মানুষকে বোকা বানিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে যেসব কোম্পানি
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ই-কমার্স ও মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। আকর্ষণীয় অফার বা উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জমানো কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। হাজার হাজার গ্রাহক এসব প্রতারণার শিকার হয়ে বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
দেশের অর্থনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এবং গ্রাহকের আস্থা নষ্টকারী এমন সাতটি আলোচিত কোম্পানির একটি তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো, যাদের বিরুদ্ধে টাকা লোপাটের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে:
টাকা আত্মসাৎকারী আলোচিত ৭ প্রতিষ্ঠানের তালিকা
১. ডেসটিনি কোম্পানি: মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (MLM)। এটি ছিল বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো এবং বৃহৎ কেলেঙ্কারিগুলোর একটি।
২. ই-ভ্যালি: অনলাইন মার্কেটপ্লেস/ই-কমার্স। অবিশ্বাস্য ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাকের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নেওয়া হয়।
৩. ই-অরেঞ্জ: ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস। ই-ভ্যালির মতোই অতি লোভনীয় অফার দিয়ে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
৪. এমটিএফই (MTFE): অনলাইন ট্রেডিং। বিদেশি ডোমেইনে পরিচালিত অ্যাপভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্মটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের আড়ালে বিপুল অর্থ পাচার করে বলে অভিযোগ।
৫. ইউনিপে টু ইউ বাংলাদেশ লিমিটেড: এমএলএম (MLM)। উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়া অন্যতম আলোচিত প্রতিষ্ঠান।
৬. ফ্লাইট এক্সপার্ট: টিকিট বুকিং/ট্যুরিজম সার্ভিস। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের টিকিট ও বুকিংয়ের টাকা নিয়ে তা সময়মতো পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে।
৭. নিউই বিডি প্রাইভেট লিমিটেড: এর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন স্কিমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। |
প্রতারণার ধরন এবং আইনি পরিস্থিতি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কোম্পানিগুলো মূলত দুটি কৌশল অবলম্বন করে: হয় এমএলএম/পিরামিড স্কিম ব্যবহার করে, যেখানে নতুন গ্রাহকের টাকায় পুরোনো গ্রাহকদের লাভ দেওয়া হয়; অথবা ই-কমার্স স্কিম ব্যবহার করে, যেখানে পণ্যের দামের চেয়ে বেশি ডিসকাউন্টের লোভ দেখিয়ে অগ্রিম টাকা নেওয়া হয়।
ডেসটিনি থেকে শুরু করে ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জ এবং এমটিএফই-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এরই মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আবার কেউ কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং জটিল প্রক্রিয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা তাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে এখনও অন্ধকারে।
এই ধারাবাহিক প্রতারণার ঘটনা দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকদের মধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং নতুন ব্যবসার প্রতি চরম অনাস্থা সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষ এমন প্রতারণা রুখতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীরা।
সোহাগ/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- আজকের সোনার বাজারদর: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
- পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার; যা জানা গেল
- ৫ লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন ক্যানসারে ভুগছেন
- আজ এক ভরি ১৮, ২১, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- ফ্যামিলি কার্ড আবেদন: লাগবে যেসব কাগজপত্র
- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর আসছে টানা ১০ দিনের ছুটি
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির তালিকায় বড় পরিবর্তন
- নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো সুপারিশ
- যে দুই জেলা দিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের যাত্রা শুরু
- টানা ১০ দিনের সরকারি ছুটির সুযোগ
- কমলো এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম, জানুন নতুন দর
- এবার ঈদুল ফিতরে কত দিনের ছুটি; জেনে নিন হিসাব-নিকাশ
- দেশের বাজারে আজ এক ভরি স্বর্ণের দাম
- সংরক্ষিত নারী আসনে থাকবেন কারা, জানালেন মির্জা ফখরুল
- বিদায়বেলায় পে-স্কেল নিয়ে বড় সুখবর দিয়ে গেলেন অর্থ উপদেষ্টা
