২০২৬ এপ্রিলিয়া টুয়োনো ৪৫৭: নতুন আপডেটে কেমন হলো বাইকটি
নিজস্ব প্রতিবেদক: মোটরসাইকেলের জগতে পরিবর্তনই যেন একমাত্র ধ্রুবক। ব্যবহারকারীদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে ইতালিয়ান নির্মাতা এপ্রিলিয়া তাদের জনপ্রিয় Tuono 457-এ বেশ কিছু ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। নতুন মডেলে ডিজাইনের পাশাপাশি সাসপেনশন, রাইডিং পজিশন ও আরামের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।
ভারতের পুনের কাছে বারামতিতে নতুন Tuono 457 চালানোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আগের মডেলের তুলনায় বাইকটি আরও আরামদায়ক ও পরিণত হয়েছে।
ডিজাইনে নতুনত্ব
Tuono 457-এর আগের ডিজাইনে হেডলাইট কাউল নিয়ে অনেকের আপত্তি ছিল। অনেকের কাছে এর সামনের অংশ কিছুটা পোকামাকড়ের মতো মনে হতো। নতুন মডেলে সেই অংশের সঙ্গে মানানসই একটি উঁচু ফ্লাইস্ক্রিন যোগ করা হয়েছে।
ফলে বাইকটির সামনের অংশ এখন আরও পূর্ণাঙ্গ ও আকর্ষণীয় দেখায়। তবে ফুয়েল ট্যাংক, টেইল সেকশনসহ মূল বডি ডিজাইনে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
নতুন স্টিকারিংয়ে Aprilia ব্র্যান্ড ও মডেলের নাম আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বাইকটি Puma Grey ও Mamba Black, এই দুই রঙে পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে Puma Grey রঙের সঙ্গে লাল সামনের ও কালো পেছনের চাকার সমন্বয় বেশ নজরকাড়া।
বাইকের পেরিমিটার ফ্রেম ও ইঞ্জিনের বড় অংশ খোলামেলা রাখা হয়েছে, যা এটিকে একটি আদর্শ স্ট্রিট-নেকেড মোটরসাইকেলের চরিত্র দিয়েছে। তবে হেডলাইট কাউল ও ফুয়েল ট্যাংকের আশপাশে কিছু জায়গায় প্যানেল গ্যাপের সামান্য অসামঞ্জস্য দেখা গেছে, যা ৫ লাখ রুপির বেশি অন-রোড দামের বাইকে আরও নিখুঁত হওয়া উচিত ছিল।
সাসপেনশন ও আরামে বড় পরিবর্তন
নতুন Tuono 457-এর USD ফর্ক ও মনোশক সাসপেনশন পুনরায় টিউন করেছে Aprilia। বিশেষ করে কম গতিতে আরাম বাড়ানোর জন্য সাসপেনশনের ড্যাম্পিং বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং প্রাথমিক স্ট্রোক কিছুটা নরম করা হয়েছে।
ফলে ছোট গর্ত ও রাস্তার অসমান অংশ আগের তুলনায় অনেক ভালোভাবে সামলাতে পারে বাইকটি।
রাইডিং পজিশনেও পরিবর্তন এসেছে। হ্যান্ডেলবার ১০ মিমি উঁচু করা হয়েছে, ফলে চালকের জন্য হ্যান্ডেলবারে পৌঁছানো আরও সহজ হয়েছে। সিটেও বেশি রেজিলিয়েন্সযুক্ত ফোম ব্যবহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় বাইক চালানোর ক্ষেত্রে আরাম বাড়ায়।
এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড হিসেবেই দেওয়া হয়েছে অ্যাডজাস্টেবল ব্রেক লিভার। চালকের আঙুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী লিভারের দূরত্ব পরিবর্তন করা যায়। তবে ক্লাচ লিভার এখনও অ্যাডজাস্টেবল নয়। এটি আলাদাভাবে কিনতে হবে। একই সঙ্গে বাইকটিতে কুইকশিফটার থাকলে আরও ভালো হতো।
ফিচার ও প্রযুক্তি
Tuono 457-এ Bluetooth সংযোগ সুবিধাসহ TFT ডিসপ্লে রয়েছে। এতে নেভিগেশন, সুইচেবল ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং একাধিক রাইডিং মোডও পাওয়া যায়।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই ৪৫৭ সিসির লিকুইড-কুলড প্যারালাল-টুইন ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন থেকে সর্বোচ্চ ৪৭ bhp শক্তি এবং ৪৩.৫ Nm টর্ক পাওয়া যায়।
ইঞ্জিন পারফরম্যান্স কেমন?
ইঞ্জিন স্টার্ট করার পরই এর দুই সিলিন্ডারের স্বতন্ত্র শব্দ নজর কাড়ে। থ্রটল ঘোরালে পাওয়া যায় সুন্দর সাউন্ড, সঙ্গে থ্রটল ছেড়ে দিলে পপস ও ক্র্যাকলসও শোনা যায়।
মিড-রেঞ্জ পার হওয়ার পর ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স আরও জোরালো হয়ে ওঠে। দ্রুত গতিতে উঠতে খুব বেশি সময় লাগে না।
তবে ইঞ্জিনটির সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক হলো এর ফ্লেক্সিবিলিটি। শহরের ধীরগতির ট্রাফিকেও তুলনামূলক উঁচু গিয়ারে বাইক চালানো যায়, ইঞ্জিনে তেমন সমস্যা হয় না। আবার হাইওয়েতে দীর্ঘ সময় তিন অঙ্কের গতিতেও বাইকটি স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারে।
তবে বেশি গতিতে জ্বালানি খরচও বাড়ে। তাই যারা নিয়মিত উচ্চ গতিতে বাইক চালাবেন, তাদের জন্য ফুয়েল খরচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
আগের কিছু Aprilia RS 457 ইউনিটে হেড গ্যাসকেট ও ক্যাম-চেইন টেনশনার নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এ বিষয়ে কোম্পানির দাবি, সমস্যাগুলো সমাধান করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের সমস্যা আর দেখা যায়নি।
রাইডিং অভিজ্ঞতা
সাসপেনশনের পরিবর্তন নতুন Tuono 457-এর রাইডিং অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আগের মডেলে রাস্তার ছোটখাটো উঁচু-নিচু অংশ বেশ স্পষ্টভাবে অনুভূত হতো। নতুন সাসপেনশন ছোট গর্ত ও রাস্তার অসমান অংশ অনেক ভালোভাবে শোষণ করে।
বিভিন্ন গতিতে বাইক চালিয়ে দেখা গেছে, বাম্প শোষণের সক্ষমতা বেশ ধারাবাহিক। একই সঙ্গে সামনের সাসপেনশন অতিরিক্ত নরম হয়ে যায়নি এবং শক্ত ধাক্কাতেও সহজে বটম আউট করে না।
আরামের উন্নতি হলেও হ্যান্ডলিংয়ে কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। কর্নারিংয়ের সময় চ্যাসিস থেকে যথেষ্ট ফিডব্যাক পাওয়া যায়। Eurogrip Protorq Extreme টায়ারও কর্নারে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
ব্রেকিং পারফরম্যান্সও যথেষ্ট ভালো। দ্রুত গতি কমানোর মতো পর্যাপ্ত কামড় ও ফিডব্যাক রয়েছে। তবে বারবার হার্ড ব্রেকিং করলে ব্রেকে ফেড দেখা দিতে পারে। এর সমাধান হিসেবে Aprilia সিন্টার্ড ‘রেস ব্রেক প্যাড’ অ্যাকসেসরি হিসেবে দিচ্ছে। তবে এটি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে থাকলে আরও ভালো হতো।
কেনার আগে যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন
নতুন Tuono 457-এ Aprilia ব্যবহারকারীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আরাম বাড়ানোর পরও বাইকটির স্পোর্টি চরিত্র নষ্ট হয়নি।
মুম্বাইয়ে অন-রোড দাম ৫ লাখ রুপির কিছু বেশি। এই দামে এটি আকর্ষণীয় প্যাকেজ হতে পারে। বিশেষ করে কাছাকাছি দামের KTM 390 Duke R-এর তুলনায় Tuono 457-এর দুই সিলিন্ডার ইঞ্জিন বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
তবে কেনার আগে স্থানীয় বিক্রয় ও সার্ভিস নেটওয়ার্ক বিবেচনা করা জরুরি। Aprilia-এর সেলস ও সার্ভিস নেটওয়ার্ক এখনও সব জায়গায় বিস্তৃত নয়। ফলে আপনার এলাকায় সার্ভিস সুবিধা কেমন, সেটি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ Aprilia Tuono 457 আগের মডেলের তুলনায় আরও আরামদায়ক, ব্যবহারবান্ধব এবং পরিণত একটি স্ট্রিট-নেকেড বাইক। শক্তিশালী টুইন-সিলিন্ডার ইঞ্জিন, উন্নত সাসপেনশন, আকর্ষণীয় ডিজাইন ও আধুনিক ফিচারের সমন্বয়ে যারা পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মজাদার রাইডিং অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য এটি বেশ আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- মার্কশিটসহ এসএসসি পরীক্ষার ফল দেখুন এক ক্লিকে
- প্রতিদিনের ব্যবহারে Honda SP 125 কেন এত জনপ্রিয়
- প্রকাশ হল এসএসসি পরীক্ষার ফল; একক্লিকে ফল দেখুন এখানে
- SSC Result 2026: ফল দেখুন এখানে
- Xiaomi launches Redmi 17, থাকছে ৭,৫০০mAh ব্যাটারি ও ১২০Hz ডিসপ্লে
- ২ লাখ টাকার মধ্যে বাংলাদেশে ১০টি জনপ্রিয় বাইক, দাম ও মাইলেজ
- আজকের স্বর্ণের বাজারদর: ১০ আগস্ট ২০২৬
- Yamaha MT-15 V2 2026: নতুন ৬ রঙে আরও আকর্ষণীয় স্পোর্টস বাইক
- ২ লাখ টাকার মধ্যে বাংলাদেশে ৫টি ১২৫ সিসির বাইক, মাইলেজ ও দাম
- ২০২৬ সালে ২ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ৫টি ৪জি বাটুন ফোন
- Bajaj Pulsar N160 4V: নতুন মডেলের ফিচারগুলো এক নজরে
- আজ এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট; যেভাবে জানবেন ফল
- এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬; এক ক্লিকে ফল দেখুন এখানে
- দেশে আজ ১৮, ২১, ও ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- সরকারি কর্মচারীদের বেতন-গ্রেড নিয়ে নতুন বার্তা
