দেড় লাখ টাকার মধ্যে বাংলাদেশে সেরা ৭ বাইক
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল কেনার সময় ক্রেতারা সাধারণত দাম, জ্বালানি সাশ্রয়, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও আরামকে গুরুত্ব দেন। কেউ খোঁজেন অফিস বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের উপযোগী বাইক, আবার কেউ চান স্টাইলিশ ডিজাইন ও তুলনামূলক শক্তিশালী ইঞ্জিন।
বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের একাধিক মডেল থাকায় বাজেট অনুযায়ী বাইক বেছে নেওয়া সহজ নয়। তবে দেড় লাখ টাকার মধ্যে কয়েকটি কমিউটার মোটরসাইকেল বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। নিচে বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া বিভিন্ন অনলাইন মূল্যতালিকার ভিত্তিতে কয়েকটি বিকল্প তুলে ধরা হলো।
মনে রাখবেন: বাইকের দাম, ভ্যারিয়েন্ট ও শোরুমের অফার পরিবর্তিত হতে পারে। কেনার আগে অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে বর্তমান দাম নিশ্চিত করে নিন।
১. হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস: দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য
যাঁরা সাধারণ যাতায়াতের জন্য পরিচিত ধরনের কমিউটার বাইক খুঁজছেন, তাঁদের জন্য Hero Splendor Plus বিবেচনায় থাকতে পারে। এ ধরনের বাইক বেছে নেওয়ার আগে বসার আরাম, জ্বালানি খরচ, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা ও সার্ভিসিং সুবিধা যাচাই করা ভালো।
২. সুজুকি হায়াতে ইপি: সাশ্রয়ী যাতায়াতের বিকল্প
Suzuki Hayate EP কমিউটার শ্রেণির একটি বিকল্প। প্রতিদিন অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য বাইক কিনতে চাইলে এর দাম ও ব্যবহারিক সুবিধা অন্য মডেলের সঙ্গে তুলনা করে দেখতে পারেন।
৩. টিভিএস মেট্রো প্লাস: সাধারণ যাতায়াতের জন্য
TVS Metro Plus RE এমন ক্রেতাদের নজরে আসতে পারে, যাঁরা প্রচলিত কমিউটার ডিজাইনের মোটরসাইকেল চান। কেনার আগে ব্রেকিং ব্যবস্থা, আসনের উচ্চতা, চালানোর স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিজের এলাকায় সার্ভিস সেন্টারের সুবিধা যাচাই করুন।
৪. হোন্ডা লিভো: পরিচিত ব্র্যান্ডের কমিউটার বাইক
Honda Livo Disc দেড় লাখ টাকার আশপাশের বাজেটে বিবেচনা করার মতো একটি মডেল। বাইকটি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টের দাম, ব্রেকিং ফিচার, জ্বালানি সাশ্রয় এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের খরচ সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।
৫. সুজুকি জিএসএক্স ১২৫: ১২৫ সিসি শ্রেণিতে বিকল্প
Suzuki GSX 125 তাঁদের জন্য বিবেচ্য হতে পারে, যাঁরা ১২৫ সিসি শ্রেণির মোটরসাইকেল খুঁজছেন। শুধু বাইকের দাম নয়, বসার ভঙ্গি, ওজন, যন্ত্রাংশের খরচ এবং দৈনন্দিন রাস্তায় চালানোর সুবিধাও তুলনা করে দেখা জরুরি।
৬. টিভিএস ম্যাক্স ১২৫: ব্যবহারিক দিক বিবেচনায়
TVS Max 125 এমন ক্রেতাদের তালিকায় থাকতে পারে, যাঁরা বাজেটের মধ্যে একটি কমিউটার বাইক খুঁজছেন। কেনার আগে বর্তমান মডেল ও ভ্যারিয়েন্টের প্রাপ্যতা, ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে শোরুম থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
৭. টিভিএস স্ট্রাইকার ১২৫: বাজেটের মধ্যে আরেকটি পছন্দ
TVS Stryker 125-ও দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি বাজেটে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বর্তমান দাম, মাইলেজসংক্রান্ত বাস্তব ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ যাচাই করা ভালো।
বাইক কেনার আগে যে বিষয়গুলো দেখবেন
মোটরসাইকেল কেনার সময় শুধু প্রাথমিক দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। কয়েকটি বিষয় তুলনা করলে নিজের প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই বাইক বেছে নেওয়া সহজ হবে।
-
জ্বালানি খরচ: প্রতিদিন কত কিলোমিটার চলবেন, তা হিসাব করে সম্ভাব্য খরচ বুঝে নিন।
-
রক্ষণাবেক্ষণ: নিয়মিত সার্ভিসিং, ইঞ্জিন অয়েল, টায়ার ও যন্ত্রাংশের খরচ জেনে নিন।
-
নিরাপত্তা: ব্রেকের ধরন, টায়ার এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ফিচার যাচাই করুন।
-
আরাম: সম্ভব হলে টেস্ট রাইড নিয়ে বসার ভঙ্গি ও চালানোর স্বাচ্ছন্দ্য দেখুন।
-
কাগজপত্র ও ওয়ারেন্টি: নিবন্ধনসংক্রান্ত খরচ, ওয়ারেন্টির শর্ত এবং বিক্রয়োত্তর সেবার তথ্য নিশ্চিত করুন।
দেড় লাখ টাকার মধ্যে বাইক কেনার ক্ষেত্রে সবার জন্য একই মডেল সেরা হবে না। কারও কাছে জ্বালানি সাশ্রয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আবার কারও কাছে আরাম, ব্র্যান্ডের সার্ভিসিং সুবিধা বা ডিজাইন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজের বাজেট ও দৈনন্দিন ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী কয়েকটি মডেল তুলনা করে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।
সোহাগ/
