ঘরে বসেই পুরোনো স্বর্ণের গয়না চকচকে করবেন যেভাবে
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বর্ণের হার, আংটি, কানের দুল কিংবা নাকফুল নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ধীরে ধীরে মলিন হয়ে যেতে পারে। ঘাম, ধুলোবালি, ত্বকের তেল, বডি লোশন ও প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ গয়নার সূক্ষ্ম নকশায় জমে এর স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেয়। এ কারণে অনেকেই গয়না পরিষ্কার করতে জুয়েলারির দোকানে যান। তবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে ঘরেও সাধারণ স্বর্ণের গয়না পরিষ্কার করা সম্ভব।
তবে মনে রাখতে হবে, সব ধরনের গয়না একইভাবে পরিষ্কার করা যায় না। গয়নায় রত্ন, মুক্তা কিংবা স্বর্ণের প্রলেপ থাকলে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
২২ ক্যারেটের স্বর্ণ তুলনামূলক নরম হওয়ায় পরিষ্কার করার সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে, স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া গয়না ঘষাঘষি করলে প্রলেপ উঠে যেতে পারে। মুক্তা, প্রবাল ও কিছু মূল্যবান রত্ন রাসায়নিক উপাদান বা দীর্ঘ সময় পানির সংস্পর্শে এলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাই গয়নার ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে পরিষ্কারের আগে জুয়েলারির পরামর্শ নেওয়া ভালো।
১. হালকা সাবান ও ঈষদুষ্ণ পানি ব্যবহার করুন
সাধারণ স্বর্ণের গয়না পরিষ্কারের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো মৃদু সাবান ও ঈষদুষ্ণ পানি ব্যবহার করা।
প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্রে ঈষদুষ্ণ পানি নিন। এতে কয়েক ফোঁটা মৃদু, সুগন্ধিবিহীন তরল ডিশ সোপ মিশিয়ে নিন। এরপর সাধারণ স্বর্ণের গয়না কয়েক মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, যাতে জমে থাকা ময়লা আলগা হয়।
তারপর নরম ব্রাশ দিয়ে গয়নার খাঁজগুলো আলতোভাবে পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নরম, পরিষ্কার কাপড়ে মুছে শুকিয়ে নিন। চাইলে গয়না শুকানোর জন্য লিন্টমুক্ত কাপড় ব্যবহার করতে পারেন।
সতর্কতা: গয়নায় মুক্তা, আঠা দিয়ে লাগানো পাথর বা অন্য কোনো সংবেদনশীল উপাদান থাকলে পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না।
২. হলুদ পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না
স্বর্ণের গয়নার উজ্জ্বলতা ফেরাতে হলুদ পানিতে দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ অনেক জায়গায় দেখা যায়। তবে এই পদ্ধতির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং হলুদ গয়নায় দাগ ফেলতে পারে এবং সূক্ষ্ম নকশার মধ্যে অবশিষ্টাংশ জমে থাকতে পারে।
তাই গয়না পরিষ্কারে হলুদ পানির পরিবর্তে মৃদু সাবান ও ঈষদুষ্ণ পানি ব্যবহার করাই ভালো।
৩. বেকিং সোডা ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
বেকিং সোডা দিয়ে গয়না পরিষ্কারের প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে। তবে এর দানাদার গঠন ঘষাঘষির সময় গয়নার পৃষ্ঠে আঁচড় ফেলতে পারে। বিশেষ করে পালিশ করা স্বর্ণ, স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া গয়না এবং রত্নখচিত অলংকারে এ পদ্ধতি ব্যবহার না করাই ভালো।
সাধারণ স্বর্ণের গয়নার ক্ষেত্রেও মৃদু সাবান ও পানি ব্যবহার করাই তুলনামূলক নিরাপদ।
৪. মূল্যবান পাথরযুক্ত গয়না কীভাবে পরিষ্কার করবেন?
হীরা, রুবি, পান্না, পোখরাজ বা ট্যুরমালাইন বসানো গয়না পরিষ্কারের পদ্ধতি পাথরের ধরন, সেটিং এবং গয়নার অবস্থা অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। সব রত্ন পানিতে ভিজিয়ে রাখা বা একই রাসায়নিক দিয়ে পরিষ্কার করা নিরাপদ নয়।
বিশেষ করে পান্না, মুক্তা, প্রবাল ও কিছু প্রক্রিয়াজাত রত্ন রাসায়নিক পদার্থে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এসব গয়নায় বেকিং সোডা, গ্লাস ক্লিনার বা অন্য কোনো শক্তিশালী ক্লিনার ব্যবহার করবেন না। প্রয়োজন হলে পেশাদার জুয়েলারির সাহায্য নিন।
৫. গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা কি ঠিক?
গ্লাস ক্লিনার কাচ পরিষ্কারের জন্য তৈরি। এতে থাকা রাসায়নিক উপাদান গয়নার ধাতু, পাথরের আবরণ, আঠা বা বিশেষ প্রলেপের ক্ষতি করতে পারে। তাই স্বর্ণের গয়না কিংবা মূল্যবান রত্ন পরিষ্কারে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার না করাই ভালো।
৬. ডেঞ্চার ট্যাবলেট দিয়ে পরিষ্কার করবেন?
দাঁতের বাঁধানো অংশ পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত ডেঞ্চার ট্যাবলেট কিছু উপাদানের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। গয়নার ধাতু, পাথর ও সেটিংয়ের সঙ্গে এটি নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে মুক্তা, রত্নখচিত বা স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া গয়নায় এ পদ্ধতি এড়িয়ে চলুন।
গয়নার উজ্জ্বলতা ধরে রাখার সহজ উপায়
- প্রসাধনী, পারফিউম ও লোশন ব্যবহারের পর গয়না পরুন।
- ব্যবহার শেষে নরম কাপড় দিয়ে গয়নার ঘাম ও ময়লা মুছে রাখুন।
- গয়না আলাদা বাক্সে বা নরম থলিতে সংরক্ষণ করুন, যাতে অন্য গয়নার সঙ্গে ঘষা লেগে আঁচড় না পড়ে।
- গয়না পরিষ্কারের সময় সিঙ্কের ড্রেন বন্ধ রাখুন, যাতে ছোট আংটি বা কানের দুল হারিয়ে না যায়।
- পাথর ঢিলা হয়ে গেলে বা গয়নার কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিজে পরিষ্কার না করে জুয়েলারির কাছে নিয়ে যান।
সঠিক যত্ন নিলে স্বর্ণের গয়নার সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা দীর্ঘদিন ধরে রাখা সম্ভব। তবে গয়নার ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের পরিবর্তে মৃদু পরিষ্কারের পদ্ধতি বেছে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সিদ্দিকা/
