বাসর রাতেই মারা গেল ফুলি
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাত তখন প্রায় ২টা ৪৫। ডিউটিরত ডাক্তার মাত্রই চোখের পাতায় ঘুম মেখে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছেন। এমন সময় ইমারজেন্সি থেকে ফোন। ধড়ফড় করে উঠে আসা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পা দিয়েই চোখ কপালে উঠল—সামনে এক তরুণী, শরীরের চাদর রক্তে ভেজা, মুখ ফ্যাকাসে। নতুন বউ, বোঝাই যাচ্ছে পোশাক দেখে।
নাম—ফুলি (ছদ্মনাম)। বয়স? মাত্র পনেরো।
ডাক্তার কিছু জানতে চাইতেই সদ্য বিবাহিত স্বামী চুপচাপ রুম থেকে বেরিয়ে গেল। পাশে থাকা এক মহিলা রাগে গজগজ করে উঠল, “ডাক্তার হইছেন, না বুঝলে কেমনে চলবে? সব কইতে হবে!”
গাঁয়ের বাতাসে তখনও বিয়ের গানের শব্দ ভাসছে। উৎসব, আনন্দ আর আড়ম্বরের মাঝে হারিয়ে গেছে একটা মেয়ের কথা। যৌতুকের পরিমাণে বরপক্ষ সন্তুষ্ট, কিন্তু বিয়ের কনের বয়স নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। ফুলির বাবাও মেয়েকে লাল শাড়ি পরিয়ে বিদায় দিয়ে নিশ্চিন্ত—মেয়ে তো একদিন যেতেই হবে।
ফুলি কেবলমাত্র ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়েছে। জীবনের মানে বোঝার আগেই, বাসর ঘরে বসেছে সে। কেউ জানতে চায়নি তার ইচ্ছা, মতামত। মেয়েদের তো চুপচাপ মেনে নিতে হয়—এই সমাজের নিয়মে।
সেই রাতে, ফুলির শরীর তার বর সইতে পারেনি। ভয়াবহ রকমের শারীরিক নির্যাতন, পেরিনিয়াল টিয়ার—শরীর ছিঁড়ে গেছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে বিছানা। হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। ডাক্তার দেখে আঁতকে ওঠেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক। জরুরি অপারেশন, রক্ত দরকার—সবই চলছে। ফুলির মুখ আরও বিবর্ণ, নিথর।
শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরদিন সকালেই উধাও। যেন কিছুই হয়নি। ফুলির বাবাই এখন সব দায়িত্বে। ছয়দিন পর ফুলির শরীরে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে—সেপ্টিসেমিয়া। দরকার উন্নত অ্যান্টিবায়োটিক। কিন্তু খরচ বহনের ক্ষমতা নেই বাবার। পরামর্শ দেয়া হয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার, কিন্তু সেখানেও সমস্যা—রোগীর সঙ্গে একজনকে থাকতে হবে, সংসার আছে, কাজ আছে। তাই সিদ্ধান্ত—বাসায় নিয়ে যাওয়া হোক, যা হবার হবে।
ফুলিকে বাড়ি নেয়া হয়, আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। আবারও ভর্তি, কিন্তু এবার আর ওঠা হয়নি।
ভোর বেলার শান্ত আলোয় ফুলি চিরদিনের জন্য চোখ বন্ধ করে। ‘অ্যাকিউট রেনাল ফেলিউরে’ মৃত্যু হয় তার। মৃত্যু হয় একটি কন্যাশিশুর, যার কেবলমাত্র বেড়ে ওঠার কথা ছিল।
ঢাকা মেডিকেলে ডায়ালাইসিসের জন্য পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু স্বজনদের সময় নেই। বরপক্ষ? তারা তো সেই বাসর রাতের পর থেকেই নিখোঁজ। তাদের চিন্তা নেই—একটা বউ মরলে, আরেকটা জুটে যাবে!
ফুলি একা না। প্রতিদিন কোনো না কোনো ফুলির মৃত্যু হয়—এই সমাজের অন্ধকার নিয়মের বলি হয়ে।
তবে এই গল্পগুলো মুখ বুজে রাখলে চলবে না। চক্ষুলজ্জা নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, প্রতিবাদ আর পরিবর্তনের সাহস।
আপনি চাইলে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত বা দৈনিক পত্রিকার মতো করে সাজিয়ে দিতে পারি। কেমন লাগল এই সংস্করণটা?
আশা/
আপনার জন্য নির্বাচিত নিউজ
- জুনে আংশিক কার্যকর হচ্ছে নবম পে স্কেল; দুই ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর
- জুন থেকে দুই ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে নবম পে স্কেল
- ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা, ছুটি ৬ দিন
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৫ এপ্রিল ২০২৬
- আজকের সকল টাকার রেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- আজকের সোনার বাজারদর: ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- দেশের বাজারে আজকের স্বর্ণের দাম
- সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৯ সুবিধা হ্রাস
- লাফিয়ে কমলো স্বর্ণের দাম
- পে-স্কেলের ভাগ্য নির্ধারণ হবে ১১ জুন
- রেকর্ড উচ্চতায় স্বর্ণের দাম; এক ভরি কত হল
- আজকের সকল টাকার রেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬
- আগামী ৫ দিন ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা; কমতে পারে তাপপ্রবাহ
- বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার
- সরকারি চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য বড় সুখবর
