হিরো স্প্লেন্ডর এত জনপ্রিয় হওয়ার ৫ কারণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেখতে খুব সাধারণ, ইঞ্জিনও তুলনামূলক ছোট। তারপরও কমিউটার মোটরসাইকেলের বাজারে হিরো স্প্লেন্ডরের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। অফিসে যাতায়াত, বাজার করা কিংবা প্রতিদিন শহরের ব্যস্ত রাস্তায় চলাচলের জন্য অনেকের পছন্দের তালিকায় রয়েছে এই বাইক।
স্প্লেন্ডরের জনপ্রিয়তার পেছনে মূল কারণ হিসেবে ধরা হয় এর ব্যবহারিক নকশা, তুলনামূলক কম ওজন, ছোট ইঞ্জিন এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের দিকে নজর দেওয়া। যারা মূলত প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল খোঁজেন, তাদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে মডেলটি।
৯৭.২ সিসির ইঞ্জিন
বাংলাদেশে হিরো স্প্লেন্ডর+ মডেলে রয়েছে ৯৭.২ সিসির এয়ার-কুলড, ৪-স্ট্রোক, সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ওএইচসি ইঞ্জিন।
এই ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ৬.১৫ কিলোওয়াট বা ৮.৩৬ পিএস শক্তি এবং ৮.০৫ এনএম টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। এর সঙ্গে রয়েছে ৪-স্পিড কনস্ট্যান্ট-মেশ গিয়ারবক্স।
ইঞ্জিনের ক্ষমতা ও গিয়ারবক্সের সেটআপ মূলত শহর ও দৈনন্দিন ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। তাই উচ্চগতির পারফরম্যান্সের চেয়ে নিয়মিত যাতায়াতের ব্যবহারিক দিকটিই এখানে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
মাইলেজের দিকে নজর
কমিউটার মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে মাইলেজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ছোট ইঞ্জিনের কারণে স্প্লেন্ডর+ এর জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে বাস্তবে একটি বাইক কত মাইলেজ দেবে, তা নির্ভর করে বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর। রাস্তার অবস্থা, ট্রাফিক, গতি, বাইকের রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালানোর ধরন মাইলেজে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
তাই কোম্পানির ঘোষিত বা পরীক্ষাগারে পাওয়া মাইলেজকে বাস্তব ব্যবহারে নিশ্চিত মাইলেজ হিসেবে বিবেচনা না করাই ভালো।
সহজ-সরল ডিজাইন
বর্তমান সময়ের অনেক মোটরসাইকেলের মতো স্প্লেন্ডর+ এর ডিজাইনে অতিরিক্ত স্পোর্টি বা আক্রমণাত্মক ভাব নেই। বরং সাধারণ কমিউটার বাইকের মতোই এর নকশা।
এই সরল ডিজাইনই অনেক ব্যবহারকারীর কাছে এর অন্যতম আকর্ষণ। বাইকটির দৈর্ঘ্য ২ হাজার মিলিমিটার, প্রস্থ ৭২০ মিলিমিটার এবং হুইলবেস ১ হাজার ২৩০ মিলিমিটার।
গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৫৯ মিলিমিটার। ইলেকট্রিক-স্টার্ট সংস্করণের কার্ব ওয়েট প্রায় ১১২.৩ কেজি। তুলনামূলক কম ওজনের কারণে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় বাইকটি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে।
সাসপেনশন ও ব্রেক
স্প্লেন্ডর+ এ সামনে টেলিস্কোপিক হাইড্রোলিক শক অ্যাবজর্বার এবং পেছনে ৫-ধাপ অ্যাডজাস্টেবল হাইড্রোলিক শক অ্যাবজর্বার দেওয়া হয়েছে।
শহরের অসমান রাস্তা কিংবা ছোটখাটো গর্তের ধাক্কা সামলানোর ক্ষেত্রে এই সাসপেনশন সেটআপ ভূমিকা রাখে।
ব্রেকিংয়ের জন্য সামনে ও পেছনে ১৩০ মিলিমিটারের ড্রাম ব্রেক রয়েছে। পাশাপাশি বাইকটিতে টিউবলেস টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে।
১০ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক
স্প্লেন্ডর+ এ প্রায় ১০ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক রয়েছে। ফলে প্রতিদিনের যাতায়াতের ক্ষেত্রে ঘন ঘন জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজন কিছুটা কমতে পারে।
তবে একটি ট্যাঙ্কে কতদিন চলবে, সেটি নির্ভর করবে প্রতিদিন কত কিলোমিটার বাইকটি চালানো হচ্ছে এবং বাস্তবে কী ধরনের মাইলেজ পাওয়া যাচ্ছে তার ওপর।
বাংলাদেশে হিরো স্প্লেন্ডরের দাম কত?
হিরো মটোক্রপ বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে স্প্লেন্ডর+ এর দাম ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা থেকে শুরু দেখানো হয়েছে।
বর্তমানে সেখানে স্প্লেন্ডর+ আইবিএস আই৩এস-এর এক্স-শোরুম দাম ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং স্প্লেন্ডর+ এসই-এর এক্স-শোরুম দাম ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে।
তবে রেজিস্ট্রেশন, বিমা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত হলে বাইকটির প্রকৃত অন-রোড দাম আরও বেশি হতে পারে।
কেন এখনো জনপ্রিয় স্প্লেন্ডর?
হিরো স্প্লেন্ডরের দর্শন মূলত খুবই সরল। অতিরিক্ত ফিচার বা আক্রমণাত্মক ডিজাইনের পরিবর্তে প্রতিদিনের ব্যবহারে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ছোট ইঞ্জিন, তুলনামূলক কম ওজন, সহজ ডিজাইন, ব্যবহারিক সাসপেনশন এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের দিকে নজর দেওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কমিউটার বাইকের বাজারে স্প্লেন্ডর পরিচিত একটি নাম।
অর্থাৎ যারা মূলত অফিস, ব্যবসা, বাজার কিংবা নিয়মিত শহুরে যাতায়াতের জন্য একটি ব্যবহারিক মোটরসাইকেল খুঁজছেন, তাদের চাহিদার সঙ্গে স্প্লেন্ডরের বৈশিষ্ট্যগুলো বেশ ভালোভাবেই মিলে যায়।
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- দেশে ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট সোনার দাম
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি!
- সোনার চেয়েও দামি আগরউড, ১ গ্রাম ১২ কোটি টাকা
- দেশজুড়ে ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, কোথাও ভারী বর্ষণ
- নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন ৩৩ হাজার, সর্বোচ্চ কত
- এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
- সিগারেট-ওষুধ-মোবাইলসহ ১১ খাতে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক
- বিয়ে না করলে আজীবন পারিবারিক পেনশন পাবেন বিধবা-বিপত্নীকরা
- হু হু করে কমে গেল সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার
- বিদ্যুৎ নিয়ে সুখবর!
- কমলো মালয়েশিয়ান রিংগিতের বিনিময় হার
