Hero Xtreme 160R 4V-এর নতুন মডেলে TFT ডিসপ্লে ও ৩ রাইডিং মোড
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্পোর্টি ডিজাইন, শক্তিশালী ইঞ্জিন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ২০২৬ সালের Hero Xtreme 160R 4V আপডেট করেছে ভারতের মোটরসাইকেল নির্মাতা Hero MotoCorp। নতুন সংস্করণে যুক্ত হয়েছে রঙিন TFT ডিসপ্লে, তিনটি রাইডিং মোড, ক্রুজ কন্ট্রোল এবং উন্নত নিরাপত্তা সুবিধা। মোটরসাইকেলটি Carbon ও Pro—এই দুই ভ্যারিয়েন্টে বাজারে আনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
১৬৩.২ সিসির ইঞ্জিন, USD ফ্রন্ট ফর্ক এবং ডুয়াল-চ্যানেল ABS-এর মতো ফিচারের কারণে ১৬০ সিসি স্পোর্টি মোটরসাইকেলের বাজারে মডেলটি আলোচনায় আসতে পারে। তবে বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন সংস্করণটির বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ ও দাম এখনো নিশ্চিত নয়।
নতুন TFT ডিসপ্লে ও তিনটি রাইডিং মোড
আপডেটেড Hero Xtreme 160R 4V-এর Carbon ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে মাল্টি-কালার TFT ডিসপ্লে। Hero-এর তথ্য অনুযায়ী, এতে দিন ও রাতের উপযোগী ডিসপ্লে মোড, কানেক্টিভিটি এবং ৬০টির বেশি ফিচার রয়েছে। অন্যদিকে Pro ভ্যারিয়েন্টে থাকছে মাল্টি-কালার LCD কনসোল।
মোটরসাইকেলটিতে রাইড-বাই-ওয়্যার প্রযুক্তির সঙ্গে তিনটি রাইডিং মোড দেওয়া হয়েছে—Rain, Road ও Sports। রাস্তার অবস্থা ও চালানোর ধরন অনুযায়ী থ্রটলের প্রতিক্রিয়া সামঞ্জস্য করতে এসব মোড ব্যবহার করা যাবে।
এ ছাড়া ৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার বেশি গতিতে ক্রুজ কন্ট্রোল চালু করা যায়। এতে নির্ধারিত গতি ধরে রাখতে সুবিধা হয়। Pro ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে Drag Race Timer, যার D1 মোডে ০ থেকে ৬০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে পৌঁছানোর সময় এবং D2 মোডে ৪০২ মিটার বা এক-চতুর্থাংশ মাইল অতিক্রমের সময় মাপা যায়।
স্পোর্টি ডিজাইন ও ছয়টি রঙের বিকল্প
নতুন Xtreme 160R 4V-তে রয়েছে কোণাকৃতির ট্যাংক এক্সটেনশন, কনট্রাস্ট বডি প্যানেল এবং স্পোর্টি গ্রাফিকস। লাল, ধূসর ও কালো রঙের সমন্বয়ের সঙ্গে সামনে লাল অ্যালয় হুইল এবং সোনালি রঙের USD ফ্রন্ট ফর্ক বাইকটির চেহারায় আলাদা বৈশিষ্ট্য যোগ করেছে।
সামনে রয়েছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে ওঠা Class-D LED হেডল্যাম্প এবং Hero-এর পরিচিত H-আকৃতির ডে-টাইম রানিং লাইট (DRL)। পেছনের ল্যাম্প ও টার্ন ইন্ডিকেটরেও LED প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ভাস্কর্যধর্মী সিট ও ছোট টেইল সেকশন বাইকটির স্ট্রিট-নেকেড ডিজাইনকে আরও স্পোর্টি করেছে।
Carbon ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাবে Carbon Red, Carbon Black, Carbon Grey ও Abrax Orange রঙে। Pro ভ্যারিয়েন্টের রঙের বিকল্প Pro Red ও Pro Black।
১৬৩.২ সিসির ইঞ্জিনে ১৭.১ PS শক্তি
Hero Xtreme 160R 4V-তে ব্যবহার করা হয়েছে ১৬৩.২ সিসির অয়েল-কুলড, চার-ভালভের সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। ইঞ্জিনটি ৮,৭৫০ rpm-এ সর্বোচ্চ ১৭.১ PS শক্তি এবং ৬,৫০০ rpm-এ ১৪.৬ Nm টর্ক উৎপন্ন করে।
এর সঙ্গে রয়েছে পাঁচ-গতির গিয়ারবক্স ও ওয়েট মাল্টি-প্লেট ক্লাচ। উভয় ভ্যারিয়েন্টের কার্ব ওজন ১৪৯ কেজি এবং জ্বালানি ট্যাংকের ধারণক্ষমতা ১২ লিটার।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বাইকটি ০ থেকে ৬০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে পৌঁছাতে ৪.৪ সেকেন্ড সময় নেয়। ১৬০ সিসি শ্রেণিতে দ্রুতগতির পারফরম্যান্সের বিষয়টিকেও প্রচারে গুরুত্ব দিয়েছে Hero। তবে এই ধরনের সর্বোচ্চ গতির দাবি স্বাধীন পরীক্ষার ফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ভালো।
USD ফর্ক ও ডুয়াল-চ্যানেল ABS
মোটরসাইকেলটির কাঠামোতে ব্যবহার করা হয়েছে টিউবুলার আন্ডারবোন ডায়মন্ড-টাইপ ফ্রেম। সামনে রয়েছে ৩৭ মিমি KYB আপসাইড-ডাউন (USD) ফর্ক এবং পেছনে সাত ধাপে সমন্বয়যোগ্য মনোশক সাসপেনশন।
ব্রেকিংয়ের জন্য সামনে ২৭৬ মিমি ও পেছনে ২২০ মিমির পেটাল ডিস্ক দেওয়া হয়েছে। Pro ও Carbon—দুই ভ্যারিয়েন্টেই রয়েছে ডুয়াল-চ্যানেল ABS। ১৭ ইঞ্চির অ্যালয় হুইলে সামনে ১০০/৮০ এবং পেছনে ১৩০/৭০ মাপের টিউবলেস টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ক্লাচ ও ব্রেক লিভারের অবস্থান পাঁচ ধাপে সমন্বয় করা যায়। Panic Brake Alert ফিচারটি দ্রুত ব্রেক করার সময় পেছনের যানবাহনকে সতর্ক করার জন্য সংকেত দেয়।
বাইকের মাপ ও ব্যবহারিক সুবিধা
২০২৬ Hero Xtreme 160R 4V-এর দৈর্ঘ্য ১,৯৭৭ মিমি, প্রস্থ ৭৯৩ মিমি এবং উচ্চতা ১,০৫২ মিমি। এর হুইলবেস ১,৩২৯ মিমি, সিটের উচ্চতা ৮০৫ মিমি এবং গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬৫ মিমি।
এই মাপগুলো বাইকটি চালানো, পার্কিং এবং বিভিন্ন উচ্চতার চালকের জন্য উপযোগিতা বিবেচনায় কাজে লাগতে পারে। তবে কেনার আগে নিজের উচ্চতা অনুযায়ী সিটে বসে দেখা এবং স্থানীয় রাস্তায় চালানোর অভিজ্ঞতা যাচাই করা ভালো।
Standard, Pro ও Carbon ভ্যারিয়েন্টে কী পার্থক্য?
Hero-এর ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটির Standard ভ্যারিয়েন্টে থাকবে মেকানিক্যাল থ্রটল, প্রচলিত টেলিস্কোপিক ফর্ক, দুই চাকায় ডিস্ক ব্রেক, সিঙ্গেল-চ্যানেল ABS, রঙিন LCD কনসোল এবং Panic Brake Alert।
Pro ভ্যারিয়েন্টে অতিরিক্তভাবে পাওয়া যাবে ইলেকট্রনিক থ্রটল, তিনটি রাইডিং মোড, USD ফ্রন্ট ফর্ক, ক্রুজ কন্ট্রোল ও ডুয়াল-চ্যানেল ABS।
Carbon ভ্যারিয়েন্টে Pro-এর ফিচারের সঙ্গে থাকছে TFT ডিসপ্লে, আলোকিত সুইচ, সমন্বয়যোগ্য ক্লাচ লিভার এবং রঙিন অ্যালয় হুইল। ফলে বাড়তি প্রযুক্তি ও ডিজাইন যাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁদের জন্য Carbon ভ্যারিয়েন্ট বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে।
ভারতে দাম কত, বাংলাদেশে আসবে কবে?
প্রকাশিত প্রতিবেদনে Standard ভ্যারিয়েন্টের সম্ভাব্য এক্স-শোরুম দাম ১.২৭ লাখ ভারতীয় রুপি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ভ্যারিয়েন্টটি জানুয়ারি ২০২৭-এ যুক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। Pro ভ্যারিয়েন্টের দাম ১.৩৭ লাখ এবং Carbon ভ্যারিয়েন্টের দাম ১.৪১ লাখ ভারতীয় রুপি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। Pro ও Carbon ভ্যারিয়েন্টের ডেলিভারি ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হওয়ার কথা।
এখানে দামের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি রয়েছে: প্রতিবেদনের শিরোনামে ১.২৭ লাখ রুপিকে লঞ্চ মূল্য বলা হলেও বিস্তারিত অংশে এই দামটি Standard ভ্যারিয়েন্টের জন্য উল্লেখ করা হয়েছে, যা পরে বাজারে আসার কথা। তাই প্রকাশের আগে Hero MotoCorp-এর আনুষ্ঠানিক মূল্যতালিকা দিয়ে দাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে নতুন Hero Xtreme 160R 4V-এর আনুষ্ঠানিক দাম, বাজারে আসার তারিখ এবং ভ্যারিয়েন্টের প্রাপ্যতা নিশ্চিত না হওয়ায় ভারতীয় দামকে বাংলাদেশের দাম হিসেবে ধরা ঠিক হবে না। স্থানীয় ক্রেতাদের উচিত Hero-এর বাংলাদেশি পরিবেশক বা অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে আমদানি, ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবার তথ্য যাচাই করা।
সব মিলিয়ে, TFT ডিসপ্লে, রাইডিং মোড, ক্রুজ কন্ট্রোল, USD ফর্ক ও ডুয়াল-চ্যানেল ABS-এর মতো ফিচার ২০২৬ Hero Xtreme 160R 4V-কে ১৬০ সিসি স্পোর্টি মোটরসাইকেলের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রাখতে পারে। তবে বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে স্থানীয় দাম, ওয়ারেন্টি এবং বাজারে বাইকটির বাস্তব প্রাপ্যতার ওপর।
সোহাগ/
