Hero Xtreme 250R ও 160R 4V-এর দাম ও নতুন ফিচার
নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন TFT ডিসপ্লে, ক্রুজ কন্ট্রোল, রাইডিং মোড ও স্মার্ট কানেক্টিভিটিসহ আপডেট হয়েছে Hero Xtreme 250R এবং Xtreme 160R 4V। নতুন ফিচারের পাশাপাশি এসেছে একাধিক রঙের বিকল্পও। ভারতে নতুন মডেলগুলোর দাম শুরু হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার রুপি থেকে। তবে আপডেটেড সংস্করণগুলোর বাংলাদেশে আসা ও দাম এখনো নিশ্চিত নয়।
স্পোর্টি লুকের মোটরসাইকেলে আধুনিক প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ছে। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে Xtreme সিরিজের দুটি বাইকে নতুন ফিচার যুক্ত করেছে Hero MotoCorp। এর মধ্যে Xtreme 250R-এ রয়েছে TFT ডিসপ্লে, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল ও ক্রুজ কন্ট্রোলের মতো সুবিধা। অন্যদিকে, Xtreme 160R 4V-কে তিনটি ভ্যারিয়েন্টে ভাগ করা হয়েছে—Standard, Pro ও Carbon।
বাংলাদেশে Hero Xtreme 250R ও 160R 4V-এর দাম
বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় বাজারদর। ভারতে ঘোষিত দাম এবং বাংলাদেশের বিক্রয়মূল্য এক নয়। আমদানি, শুল্ক, কর, পরিবহন ও বিক্রেতার মূল্য নির্ধারণের কারণে দামের পার্থক্য হতে পারে।
হিরোর বাংলাদেশি ওয়েবসাইটে Xtreme 160R 4V-এর দাম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, BikeBD-এর বাংলাদেশি মূল্যতালিকায় Xtreme 250R-এর দাম প্রায় ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৯ টাকা দেখানো হয়েছে। তবে Xtreme 250R-এর এই দাম নতুন আপডেটেড সংস্করণের নিশ্চিত অফিসিয়াল মূল্য নয়।
| মোটরসাইকেল | বাংলাদেশে দাম |
|---|---|
| Hero Xtreme 160R 4V | ২,৫০,০০০ টাকা |
| Hero Xtreme 250R | প্রায় ৩,৩৯,৪৯৯ টাকা* |
ভারতে নতুন মডেলগুলোর দাম কত?
ভারতে আপডেটেড মডেলগুলোর ঘোষিত এক্স-শোরুম মূল্য নিচে দেওয়া হলো।
| মডেল | ভারতে দাম |
|---|---|
| Hero Xtreme 250R | ১,৯৮,০০০ রুপি |
| Xtreme 160R 4V Carbon | ১,৪১,০০০ রুপি |
| Xtreme 160R 4V Pro | ১,৩৭,০০০ রুপি |
| Xtreme 160R 4V Standard | ১,২৭,০০০ রুপি |
এই দামগুলো ভারতের এক্স-শোরুম মূল্য। এগুলোকে বাংলাদেশের দাম হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
Hero Xtreme 250R-এ কী কী নতুন ফিচার?
আপডেটেড Xtreme 250R-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো নতুন TFT ইন্সট্রুমেন্ট কনসোল। এতে Bluetooth কানেক্টিভিটি ও টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন সুবিধা রয়েছে। ফলে রাইডের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য দেখা এবং গন্তব্যের দিকনির্দেশনা পাওয়া সহজ হতে পারে।
এ ছাড়া বাইকটিতে যুক্ত হয়েছে—
-
ট্র্যাকশন কন্ট্রোল
-
Rain, Road, Sport ও Track—চারটি রাইডিং মোড
-
ক্রুজ কন্ট্রোল
-
রাইড-বাই-ওয়্যার প্রযুক্তি
-
দুই দিকেই গিয়ার পরিবর্তন করা যায় এমন কুইকশিফটার
-
টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেম (TPMS)
টায়ারের চাপ পর্যবেক্ষণের সুবিধাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে এসব ফিচারের কার্যকারিতা ও ব্যবহারিক সুবিধা বাস্তব রাইডিং অভিজ্ঞতার ওপরও নির্ভর করবে।
২৫০ সিসি ইঞ্জিনে কত শক্তি?
Hero Xtreme 250R-এ রয়েছে ২৪৯ সিসির সিঙ্গেল-সিলিন্ডার, লিকুইড-কুলড ইঞ্জিন। আপডেটেড স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, ইঞ্জিনটি ৯,২৫০ আরপিএমে সর্বোচ্চ ৩০ PS শক্তি এবং ৭,৫০০ আরপিএমে ২৫.৩ Nm টর্ক উৎপন্ন করে।
আগের সংস্করণের তুলনায় টর্ক সামান্য বেড়েছে। পেছনে নতুন Ceat SportRad রেডিয়াল টায়ারও যুক্ত করা হয়েছে। বাইকটির নতুন রঙের মধ্যে রয়েছে Carbon Red, Carbon Black ও Carbon White।
Hero Xtreme 160R 4V এখন তিন ভ্যারিয়েন্টে
Xtreme 160R 4V-কে Standard, Pro ও Carbon—এই তিনটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ভ্যারিয়েন্টভেদে ডিসপ্লে, সাসপেনশন, থ্রটল প্রযুক্তি, ABS এবং রাইডিং ফিচারে পার্থক্য রয়েছে।
Carbon ভ্যারিয়েন্টে TFT ডিসপ্লে
টপ-স্পেক Carbon সংস্করণে রয়েছে TFT ডিসপ্লে, Bluetooth কানেক্টিভিটি ও টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন। পাশাপাশি এতে ক্রুজ কন্ট্রোল, Rain, Road ও Sport—তিনটি রাইডিং মোড এবং ড্র্যাগ টাইমার দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও রয়েছে ইলেকট্রনিক থ্রটল বডি, USD ফ্রন্ট ফর্ক, অ্যাডজাস্টেবল ক্লাচ লিভার ও ডুয়াল-চ্যানেল ABS।
Pro ভ্যারিয়েন্টে কী থাকছে?
Pro সংস্করণেও রয়েছে ইলেকট্রনিক থ্রটল, তিনটি রাইডিং মোড, ক্রুজ কন্ট্রোল, USD ফ্রন্ট ফর্ক এবং ডুয়াল-চ্যানেল ABS। তবে এতে Carbon সংস্করণের পরিবর্তে LCD কনসোল ব্যবহার করা হয়েছে।
Standard ভ্যারিয়েন্টে কী পার্থক্য?
Standard সংস্করণে রয়েছে LCD ডিসপ্লে, সাধারণ থ্রটল বডি, টেলিস্কোপিক ফ্রন্ট ফর্ক এবং সিঙ্গেল-চ্যানেল ABS। এতে ক্রুজ কন্ট্রোল বা রাইডিং মোডের সুবিধা নেই বলে প্রকাশিত স্পেসিফিকেশনে উল্লেখ করা হয়েছে।
Xtreme 160R 4V-এর ইঞ্জিন ও নতুন রঙ
বাইকটিতে আগের ১৬৩ সিসি এয়ার-অয়েল-কুলড ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। আপডেটেড স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, এটি ৮,৭৫০ আরপিএমে সর্বোচ্চ ১৭.১ PS শক্তি এবং ৬,৫০০ আরপিএমে ১৪.৬ Nm টর্ক উৎপন্ন করে।
নতুন LED হেডলাইট, H-আকৃতির LED DRL এবং পরিবর্তিত ফুয়েল ট্যাংক বাইকটির চেহারায় নতুনত্ব এনেছে। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী মোট আটটি রঙের বিকল্প রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
Carbon সংস্করণে Carbon Red, Carbon Grey, Carbon Black ও Abrax Orange; Pro সংস্করণে Pro Red ও Pro Black; আর Standard সংস্করণে Firestorm Red ও Pearl Black রঙ রয়েছে।
বাংলাদেশে কবে পাওয়া যাবে?
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে আপডেটেড Xtreme 250R ও Xtreme 160R 4V-এর বুকিং শুরু হয়েছে এবং ডেলিভারি ১ নভেম্বর থেকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে Xtreme 160R 4V Standard সংস্করণের ডেলিভারি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে আপডেটেড সংস্করণগুলো কবে আসবে, স্থানীয় দাম কত হবে এবং কোন কোন ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাবে—এসব বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে বাইক কেনার পরিকল্পনা থাকলে কাছের অনুমোদিত Hero শোরুম থেকে বর্তমান দাম, নতুন সংস্করণের প্রাপ্যতা ও ওয়ারেন্টির তথ্য জেনে নেওয়া ভালো।
সব মিলিয়ে, নতুন TFT ডিসপ্লে, ক্রুজ কন্ট্রোল, রাইডিং মোড এবং TPMS-এর মতো ফিচার Hero Xtreme সিরিজকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করেছে। তবে বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় মূল্য ও নতুন মডেলের আনুষ্ঠানিক আগমনের তথ্য নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
আশা/
