প্রবাসী আয়ের ৬০ শতাংশই আসে যে ৫ দেশ থেকে
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিট্যান্স। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে এসেছে ৮৫৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচ দেশ থেকেই এসেছে ৫০৯ কোটি ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৫৮ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১০১ কোটি ডলার বা ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এই ধারা অক্টোবর মাসেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১১৭ কোটি ডলার। গত বছরের অক্টোবরের একই সময়ে এসেছিল ৯৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এ সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৮ শতাংশের বেশি।
যে ৫ দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়া।
সৌদি আরব থেকে এসেছে ১৬৫ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ১২২ কোটি ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৭৭ কোটি ৭৬ লাখ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৭৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। পঞ্চম অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়া থেকে এসেছে প্রায় ৬৭ কোটি ডলার।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে। দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়াতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
কেন বাড়ছে প্রবাসী আয়?
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ দেওয়া এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কারণে প্রবাসী আয় বাড়ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতা এখনও বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠিয়েছেন ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৬৪২ কোটি ডলার বা ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ডলারের বিনিময় হার দীর্ঘদিন ধরে ১২৩ টাকার আশপাশে রয়েছে।
রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে
রেমিট্যান্স বাড়ার পাশাপাশি আমদানি ও রপ্তানির প্রবৃদ্ধিও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ২০ শতাংশ। একই সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
এর মধ্যেও রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে।
গত ১১ অক্টোবর দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে গত জুনে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ছিল ৩২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় গ্রস রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে এবং বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিল। পরে বিভিন্ন কারণে তা কমে আসে।
সব মিলিয়ে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রেমিট্যান্সের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তবে রেমিট্যান্সের এই ধারা ধরে রাখা এবং বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা বাড়ানো দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
সোহাগ/
