জমির মূল দলিল হারিয়ে গেলে সহজে যেভাবে পাবেন নতুন দলিল
নিজস্ব প্রতিবেদক: জমির মালিকানার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো এর মূল দলিল। তবে অসাবধানতাবশত বা কোনো কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ দলিল হারিয়ে গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। জমি বেদখল বা মালিকানা হারানোর ভয় আঁকড়ে ধরে তাদের। কিন্তু ভূমি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দলিল হারিয়ে গেলেও জমির মালিকানা বাতিল হয়ে যায় না এবং জমি নতুন করে রেজিস্ট্রি করারও কোনো প্রয়োজন নেই।
বাংলাদেশের রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা জেলা রেকর্ড রুম থেকে দলিলের সার্টিফাইড কপি বা অবিকল নকল তোলা সম্ভব, যার আইনি গ্রহণযোগ্যতা মূল দলিলের মতোই।
দলিল হারিয়ে গেলে নতুন সার্টিফাইড কপি পাওয়ার সহজ ও আইনি ধাপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. প্রথমেই থানায় জিডি ও সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি
দলিল হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথেই জমির মালিককে নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি (GD) করতে হবে। জিডিতে দলিলের নম্বর, সাল, দাতা ও গ্রহীতার নাম এবং জমিটি কোন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অধীনে তা স্পষ্ট উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং দলিলের অপব্যবহার রোধে একটি স্থানীয় বা জাতীয় দৈনিকে ‘হারানো বিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ করে সেই পত্রিকার কপিটি সংরক্ষণ করা ভালো।
২. দলিলের তথ্য না থাকলে সূচিবহি তল্লাশি
আপনার কাছে যদি দলিলের নম্বর বা বালাম নম্বর জানা না থাকে, তবে ভয়ের কিছু নেই। জমির মৌজা, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর এবং দাতা ও গ্রহীতার নাম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সূচিবহি (Index) তল্লাশি করে দলিলের মূল নম্বর ও সাল বের করে নেওয়া সম্ভব।
৩. রেকর্ড রুম বা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আবেদন
দলিলের নম্বর ও সাল নিশ্চিত হওয়ার পর সার্টিফাইড কপির জন্য নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হবে। সাধারণত দলিলটি যদি সাম্প্রতিক সময়ের বা ৫-৬ বছরের পুরোনো হয়, তবে তা স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকেই পাওয়া যায়। তবে দলিলটি যদি অনেক বেশি পুরোনো হয়, তবে জেলা শহরের প্রধান রেকর্ড রুম (মহাফেজখানা) থেকে নকল তুলতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি:
আবেদনের সাথে থানার জিডির কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), এবং সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট অঙ্কের কোর্ট ফি, সার্চ ফি বা চালানের কপি জমা দিতে হবে। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নির্দিষ্ট কার্যদিবসের মধ্যে অফিস থেকে দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল সরবরাহ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
ভূমি কর্মকর্তাদের মতে, দলিল হারানোর পর সার্টিফাইড কপি তোলা একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। তবে ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে প্রতিটি জমির দলিলের একাধিক ফটোকপি এবং একটি ডিজিটাল স্ক্যান কপি নিরাপদ কোনো ড্রাইভে ব্যাকআপ হিসেবে সংরক্ষণ করা উচিত।
সোহাগ/
