Huawei nova 16s ও Pro-এর দাম, স্পেসিফিকেশন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ৭০০০mAh ব্যাটারি, ১০০W ফাস্ট চার্জিং এবং উন্নত ক্যামেরা নিয়ে আলোচনায় এসেছে Huawei nova 16s সিরিজ। nova 16s ও nova 16s Pro—এই দুই স্মার্টফোনের স্পেসিফিকেশন প্রকাশ করেছে হুয়াওয়ের ফিলিপাইনসের ওয়েবসাইট। তবে বাংলাদেশে ফোন দুটির আনুষ্ঠানিক দাম ও বাজারে আসার তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়।
স্মার্টফোনের ক্যামেরা, ডিসপ্লে ও ব্যাটারিকে গুরুত্ব দেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন দুটি ফোন নিয়ে এসেছে হুয়াওয়ে। সিরিজের সাধারণ মডেল nova 16s-এ রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, আর nova 16s Pro মডেলে দেওয়া হয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা।
দুটি ফোনেই রয়েছে ১২ জিবি র্যাম, ২৫৬ জিবি স্টোরেজ, ৭০০০mAh ব্যাটারি এবং ১০০W তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং। তবে প্রসেসর, ডিসপ্লে ও ক্যামেরা ব্যবস্থায় রয়েছে পার্থক্য।
বাংলাদেশে Huawei nova 16s ও nova 16s Pro-এর দাম কত?
বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য ফোন দুটির দাম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্থানীয় স্মার্টফোনবিষয়ক ওয়েবসাইট MobileDokan-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য বাজারদর হিসেবে Huawei nova 16s-এর দাম প্রায় ৯০,০০০ টাকা এবং nova 16s Pro-এর দাম প্রায় ১,১০,০০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই দাম হুয়াওয়ের ঘোষিত বাংলাদেশি অফিসিয়াল মূল্য নয়। প্রকৃত দাম, বিক্রির সময় এবং ওয়ারেন্টির তথ্য স্থানীয় বাজারে ফোন দুটি আসার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
| মডেল | সম্ভাব্য দাম |
|---|---|
| Huawei nova 16s (১২/২৫৬ জিবি) | প্রায় ৯০,০০০ টাকা |
| Huawei nova 16s Pro (১২/২৫৬ জিবি) | প্রায় ১,১০,০০০ টাকা |
মনে রাখবেন: এগুলো তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সম্ভাব্য দাম। বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক মূল্য ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই দামকে নিশ্চিত বা অফিসিয়াল মূল্য হিসেবে ধরা উচিত নয়।
Huawei nova 16s-এর স্পেসিফিকেশন
সিরিজের সাধারণ মডেল nova 16s-এ রয়েছে ৬.৬৮ ইঞ্চির OLED ডিসপ্লে। এর রেজল্যুশন ২৮০০ × ১২৮০ পিক্সেল এবং রিফ্রেশ রেট সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ। ফলে সমর্থিত কনটেন্টে স্ক্রলিং ও অ্যানিমেশন আরও মসৃণ দেখানোর কথা।
ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে Kirin 8020 অক্টা-কোর প্রসেসর। সঙ্গে রয়েছে ১২ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ।
ক্যামেরার ক্ষেত্রে পেছনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান সেন্সর এবং অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS) সুবিধাসহ ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা। পাশাপাশি রয়েছে True-to-Colour Camera। ফোনটি ৩.৩ গুণ অপটিক্যাল জুম এবং সর্বোচ্চ ১০০ গুণ ডিজিটাল জুম সমর্থন করে বলে প্রকাশিত স্পেসিফিকেশনে উল্লেখ করা হয়েছে। সামনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।
ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ৭০০০mAh এবং চার্জিং ক্ষমতা ১০০W। ফোনটির পুরুত্ব ৭.৩ মিলিমিটার ও ওজন প্রায় ১৯৯ গ্রাম।
Huawei nova 16s Pro-তে ২০০MP ক্যামেরা
সিরিজের বেশি ফিচারসমৃদ্ধ মডেল nova 16s Pro। এতে রয়েছে ৬.৮৪ ইঞ্চির LTPO OLED ডিসপ্লে, যার রিফ্রেশ রেট ১ থেকে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত পরিবর্তন হতে পারে। ডিসপ্লের রেজল্যুশন ২৮৫৬ × ১৩২০ পিক্সেল।
ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে Kirin 9010S অক্টা-কোর প্রসেসর। সাধারণ মডেলের মতো এতে রয়েছে ১২ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ।
ক্যামেরা ব্যবস্থায় ফোনটির বিশেষত্ব হলো ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা। এতে OIS সুবিধাও রয়েছে। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে OIS-সহ ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা। সামনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা ও True-to-Colour Camera।
Pro মডেলে ৩.৭ গুণ অপটিক্যাল জুম এবং সর্বোচ্চ ১০০ গুণ ডিজিটাল জুম সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ডিজিটাল জুমের সর্বোচ্চ মাত্রায় ছবির মান কমতে পারে; তাই বাস্তব ক্যামেরা পারফরম্যান্স পরীক্ষার ফলের ওপরও নির্ভর করবে।
ফোনটির ব্যাটারিও ৭০০০mAh এবং চার্জিং ক্ষমতা ১০০W। এর পুরুত্ব ৭.১ মিলিমিটার এবং ওজন প্রায় ২১৮ গ্রাম।
দুই ফোনেই ৭০০০mAh ব্যাটারি ও ১০০W চার্জিং
দুটি ফোনেরই ব্যাটারির সাধারণ ধারণক্ষমতা ৭০০০mAh। হুয়াওয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এগুলোতে ১০০W HUAWEI SuperCharge Turbo প্রযুক্তি রয়েছে।
তবে ব্যাটারি কতক্ষণ চলবে, তা নির্ভর করবে ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা, নেটওয়ার্ক, গেমিং, ক্যামেরা ব্যবহার এবং অন্যান্য কাজের ওপর। একইভাবে, সর্বোচ্চ চার্জিং গতি পেতে উপযুক্ত চার্জার ও ব্যবহারের শর্ত প্রয়োজন হতে পারে।
সংযোগের ক্ষেত্রে দুটি মডেলেই Bluetooth 6.0, Wi-Fi 7, USB Type-C 2.0 এবং ডুয়াল সিম সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্পেসিফিকেশনে ৫জি নেটওয়ার্ক সমর্থনের কথাও রয়েছে। তবে বাংলাদেশে ব্যবহার করার আগে স্থানীয় অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যান্ডের সঙ্গে ফোনের সামঞ্জস্য যাচাই করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে কবে পাওয়া যাবে?
হুয়াওয়ের ফিলিপাইনসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে nova 16s ও nova 16s Pro-এর পণ্য ও স্পেসিফিকেশন পেজ রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এই দুই ফোনের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ, বিক্রির তারিখ, ওয়ারেন্টি এবং চূড়ান্ত দাম এখনো নিশ্চিত নয়।
বাংলাদেশে ফোন দুটি আসলে ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে অফিসিয়াল ও অনানুষ্ঠানিক দামের পার্থক্য, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং স্থানীয় নেটওয়ার্ক সমর্থন। বিশেষ করে সম্ভাব্য ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার দামের ক্ষেত্রে কেনার আগে নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে মূল্য ও ওয়ারেন্টি যাচাই করা উচিত।
সব মিলিয়ে, বড় ব্যাটারি, দ্রুত চার্জিং ও উন্নত ক্যামেরার সমন্বয়ে nova 16s সিরিজ নজর কাড়তে পারে। তবে বাংলাদেশে ফোন দুটির প্রকৃত মূল্য ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করাই ভালো।
আশা/
