১০,২০০mAh ব্যাটারির Vivo Y600s Pro, দাম কত বাংলাদেশি টাকায়
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্মার্টফোনে দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ চান এমন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ফোন এনেছে ভিভো। চীনের বাজারে উন্মোচন করা Vivo Y600s Pro-তে রয়েছে ১০,২০০mAh ব্যাটারি, ৯০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং এবং ১২০Hz রিফ্রেশ রেটের AMOLED ডিসপ্লে। তবে ফোনটির দাম নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আগের Vivo Y600 Pro মডেলের সঙ্গে এর মিলও নজর কেড়েছে।
চীনে Vivo Y600s Pro-এর প্রাথমিক দাম ২,৬৯৯ ইউয়ান। বাংলাদেশি মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার ধরে এর পরিমাণ প্রায় ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা। অন্যদিকে, ৮GB RAM ও ৫১২GB স্টোরেজ সংস্করণটির দাম ২,৯৯৯ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৫৫ হাজার ২০০ টাকা। এগুলো কেবল মুদ্রা রূপান্তর করে হিসাব করা দাম, বাংলাদেশের বাজারমূল্য নয়। চীনে ফোনটির বিক্রি শুরু হলেও বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
Vivo Y600s Pro-এর দাম ও ভ্যারিয়েন্ট
চীনের বাজারে ফোনটি দুটি স্টোরেজ সংস্করণে পাওয়া যাচ্ছে।
- ৮GB RAM ও ২৫৬GB স্টোরেজ: ২,৬৯৯ ইউয়ান, বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৪৯,৭০০ টাকা।
- ৮GB RAM ও ৫১২GB স্টোরেজ: ২,৯৯৯ ইউয়ান, বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৫৫,২০০ টাকা।
ফোনটির রঙের বিকল্প হিসেবে রয়েছে মুনলাইট ব্ল্যাক, ফ্লোটিং গোল্ড, স্টারি পার্পল ও ভাস্ট ব্লু। তবে বাংলাদেশে ফোনটি কবে আসবে কিংবা এ দেশে এর দাম কত হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই।
Vivo Y600s Pro-এর স্পেসিফিকেশন
Vivo Y600s Pro-এর উল্লেখযোগ্য ফিচার ও স্পেসিফিকেশন নিচে দেওয়া হলো।
- ডিসপ্লে: ৬.৮৩ ইঞ্চি AMOLED, ২৮০০ × ১২৬০ পিক্সেল রেজল্যুশন
- রিফ্রেশ রেট: ১২০Hz
- প্রসেসর: MediaTek Dimensity 7300e
- RAM: ৮GB LPDDR5
- স্টোরেজ: ২৫৬GB ও ৫১২GB UFS 3.1
- পেছনের ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেল
- সামনের ক্যামেরা: ৩২ মেগাপিক্সেল
- ব্যাটারি: ১০,২০০mAh
- চার্জিং: ৯০ ওয়াট ওয়্যার্ড ফাস্ট চার্জিং
- অপারেটিং সিস্টেম: Android 16-ভিত্তিক OriginOS 6
- অন্যান্য ফিচার: NFC, Wi-Fi 6, Bluetooth 5.4, স্টেরিও স্পিকার ও ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
১০,২০০mAh ব্যাটারিতে মিলবে দীর্ঘ ব্যাকআপ
Vivo Y600s Pro-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর ১০,২০০mAh ব্যাটারি। সাধারণত অনেক স্মার্টফোনে ৫,০০০ থেকে ৭,০০০mAh ব্যাটারি দেখা যায়। সেই তুলনায় এই ফোনের ব্যাটারির ধারণক্ষমতা বেশ বড়।
ব্যবহারের ধরন, ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা, নেটওয়ার্ক এবং অ্যাপের ওপর ব্যাটারি ব্যাকআপ নির্ভর করবে। তাই ফোনটি একবার চার্জে ঠিক কত দিন চলবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে সাধারণ ব্যবহারে দীর্ঘ সময় চার্জ ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
এতে ৯০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিংয়ের পাশাপাশি রিভার্স চার্জিং সুবিধাও রয়েছে। ফলে উপযুক্ত সংযোগের মাধ্যমে ফোনটি ব্যবহার করে অন্য কিছু ডিভাইসেও চার্জ দেওয়া সম্ভব।
ডিসপ্লে ও পারফরম্যান্স কেমন?
ফোনটিতে রয়েছে ৬.৮৩ ইঞ্চির AMOLED ডিসপ্লে, যার রিফ্রেশ রেট ১২০Hz। ফলে সমর্থিত কনটেন্ট দেখা, স্ক্রল করা এবং অ্যাপ ব্যবহার করার সময় তুলনামূলক মসৃণ অভিজ্ঞতা পাওয়া যেতে পারে।
MediaTek Dimensity 7300e প্রসেসর দিয়ে দৈনন্দিন কাজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও দেখা ও সাধারণ গেম খেলা সম্ভব হওয়ার কথা। তবে ভারী গেমিং বা উচ্চ গ্রাফিকসের কাজে ফোনটির প্রকৃত পারফরম্যান্স জানতে স্বাধীন পরীক্ষার ফলাফল প্রয়োজন।
ক্যামেরায় কী থাকছে?
ছবি তোলার জন্য Vivo Y600s Pro-তে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের পেছনের ক্যামেরা এবং ৩২ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। সাধারণ ছবি, ডকুমেন্ট এবং দৈনন্দিন মুহূর্ত ধারণে এগুলো কাজে আসতে পারে।
তবে পেছনে আল্ট্রাওয়াইড বা আলাদা টেলিফটো ক্যামেরার উল্লেখ নেই। ক্যামেরার বাস্তব মান সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পেতে ফোনটির বিস্তারিত ক্যামেরা পরীক্ষা ও নমুনা ছবি দেখা প্রয়োজন।
Vivo Y600s Pro কি কেনা উচিত?
যাঁদের কাছে দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁদের জন্য Vivo Y600s Pro আগ্রহের একটি ফোন হতে পারে। বড় ব্যাটারি, AMOLED ডিসপ্লে এবং দ্রুত চার্জিং এর উল্লেখযোগ্য দিক।
তবে চীনে ফোনটির দাম আগের Vivo Y600 Pro-এর তুলনায় বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কেনার আগে পুরোনো মডেলের দাম, নতুন মডেলের প্রকৃত উন্নতি এবং স্থানীয় বাজারে বিকল্প ফোনের সঙ্গে তুলনা করা ভালো।
বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, Vivo Y600s Pro-এর স্থানীয় দাম, আনুষ্ঠানিক বিক্রি ও ওয়ারেন্টি এখনো নিশ্চিত নয়। তাই শুধু চীনের দাম দেখে ফোনটির বাংলাদেশি বাজারমূল্য নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।
আশা/
