পে স্কেল: বেতন-ভাতায় চাপ বাড়লেও, উন্নয়ন আট বছরের তলানিতে
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে পরিচালন ব্যয় ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো; রাজস্ব ঘাটতি ৳১৭ হাজার কোটি, বিনিয়োগে স্থবিরতা
দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে চরম ভারসাম্যহীনতা বিরাজ করছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ পরিচালন (অপারেশন) খাতে সরকারের খরচ অস্বাভাবিক হারে বাড়লেও, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে অর্থ ব্যয় গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে।
পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের পরিচালন খরচ হয়েছে ৳১ লাখ ৪ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি। তিন মাসের হিসাবে এই প্রথম পরিচালন খরচ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো।
পরিচালন ব্যয়ের এই বিশাল চাপ সামাল দিতে গিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ খরচ করা যাচ্ছে না। জুলাই–সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এডিপিতে খরচ হয়েছে মাত্র ৳১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা (এডিপির মাত্র ৫ শতাংশ)। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, ঠিকাদারদের অনীহা এবং কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের কারণে এই স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
রাজস্ব ঘাটতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ
পরিচালন খরচের জোগান দিতে না পারায় রাজস্ব আদায়ে দেখা দিয়েছে বড় ঘাটতি। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব থাকায় অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই–অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৳১৭ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে, তিন বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি (অক্টোবরে ৮.১৭%) বিরাজ করছে। সিপিডি ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মজুরি বৃদ্ধি না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে, যার ফলে বাজারে চাহিদার নিম্নগতি দেখা দিয়েছে এবং দারিদ্র্য বেড়েছে।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা
ব্যবসায় মন্দাভাব থাকায় বিনিয়োগে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে ভোগ্যপণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও মধ্যবর্তী পণ্যের ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি কমেছে। এর জের ধরে গত দুই দশকের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিও সর্বনিম্ন ৬.৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে উৎসাহী হচ্ছেন না। এতে কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে এবং তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি।
পরিত্রাণের পথ: বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন মনে করেন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে, ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা পুরো মাত্রায় ফিরিয়ে এনে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি করা জরুরি।
রাকিব/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার; যা জানা গেল
- ৫ লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন ক্যানসারে ভুগছেন
- ফ্যামিলি কার্ড আবেদন: লাগবে যেসব কাগজপত্র
- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর আসছে টানা ১০ দিনের ছুটি
- আজ এক ভরি ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির তালিকায় বড় পরিবর্তন
- নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো সুপারিশ
- যে দুই জেলা দিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের যাত্রা শুরু
- টানা ১০ দিনের সরকারি ছুটির সুযোগ
- এবার ঈদুল ফিতরে কত দিনের ছুটি; জেনে নিন হিসাব-নিকাশ
- সংরক্ষিত নারী আসনে থাকবেন কারা, জানালেন মির্জা ফখরুল
- দেশের চার বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা
- বিদায়বেলায় পে-স্কেল নিয়ে বড় সুখবর দিয়ে গেলেন অর্থ উপদেষ্টা
- কমলো এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম, জানুন নতুন দর
