ফোনের র্যাম কম? যেভাবে বাড়াবেন
নিজস্ব প্রতিবেদক: অ্যান্ড্রয়েড ফোনে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়ে বারবার অ্যাপ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? কখনো একটি অ্যাপ থেকে অন্যটিতে যেতে দেরি হচ্ছে, আবার কখনো আগের অ্যাপে ফিরলে সেটি নতুন করে চালু করতে হচ্ছে? ফোনের র্যাম কম থাকলে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ভার্চুয়াল র্যাম বা মেমোরি এক্সটেনশন সুবিধা কাজে আসতে পারে। তবে এই ফিচার চালু করার আগে জেনে নেওয়া দরকার, এটি কীভাবে কাজ করে এবং কোন ফোনে কতটা উপকার পাওয়া যেতে পারে।
ফোনের র্যাম বা র্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরি চলমান অ্যাপের প্রয়োজনীয় তথ্য সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করে। র্যামের জায়গা কমে গেলে অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাকগ্রাউন্ডে থাকা কিছু অ্যাপ বন্ধ করে দিতে পারে। ফলে পরে সেই অ্যাপে ফিরে গেলে সেটি আবার লোড হতে পারে।
ভার্চুয়াল র্যাম চালু থাকলে ফোনের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজের একটি অংশ অতিরিক্ত মেমোরি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর ফলে কিছু অ্যাপের তথ্য ধরে রাখতে সুবিধা হতে পারে। বিশেষ করে একাধিক অ্যাপের মধ্যে বারবার যাতায়াত করার সময় এটি কাজে আসতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, ভার্চুয়াল র্যাম প্রকৃত হার্ডওয়্যার র্যামের বিকল্প নয়। অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ সাধারণত র্যামের তুলনায় ধীরগতির হওয়ায় এই সুবিধা চালু করলেই ফোনের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
ফোনে কতটুকু র্যাম রয়েছে এবং কী ধরনের কাজ করা হয়, তার ওপর ভার্চুয়াল র্যামের উপকারিতা নির্ভর করে।
৪ বা ৬ জিবি র্যামের ফোনে: একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করলে কিংবা ব্যাকগ্রাউন্ডের অ্যাপ বারবার বন্ধ হয়ে গেলে ভার্চুয়াল র্যাম কিছুটা সুবিধা দিতে পারে।
৮ জিবি বা তার বেশি র্যামের ফোনে: সাধারণ ব্রাউজিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও হালকা কাজের ক্ষেত্রে এ সুবিধার প্রয়োজন তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে বেশি মেমোরি প্রয়োজন হয় এমন কাজের ধরন অনুযায়ী এর উপকারিতা ভিন্ন হতে পারে।
গেম খেলার সময়: ভার্চুয়াল র্যাম সব ক্ষেত্রে গেমের গতি বাড়ায় না। গেমের তথ্য ধীরগতির স্টোরেজ থেকে আনতে হলে উল্টো লোডিংয়ে সময় লাগতে পারে। তাই গেম খেলার জন্য শুধু ভার্চুয়াল র্যামের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
ফোনের ব্র্যান্ড ও মডেল অনুযায়ী ফিচারটির নাম এবং সেটিংসের অবস্থান আলাদা হতে পারে। সাধারণত নিচের পদ্ধতিতে এটি খুঁজে পাওয়া যায়।
১. ফোনের **Settings** বা সেটিংস অপশনে প্রবেশ করুন।
২. সার্চ বারে ‘RAM’, ‘Memory Extension’ অথবা ‘RAM Plus’ লিখে খুঁজুন।
৩. ফিচারটি পাওয়া গেলে সেটি খুলুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মেমোরির পরিমাণ নির্বাচন করুন।
৪. সেটিংস কার্যকর করতে ফোন রিস্টার্ট করার নির্দেশনা এলে তা অনুসরণ করুন।
স্যামসাংয়ের কিছু ফোনে ফিচারটি ‘RAM Plus’, শাওমির কিছু ফোনে ‘Memory Extension’ এবং মটোরোলার কিছু ফোনে ‘RAM Boost’ নামে পাওয়া যায়। সব মডেলে এই সুবিধা থাকে না। তাই অপশনটি খুঁজে না পেলে ফোনের নির্দিষ্ট মডেলের সেটিংস বা নির্মাতার নির্দেশিকা দেখে নেওয়া ভালো।
হ্যাঁ, এই সুবিধা চালু করলে নির্ধারিত পরিমাণ অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ ভার্চুয়াল মেমোরি হিসেবে বরাদ্দ হতে পারে। ফলে স্টোরেজের ব্যবহারযোগ্য জায়গায় প্রভাব পড়তে পারে। ফোনে আগে থেকেই জায়গা কম থাকলে সেটি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
এ ছাড়া ফোন ধীরগতির হলে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে ফেলা, অব্যবহৃত অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম সীমিত করা এবং পর্যাপ্ত স্টোরেজ খালি রাখার মতো পদক্ষেপও কাজে আসতে পারে।
ভার্চুয়াল র্যাম মূলত একাধিক অ্যাপ ব্যবহারের সময় মেমোরি ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করার একটি সুবিধা। এটি ফোনের প্রকৃত র্যাম বাড়ায় না এবং প্রসেসরের ক্ষমতাও পরিবর্তন করে না। তাই ফিচারটি চালু করার পর ফোনের কার্যক্ষমতায় পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা নিজের ব্যবহারের অভিজ্ঞতা দিয়ে যাচাই করুন। প্রয়োজন না হলে শুধু বেশি র্যাম দেখানোর জন্য স্টোরেজের জায়গা বরাদ্দ করারও দরকার নেই।
আশা/
