়। প্রজ্ঞাপনে প্রথম সভার তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় কমিশন অনলাইন মতামত গ্রহণ ও বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনসহ সচিবদের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক সম্পন্ন করেছে।
২৪ ও ২৬ নভেম্বর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, আলোচনা ‘ফলপ্রসূ’ হলেও কয়েকজন সচিব অনুপস্থিত থাকায় আবারও বৈঠকের প্রয়োজন হতে পারে। সুপারিশ জমা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, "খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই রিপোর্ট দিতে পারব বলে আশা করছি।"
কর্মচারীদের আল্টিমেটাম: ডিসেম্বরেই মহাসমাবেশ
কমিশনের এই ধীরগতি ও অস্পষ্টতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনগুলো চরম ক্ষুব্ধ। প্রায় ১২টি কর্মচারী সংগঠন (১১-২০ গ্রেডের ফোরামসহ শিক্ষক, দপ্তরি, গাড়িচালক, রেলওয়ে কর্মচারী) ইতোমধ্যে যৌথ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে।
তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে:
* ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হলে এবং
* ১ জানুয়ারি থেকে নতুন স্কেল কার্যকর না হলে,
কর্মচারীরা কর্মবিরতি, জেলায় জেলায় বিক্ষোভ এবং ঢাকায় মহাসমাবেশসহ কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবিরের মন্তব্য, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সুপারিশ জমা না হলে চাপ আরও বাড়ানো হবে।
রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ও ক্ষোভ
অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা প্রথমে বলেছিলেন বর্তমান সরকারের মেয়াদেই পে স্কেল কার্যকর হবে, কিন্তু পরে তিনি অবস্থান বদলে বলেন নির্বাচনের পর নতুন সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এই অবস্থান বদল কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তাদের বক্তব্য, যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকারই কমিশন গঠন করেছে, তাই বাস্তবায়নের দায়িত্বও তাদেরই নেওয়া উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, কর–জিডিপির অনুপাত হ্রাস এবং রাজস্ব আহরণ কমে যাওয়ার মতো অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণেই সরকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব নতুন সরকারের ওপর ঠেলছে। তবে ১০ বছর ধরে একই বেতন স্কেলে থাকা কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন—এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।
কর্মচারী নেতারা মনে করেন, ডিসেম্বরেই গেজেট প্রকাশ হলে কর্মচারীরা আশ্বস্ত হবেন এবং সরকার চাইলে ১ জানুয়ারি থেকে স্কেল কার্যকর করে পরের বাজেটে ‘এরিয়ার’ (বকেয়া) ব্যবস্থা করতে পারে। আজ পে কমিশন সুপারিশ জমা দেয় কি না, তার ওপরই ডিসেম্বরের আন্দোলনের ভাগ্য নির্ভর করছে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- জুনে আংশিক কার্যকর হচ্ছে নবম পে স্কেল; দুই ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- জুন থেকে দুই ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে নবম পে স্কেল
- জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় সুখবর
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- কমে গেল সোনার দাম, ভরি কত
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- আজকের সকল টাকার রেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- আজকের সকল টাকার রেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- আসছে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
- টানা ৫ দিন তাপপ্রবাহের মধ্যে হতে পারে বৃষ্টি যেসব জেলায়
- জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি পরিবর্তন করুন এক ক্লিকে
- ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের বড় সুখবর
- বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার শক্তিশালী দল ঘোষণা
- কমে গেল সোনার দাম
- ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী
