সোহাগ আহমদে
সিনিয়র রিপোর্টার
নির্বাচনে পাশার দান উল্টে দিতে পারে পোস্টাল ভোট: বড় ফ্যাক্টর প্রবাসীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: একটি খাম, একটি ডাকঘর আর হাজার মাইল দূরে থাকা একজন ভোটার—এটুকুই যথেষ্ট নির্বাচনের চেনা ফলাফল বদলে দিতে। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পোস্টাল ভোট। যারা সশরীরে কেন্দ্রে যেতে পারছেন না, সেই সব ভোটারের নীরব ব্যালটই এবার অনেক আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।
রেকর্ড সংখ্যক নিবন্ধন ও প্রযুক্তিগত বিপ্লব
আগে পোস্টাল ভোট কেবল সরকারি কর্মচারী বা কারাবন্দীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্যোগে এটি বিস্তৃত হয়েছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে দেশ ও প্রবাস মিলিয়ে সোয়া ১৫ লাখের বেশি ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। যদিও এটি মোট ভোটারের মাত্র এক শতাংশ, কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এই এক শতাংশই হতে পারে ‘গেম চেঞ্জার’। কারণ, অনেক আসনেই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় মাত্র কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে।
প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ
এবারই প্রথম বড় পরিসরে প্রবাসীরা ডাকযোগে ভোট দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রায় ৭ লাখ ৬৬ হাজার প্রবাসী পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ৫ লাখ ১৮ হাজার ভোটার ব্যালট পেপার হাতে পেয়েছেন এবং প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার জন ভোটদান সম্পন্ন করেছেন। ইতিমধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি ব্যালট প্রবাস থেকে বাংলাদেশে পৌঁছে গেছে, যা এখন গণনার অপেক্ষায়।
দেশের ভেতরের চিত্র ও প্রভাব
শুধু প্রবাসী নয়, দেশের ভেতরেও সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার ভোটার পোস্টাল পদ্ধতিতে ভোট দিচ্ছেন। এমনকি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ১৮টি সংসদীয় আসনে পোস্টাল ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। ফেনী-৩ আসনে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ১৬ হাজারের উপরে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩০টি আসনে জয়ের ব্যবধান ছিল ১০ হাজার ভোটের কম। ফলে এই নীরব ভোটগুলো ফলাফলে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে।
গণভোট ও সংবিধান সংশোধনের চাবিকাঠি
এবারের নির্বাচন শুধু এমপি বাছাই নয়, বরং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি গণভোটও বটে। এখানে হিসেবটা আসনভিত্তিক নয়, বরং ৩০০ আসনের মোট ভোটের ওপর নির্ভর করবে। ফলে প্রবাসী ও পোস্টাল ভোট এখানে সরাসরি সংবিধান পরিবর্তনের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে।
চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক
তবে এই ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা ও বিতর্কও রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার আগেই কিছু ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পোস্টাল ব্যালট নষ্ট হওয়ার হার বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৪ শতাংশ। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের দিন বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে ব্যালট দেশে না পৌঁছালে তা গণ্য হবে না। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, ব্যবস্থার কিছু ধাপ এখনো অস্পষ্ট বা ‘ব্ল্যাক বক্সের’ মতো।
পরিশেষে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এতদিন রাজপথের প্রভাব দেখা গেলেও, এবার ডাকবাক্সের প্রভাব দেখার অপেক্ষা। এই নীরব শক্তি শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- স্বর্ণের বাজারে ঐতিহাসিক ধস: ১৯৮৩ সালের পর সবচেয়ে বড় দরপতন
- আজকের সোনার বাজারদর: ২২ মার্চ ২০২৬
- আজকের সকল টাকার রেট: ২২ মার্চ ২০২৬
- ইরান ইসরাইল যুদ্ধে ফেসে যাচ্ছে বাংলাদেশ
- ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবে অনিশ্চয়তায় নতুন পে-স্কেল
- ইরানকে ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের
- ১৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- নতুন দুই প্রতিপক্ষের নাম জানাল আর্জেন্টিনা
- শতাধিক মানুষসহ ভেঙে পড়ল ব্রিজ, প্রাণ হারাল ৫ শিশু
- রিমান্ড শেষে আদালতে ফয়সাল ও আলমগীর
- এসএসসি ২০২৬: প্রবেশপত্র যেভাবে পাবেন
- ৩ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস: তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা সারা দেশে
