কোন নামাজে নবীজি কোন সুরা তিলাওয়াত করতেন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। নামাজে পবিত্র কোরআনের যেকোনো অংশ থেকে তেলাওয়াত করলে ফরজ আদায় হয়ে যায়, তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট কিছু নামাজে বিশেষ কিছু সুরা বা কিরাত পড়তেন। তাঁর সেই সুন্নত পদ্ধতি অনুসরণ করা মুমিনদের জন্য বরকতময়।
ফরজ নামাজে নবীজির কিরাত:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত মুকিম অবস্থায় (বাড়িতে থাকাকালীন) নামাজের কিরাত দীর্ঘ করতেন এবং সফর অবস্থায় প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সুরা পড়তেন। ফজর ও জোহরের নামাজে তিনি সাধারণত সুরা হুজুরাত থেকে সুরা বুরুজ পর্যন্ত দীর্ঘ সুরাগুলো থেকে তেলাওয়াত করতেন। আসর ও এশার নামাজে সুরা তারিক থেকে সুরা বায়্যিনাহ পর্যন্ত মাঝারি দৈর্ঘ্যের সুরাগুলো পড়তেন। অন্যদিকে, মাগরিবের নামাজে সময়ের সল্পতার কারণে সুরা জিলজাল থেকে সুরা নাস পর্যন্ত ছোট সুরাগুলো পড়া সুন্নত।
সুন্নত ও নফল নামাজের বিশেষ সুরা:
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সুন্নত নামাজের প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পড়তেন। বিতর নামাজের ক্ষেত্রে তিনি প্রথম রাকাতে সুরা আলা (অথবা সুরা দুহা), দ্বিতীয় রাকাতে সুরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পড়তেন।
জুমা ও বিশেষ দিনের কিরাত:
জুমার দিন ফজরের ফরজ নামাজে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই সুরা আস-সাজদা ও সুরা দাহর তেলাওয়াত করতেন। জুমার মূল নামাজে তিনি সুরা আলা ও সুরা গাশিয়াহ অথবা সুরা জুমা ও সুরা মুনাফিকুন পড়তেন। নবীজি সাধারণত নামাজের প্রথম রাকাতে দ্বিতীয় রাকাতের তুলনায় দীর্ঘ কিরাত পড়তেন, বিশেষ করে ফজর নামাজে অন্য নামাজের চেয়ে দীর্ঘ তেলাওয়াত করা তাঁর অভ্যাস ছিল।
একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে, ইসলামি শরিয়তে নিজের পক্ষ থেকে কোনো নামাজের জন্য নির্দিষ্ট সুরাকে স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করে নেওয়া উচিত নয়। কোরআনের যেকোনো অংশ থেকেই নামাজ আদায় করা সম্ভব, তবে নবীজির অনুসৃত এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা সওয়াবের কাজ।
আশা/
